Jagonews24
ক্যাম্পাসের আড্ডা কিংবা লাইব্রেরির নিরিবিলি পরিবেশের বাইরেও অনেক শিক্ষার্থীর আরেকটা জীবন থাকে। সেই জীবনটা ছুটে চলার, ঘাম ঝরানোর আর উপার্জনের। বর্তমান সময়ে পড়াশোনার খরচ মেটাতে বা স্বাবলম্বী হতে বহু শিক্ষার্থীকে বেছে নিতে হচ্ছে টিউশনি কিংবা খণ্ডকালীন চাকরির পথ। কিন্তু কাজ আর পড়াশোনা একসঙ্গে সামলানোর এই লড়াইটা কতটা কঠিন? তারা যে শ্রম দিচ্ছেন, তার ন্যায্য মূল্যায়ন কি তারা পাচ্ছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই কয়েকজন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাদের বাস্তব জীবনের গল্প জানাচ্ছেন তানজিদ শুভ্র। জীবনযুদ্ধ ও শ্রেণিকক্ষ যেন এক অসম লড়াই তারেক আল মুনতাছির, কক্সবাজার সরকারি কলেজ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি বা খণ্ডকালীন চাকরি করা এখন অনিবার্য প্রয়াস হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে দিনের অর্ধেকের বেশি সময় ব্যয় করতে হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এরপর টিউশন বা চাকরিতে। আবার অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার তো আছেই। এরপর যখন ক্লান্ত শরীরে বিশ্রামের কথা আসে, ঠিক তখনই শুরু হয় টিউশনি বা পার্টটাইম কাজের দৌড়ঝাঁপ। এই নিরন্তর ছোটাছুটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেলফ স্টাডির। দেখা যায়, কাজের চাপে পড়ার টেবিলে বসার শক্তিটুকুও অবশিষ্ট থাকে না। পরীক্ষার মৌসুমে এই দ্বিমুখী চাপ অনেক সময় মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে চাকরি দাতার চাহিদা পূরণ, অন্যদিকে মেধা তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রাখা কষ্ট হয়ে যায়। আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের শ্রমকে প্রায়শই সস্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। একজন শিক্ষার্থী একটি টিউশনি বা পার্টটাইম জবে যে পরিমাণ সময়, নিষ্ঠা ও মেধা ব্যয় করেন, প্রাপ্ত পারিশ্রমিক তার তুলনায় অতি সামান্য। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে যাতায়াত ভাড়া আর ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় মিটিয়ে নিজের শিক্ষা উপকরণের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় অনেককেই। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। এই প্রতিকূল লড়াই শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীলতা শেখায়। বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জটিলতা, সময়নিষ্ঠা এবং মানুষের সাথে যোগাযোগের যে অভিজ্ঞতা এখান থেকে অর্জিত হয়, তা কোনো পাঠ্যবই দিতে পারে না। শিক্ষার্থীদের এই লড়াইকে ব্যক্তিগত সংকট হিসেবে না দেখে সামাজিক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পার্টটাইম কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং একটি সুনির্দিষ্ট পারিশ্রমিক কাঠামো নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও সম্মানই পারে একজন শিক্ষার্থীকে আগামীর দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। শিক্ষার্থীদের না বলা আর্তনাদ তৈয়বা খানম, চট্টগ্রাম কলেজ আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি কিংবা পার্ট টাইম চাকরি করে থাকি নিজের বাড়তি খরচের জোগান দিতে। বর্তমান বিশ্ববাজারে দৃষ্টি দিলে লক্ষণীয় যে, কাজের তুলনায় কাজ প্রত্যাশীর সংখ্যা অত্যধিক। তার দরুন আমরা নিম্ন বেতনেও নিজেদের শ্রম ও সময় ব্যয় করি, সেটা হোক টিউশনি কিংবা পার্ট টাইম চাকরি। এটা চরম বাস্তবতা যে, বেকার থাকার ভয় আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। দিনশেষে বাজার ব্যবস্থার চড়া মূল্যের কাছে আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। টিউশনি করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়ে থাকে নিজের পড়াশোনায়। পড়াশোনা ও টিউশনের মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষায় সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হয়ে থাকে নিজের যত্ন। খাওয়া, ঘুম ও নিজের পরিচর্যা করার অনিয়মের ধকল যায় শরীরের প্রতি। এভাবেই ভবিষ্যৎ বুননের তাগিদে আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের ক্ষয় করছি। কিন্তু আদৌ আমরা তার প্রাপ্তি পাচ্ছি কতটুকু? দায়িত্বের বেড়ি টানার মাঝে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের মানুষ হিসাবে মূল্যায়ন করা হয় না। অন্য আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো আমাদেরও রোগ-শোক ও জীবনের ছন্দপতন হতে পারে। এতটুকু ছাড় অনেক ক্ষেত্রে আমরা পাই না। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এত কিছু করার মাঝেও যেন দিনশেষে প্রত্যাশা থাকে পরিবারের হাসিটুকু ও আশপাশের মানুষের ভালোবাসা। দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমানে টিউশনি ছড়াছড়ি হওয়ায় আমাদের আন্তরিক পরিশ্রমের মূল্যায়ন সব ক্ষেত্রে গৃহীত হয় না। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যকার হৃদ্যতার সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। এক্ষেত্রে যারা বাইরের এলাকা থেকে অন্যত্র পড়াতে যান তাদের ভোগান্তি আরও শোচনীয়। এভাবেই আমরা নীরবে কাঁদি যার শব্দ শোনা হয় না। দ্বৈত দায়িত্বে চাকরিজীবী শিক্ষার্থীর দিনলিপি সাইমা হাসান, স্নাতক শিক্ষার্থী ও সহকারী শিক্ষক, পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, চট্টগ্রাম বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করছেন। কেউ পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য, কেউ নিজের খরচ চালাতে, আবার কেউবা ভবিষ্যতের অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই, গ্রাজুয়েশন শেষ করার আগেই অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে আমি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছি। তবে পড়াশোনা আর কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটির মুখোমুখি হতে হয় তা হলো সময় ব্যবস্থাপনা। সকাল হতে দুপুর অবধি স্কুলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ক্লাসে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আবার, প্রয়োজনীয় ছুটি নেওয়াও সবসময় সম্ভব হয় না। বাসায় ফিরেও নানা পেপারওয়ার্ক এবং ব্যক্তিগত পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্টের চাপ থাকে। ফলে বিশ্রামের সময় প্রায় থাকে না, যা শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ায়। চাকরিজীবী শিক্ষার্থীরা প্রায়ই সামাজিক জীবন থেকে দূরে সরে যায়, কেননা পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করে। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত শখ পূরণ করার সুযোগ কমে যায়। এছাড়া পরিবার ও কর্মক্ষেত্র উভয় দিক থেকেই প্রত্যাশার চাপ শিক্ষার্থীদের এক অদৃশ্য মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে রাখে। তবে এই সংগ্রামের মাঝেও রয়েছে ইতিবাচক দিক। চাকরিজীবী শিক্ষার্থীরা অল্প বয়সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ ও সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা অর্জন করে। ফলে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর তাদের কর্মজীবনে প্রবেশ তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়। পারিশ্রমিক সবসময় শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন না হলেও, এটি আত্মনির্ভরতার প্রথম ধাপ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তথাকথিত পার্টটাইম চাকরি! বাঁধন বৈষ্ণব, সরকারি তিতুমীর কলেজ উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে নীড় ছেড়ে আসা প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্নে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে হাজারো প্রত্যাশা, নতুন পরিবেশ, নতুন বিদ্যাপীঠে জীবনের রঙিন সময়গুলো পার করার অফুরন্ত ইচ্ছেশক্তি। নিজেকে নতুনভাবে জানার এক জ্ঞান পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ লাভ হয় জীবনের এই সোনালি মুহূর্তে। উন্মোচিত হয় ব্যক্তিজীবন, পরিবার, সমাজ আর রাষ্ট্রকে নিয়ে ভাবার দৃঢ় চেতনা। বইয়ের সাদা-কালো অক্ষরগুলো নতুনভাবে তাদেরকে উজ্জীবিত করে তুলে সংকল্পে বলীয়ান হওয়ার। তবে বাস্তবতা প্রায়ই নির্মমতার হাতছানি নিয়ে আসে তাদের জীবনে, যখন তারা নিজেদের খরচ চালাতে গিয়ে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায় কোনো একটি খণ্ডকালীন চাকুরির প্রত্যাশায়। যে বয়সে কলম দিয়ে তাদের সোনালি ভবিষ্যৎ গড়ার সময়, সে সময়টা কেটে যাচ্ছে কোনো কোম্পানি, শপিংমল কিংবা কল সেন্টারে গ্রাহক সামলাতে সামলাতে। বলছি আমাদের দেশের তথাকথিত পার্টটাইম চাকরির ক্ষেত্রগুলো নিয়ে, যেখানে নামমাত্র বেতন দিয়ে তথাকথিত পার্টটাইম জবের নামে দৈনিক ৮-১৪ ঘণ্টা দেশের সম্ভাবনাময় তরুণদেরকে ব্যবহার করছে দেশের তথাকথিত পার্টটাইম চাকরির দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। দীর্ঘ সময় টানা ডিউটি শেষে ক্লান্ত শরীরে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পড়ার টেবিলে মন বসানো দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। যার দরুন পড়ার টেবিল থেকে দূরত্ব বাড়তেই থাকে শিক্ষার্থীদের। নীরবে এভাবেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা থেকে হাজারো শিক্ষার্থী। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক প্রত্যাশা, আর্থিক খরচ সামলানো আর একাডেমিক রেজাল্ট এসবের জাঁতাকলে তাদের মধ্যে কেউ হয়ত চারিদিকে এত চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়ে বেছে নিচ্ছে আত্মহননের পথ। তাই মননশীল তারুণ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধার বিকাশে ও এসব সমস্যা নিরসনে সরকারের উচিত পার্টটাইম নীতিমালা প্রণয়ন করা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা, ক্যাম্পাসভিত্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরি করাও হতে পারে এসব সমস্যার বাস্তবমুখী সমাধান। কেবল আয়ের উৎস নয়, এক অনন্য সুযোগ উম্মে সালমা, চট্টগ্রাম কলেজ শিক্ষকতা সবচেয়ে সম্মানজনক পেশাগুলোর একটি; হোক সেটি গৃহশিক্ষকতা। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনির চাপ সামলানো বেশ চ্যালেঞ্জিং। মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে টিউশনি করা এক প্রকার অনিবার্য হয়ে পড়ে। তবে এই কঠিন চাপের মাঝেও অনেকে সফল হচ্ছেন। দু’দিকের ভারসাম্য সুন্দরভাবে বজায় রাখাই একজন টিউটরের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমি মনে করি, টিউশনিকে পড়াশোনারই একটি অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। এমন টিউশনি বেছে নেওয়া উচিত যা নিজের প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হয়। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের আমরা যা পড়াই, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির রসদ। টিউশনির পারিশ্রমিক মানে কেবল মোটা অঙ্কের টাকা নয়; সঠিক পারিশ্রমিক হলো শিক্ষক ও অভিভাবকের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং শ্রমের যথাযথ সম্মান। এক্ষেত্রে টিউটরের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পারিশ্রমিক মূল্যায়ন করা উচিত। অভিভাবকদেরও উচিত শিক্ষার্থী কতক্ষণ পড়ালো তার চেয়ে সে কতটুকু শিখতে পারলো, সেদিকে বেশি খেয়াল রাখা। টিউশনি কেবল আয়ের উৎস নয়, বরং এটি আগামী প্রজন্মকে নিজ হাতে গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ। পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা এক কঠিন লড়াই মোঃ সাগর মিয়া, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস কর্মী, ঢাকা ইপিজেড বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি বা খণ্ডকালীন চাকরি করা একপ্রকার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক চাপ সামলানো, পরিবারকে সহায়তা করা এবং নিজস্ব খরচ মেটানোর তাগিদে তারা এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। এটি শুধু কোনো সম্ভাবনা নয়, বরং আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতা। পড়াশোনা এবং কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করার ফলে শারীরিক ও মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং বিশ্রামের অভাবে স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব কাঁধে থাকলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। ফলে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবে এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। কর্মজীবনের এই অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থীকে দারুণভাবে বাস্তবমুখী করে তোলে। সে বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা অর্জন করে, যা তার আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। কিন্তু সত্যি বলতে, পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা মোটেও সহজ নয়। সামান্য ভুল হলেও চাকরি হারানোর একটা প্রচ্ছন্ন আশঙ্কা সব সময় কাজ করে। এছাড়া ছোটখাটো ভুলের জন্য অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে অপমান বা কঠোর কথাও শুনতে হয়। সবচেয়ে বড় আক্ষেপের জায়গা হলো, শিক্ষার্থীর শ্রম ও সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন খুব একটা হয় না। ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের কাজের স্পৃহা কমতে থাকে। অথচ শিক্ষার মান ও সম্মান রক্ষার জন্য এই শ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। আমি মনে করি, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকলে লড়াইয়ের এই পথ অনেকটাই সহজ হয়ে ওঠে। আত্মনির্ভরশীলতার তৃপ্তি বনাম পারিশ্রমিকের আক্ষেপ মেহেদী হাসান জয়, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা এবং খণ্ডকালীন কাজ একসঙ্গে সামলানো সত্যিই একটি কঠিন বাস্তবতা। আমি বর্তমানে একটি ফার্মাসিউটিক্যালসে পার্ট-টাইম চাকরি করি, যেখানে মেশিন অপারেশন ও ডকুমেন্টেশন দুই ধরনের দায়িত্বই পালন করতে হয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময় ব্যবস্থাপনা। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা এসবের চাপের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ করা অনেক সময় মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি তৈরি করে। অনেক দিন এমন যায়, যখন নিজের জন্য আলাদা করে সময় রাখা সম্ভব হয় না, এমনকি পর্যাপ্ত বিশ্রামও পাওয়া যায় না। তবে এই অভিজ্ঞতা আমাকে দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা শিখিয়েছে, যা শুধু বই পড়ে শেখা সম্ভব নয়। পারিশ্রমিকের বিষয়ে বলতে গেলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের কাজের মূল্যায়ন শ্রম ও সময়ের তুলনায় পুরোপুরি সঠিক মনে হয় না। কাজের চাপ ও দায়িত্বের তুলনায় পারিশ্রমিক কিছুটা সীমিত। তবুও, নিজের খরচ নিজে চালানোর আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের ওপর চাপ কমানোর তৃপ্তি এই সীমাবদ্ধতাকে অনেকটাই সহনীয় করে তোলে। সব মিলিয়ে, এটি একটি সংগ্রামের পথ, যা একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য আরও দৃঢ় ও প্রস্তুত করে তোলে। প্রতিকূলতার মাঝে নিজেকে প্রস্তুত করার গল্প হুমাইরা খানম জেরীন, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ উচ্চশিক্ষার পথে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজ কেবল আয়ের মাধ্যম নয়, বরং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ সামলানো মোটেও সহজ নয়। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার চাপের মধ্যে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনাই সেখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কাজের চাপে অনেক সময় পড়াশোনায় মনোযোগ বিঘ্নিত হয়, আবার পড়াশোনার চাপে কাজে শতভাগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই দ্বিমুখী চাপে মানসিক অবসাদ, শারীরিক ক্লান্তি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করা খুব স্বাভাবিক। তবে আমি মনে করি, এই কঠিন পথই শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের বড় শিক্ষা দেয়। এটি আমাদের ভেতর দায়িত্ববোধ, ধৈর্য, আত্মসম্মান এবং লড়াই করার শক্তি তৈরি করে, যা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার মজবুত ভিত্তি। নিজের উপার্জনে চলার মধ্যে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি থাকে, যা আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই শিক্ষার্থীদের শ্রম ও সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। দীর্ঘ সময় কাজ করেও প্রাপ্ত সম্মানী অনেক সময় পরিশ্রমের তুলনায় কম থাকে। তবুও কেবল স্বপ্ন আর পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাই। কারণ এই লড়াই শুধু অর্থ উপার্জনের নয়; এটি প্রতিকূলতার মাঝেও নিজেকে গড়ে তোলার এক সাহসী গল্প। আরও পড়ুনপহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ: ঐতিহ্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্তের পকেটতারুণ্যের ভাবনায় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস কেএসকে
Go to News Site