Somoy TV
ভোলায় পশুর হাটের ক্রেতাদের নজর কাড়তে একই খামারের ‘জমিদার’, ‘বাহাদুর’ ও ‘কালাচান’ নামে তিনটি বিশাল আকৃতির গরু প্রস্তুত করেছেন খামারি মো. আলী। সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের এই খামারি আসন্ন ঈদুল আজহার হাটে দাপট দেখাতে দেশি প্রাকৃতিক খাবারে প্রায় দুই বছরের যত্নে গরুগুলো প্রস্তুত করেছেন। এরই মধ্যে এসব গরু গণমাধ্যম ও ক্রেতাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। সাংবাদিকদের পাশাপাশি ক্রেতারাও এখন মো. আলীর খামারে ভিড় করছেন।ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মো. আলীর খামারে মোট ৬টি বড় জাতের গরু রয়েছে, যেগুলো আসন্ন কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য দেশীয় খাবারে মোটাতাজা করা হয়েছে। মো. আলী জানান, দুই বছর আগে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বাচ্চা ‘জমিদার’ গরুটি কিনে আনেন তিনি। নিবিড় যত্নে গরুটির বর্তমান ওজন প্রায় ১৫ মন (৬০০ কেজি)। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট। গরুটির দাম হাঁকিয়েছেন ৪ লাখ টাকা। অনেকে দেখতে আসলেও এখনো কোনো দাম বলেননি ক্রেতারা। কিছুদিনের মধ্যেই ক্রেতাদের নজর কাড়তে হাটে তোলা হবে ‘জমিদার’কে। এর সঙ্গে হাটে তোলা হবে ১৪ মন ওজনের ‘বাহাদুর’ এবং ১৩ মন ওজনের ‘কালাচান’। এই দুটি গরুর দামও ৩ লাখ টাকার বেশি চাইবেন বলে জানান মো. আলী। এছাড়া তার খামারে আরও তিনটি গরু রয়েছে-রাজা, বাদশা ও লালচান। আরও পড়ুন: কোরবানির বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা, খরচ বাড়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম নিয়ে শঙ্কা ১৪ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করছেন মো. আলী। তিনি বাচ্চা গরু কিনে লালন-পালন শেষে বিক্রি করেন। এতে ব্যবসা ভালোই হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার পূর্বপুরুষেরাও গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গরুগুলোকে কাঁচা ঘাসের পাশাপাশি গম-ভুট্টা, খৈল, ভুষি ও দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। বেশি ও ভালো খাবারের প্রতি ঝোঁকের কারণে খামারের সবচেয়ে বড় গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’। ঈদ উপলক্ষে ‘জমিদার’কে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ কেজি কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হয়, যার দৈনিক খাবার খরচ প্রায় ১ হাজার টাকা। সব প্রস্তুতি শেষ করে এখন ক্রেতার অপেক্ষায় আছেন খামারী মো. আলী। জমিদারের প্রতি তার মায়ার বন্ধন থাকলেও ব্যবসার পুঁজি জোগাড়ের জন্য শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন জানান, মো. আলীর খামারের ‘জমিদার’ জেলার বড় ষাঁড়গুলোর মধ্যে একটি। ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারলে খামারির খাবার ও লালন-পালনের খরচের পর কিছুটা লাভ থাকবে। বাজার স্থিতিশীল থাকলে গরুটি ৪ লাখ টাকায় বিক্রি হতে পারে।
Go to News Site