Somoy TV
বাংলাদেশের বেশকিছু প্রত্ননিদর্শন ১৯ বছর আগে প্রদর্শনীর জন্য ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছিল। পরে এসব নিদর্শন আসল অবস্থায় ফেরত এসেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যের এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলামকে।সোমবার (১১ মে) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় কমিটির কয়েকজন সদস্য ২০০৭ সালে ফ্রান্সফেরত প্রত্ননিদর্শনের বিষয়টি তোলেন। তখন প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক ইউএনওকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। ২০০৭ সালে প্রদর্শনীর জন্য ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন জাদুঘরের কিছু প্রত্ননিদর্শন। এর মধ্যে বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরের ছিল ৪৭টি। প্রথম লটে বেশকিছু প্রত্ননিদর্শন পাঠানো হয়। দ্বিতীয় লট পাঠানোর সময় একটি মূর্তি বিমানবন্দরে হারিয়ে গেলে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রদর্শনীর চুক্তি বাতিল করা হয়। পরে মূর্তিগুলো ফেরত আনা হয়। তবে সেগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা, তা আজও যাছাই করা হয়নি। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্ননিদর্শনের বিষয়ে তদন্ত করতে শিবগঞ্জের ইউএনওকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে দেখবে প্রত্ননিদর্শনগুলো কী অবস্থায় রয়েছে, কতগুলো আসল আর কতগুলো রেপ্লিকা।’ আরও পড়ুন: সবুজের গালিচা খুলনার ‘ভরত ভায়না’, পর্যটকদের মন জুড়াবেই! মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য সে দেশের দূতাবাস থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে ফ্রান্স দূতাবাসকে চিঠি দেয়া হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, জাতীয় জাদুঘর এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সঙ্গে ফ্রান্সের তিনটি আলাদা চুক্তি হয়। পরে ২০০৭ সালের ১৮ নভেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রত্ননিদর্শন পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি জানানো করা হয়।
Go to News Site