Somoy TV
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি আবারও বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় এই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে তেল-গ্যাসের দামও। বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় হরমুজে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে।ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন গড়ে দুই কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করে। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিকাংশ তেল রফতানি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রফতানিকারক কাতারও প্রায় পুরো গ্যাস রফতানি করে এই পথ দিয়েই। ফলে এখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলে। আরও পড়ুন: কী আছে হরমুজে, ট্রাম্পের কেন এত ভয়? ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির আশপাশে দুই শতাধিক তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ নোঙর করে আছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়েছে। ইউরোপে ডিজেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্য, চীন ও ভারতের কিছু তেল শোধনাগারও সরবরাহ সংকটে উৎপাদন কমিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় অচল থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এরই মধ্যে অনেক শিপিং কোম্পানি সুয়েজ খাল এড়িয়ে আফ্রিকার চারপাশ দিয়ে জাহাজ পাঠানো শুরু করেছে। এতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। এর প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য আমদানি পণ্যের দামেও পড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের চেষ্টা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। তাই এই জলপথে অস্থিরতা যত বাড়বে, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ ততই বাড়বে।
Go to News Site