Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। সড়কে অটোরিকশার নৈরাজ্য - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর সড়কে এখন যা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে তা হলো, ব্যাটারিচালিত রিকশা। অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক-সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই তিন চাকার বাহন। চালকের লাইসেন্স নেই, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেই, গাড়ির কোনো আইনি নিবন্ধনও নেই। তবুও যেন তারা রাস্তার রাজা! প্রায় ১০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে ঢাকার রাজপথ। স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব রিকশার দৌরাত্ম্যে নগরে চরম বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও এসব রিকশা প্রতিদিন বিদ্যুৎ খাচ্ছে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট। যার বড় অংশই চুরি করা হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ১৪ মে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ডিএমপি ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এপ্রিলেই ২৮৮ খুন - দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গত এক মাসে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে অন্তত ২৮৮টি। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য বলছে, এপ্রিলে এক মাসেই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় হত্যাকাণ্ড হয়েছে ৪টি। খুলনা মেট্রোপলিটনে ২টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ২টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৩টি, রংপুর মেট্রোপলিটনে ১টি, গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মেট্রোপলিটন ছাড়াও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১৭টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি, সিলেট রেঞ্জে ২৪টি, খুলনা রেঞ্জে ২৪টি, বরিশাল রেঞ্জে ১৫টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৩৬টি, রংপুর রেঞ্জে ১৭টি ও রেলওয়ে রেঞ্জের আওতায় ৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যাও কম না। বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পিডিবির নতুন কৌশল - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে নতুন কৌশল নিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের বিলের ধাপ (স্ল্যাব) বদল করে আয় বাড়াতে চায় সংস্থাটি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কম দামে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা হারাতে পারেন গ্রাহকদের একটি বড় অংশ। এ ছাড়া বছরে দুবার দাম সমন্বয় চায় পিডিবি। পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, এতে ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহকের ওপর বাড়তি বিলের চাপ তৈরি হতে পারে। তাঁদের মধ্যে ২৩ শতাংশই নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির, যাঁরা মাসে ২০০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। এমন গ্রাহকেরা সাধারণত বাসায় নিয়মিত একাধিক বাতি, ফ্যান, ফ্রিজ ও টিভি চালাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। বাইকের চাকা ঘুরলেই কর - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়করের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেয়া হয়। তবে এবার প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। গতকাল বাজেটসংশ্লিষ্ট এক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।হামে এত শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী কারা? - দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের ১১ বছর পর কোল জুড়ে আসা আট মাস বয়সি চাঁদপুরের শিশু তাজিম গত ২২ এপ্রিল প্রাণ হারায় হামে। মৃত সন্তান কোলে ফারজানা-হেলাল দম্পতির সেদিনের বুকফাটা কান্নার ছবি দেখে চোখের পানি আটকাতে পারেনি দেশবাসী। হাম আর উপসর্গে প্রাণ হারানো শিশুগুলোর পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছিল এবারের মা দিবস। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৫৮ দিনে এভাবেই ঝরে গেছে ৪১৫ শিশুর প্রাণ। হাসপাতালে লড়াই করতে হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮০ শিশুকে। দেশব্যাপী হামের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, অনেকটাই মহামারি পর্যায়ে চলে গেছে। সরকারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও পদক্ষেপের মধ্যেই আরো কত শিশু প্রাণ হারাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে এত শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী কে, কারা? এসব বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এসেছে ভীতিকর তথ্য। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা কেনার পুরো ব্যবস্থা বদলে ফেলা, ভিটামিন এ, বুকের দুধ ও কৃমিনাশকের ঘাটতি, সর্বোপরি ইউনিসেফের দফায় দফায় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার কারণেই হামের সংক্রমণ মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়েছে। যে ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে কচি প্রাণগুলোকে। অপরাধীদের ‘গডফাদার’ কারা? - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজি, খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা কিংবা কিশোর গ্যাং- প্রায় প্রতিটি বড় অপরাধের পেছনেই থাকে অদৃশ্য শক্তি। মাঠের অপরাধীরা ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে আড়ালের গডফাদাররা। স্থানীয় প্রভাব, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থের জোর বা প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এসব গডফাদার বছরের পর বছর গড়ে তুলে অপরাধের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানী থেকে জেলা শহর এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এখন নানা ধরনের অপরাধের পেছনে আছে কোনো না কোনো অপরাধী সিন্ডিকেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই বিভিন্ন অভিযানে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিলেও বড় বড় অপরাধ চক্রের মূল হোতারা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। ফলে অপরাধ থামছে না বরং নতুন নতুন সদস্য যুক্ত হয়ে চক্রগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিগত সময়ে অপরাধ চক্র এতটা জাল বিস্তার করে যা নিয়ে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেকটা ব্যতিব্যস্ত। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Go to News Site