Jagonews24
ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় এক বছর আগে খনন করা হয়েছে। তবে এতদিনেও সেখানে শুরুই হয়নি ড্রেন নির্মাণের কাজ। আর সেখানেই জমে থাকা পানিতে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। সোমবার (১১ মে) বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মো. ইফাত (৬)। সে ওই এলাকার লুঙ্গী ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছেলে ও স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আদরের সন্তান হারিয়ে মা শারমিন আক্তার এখন পাগলপ্রায়। অসুস্থ হয়ে শিশুটির বাবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এক বছরেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। কোথাও আবার খনন করা হলেও কাজ শুরুই হয়নি। খনন করা অংশে পানি জমে মৃত্যকূপে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অকালেই ঝরল ইফাতের প্রাণ। দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তারা। পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার ৩নং নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংক কর্মকর্তা মানিক শেখের বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ড্রেনেজ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত বর্ষা মৌসুমে ড্রেনেজ নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সরু খাল করেন ঠিকাদার। তবে এক বছরেরও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় মানিকের বাড়ির সামনে ছোট খাদে পরিণত হয়েছে। আরও জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শিশু ইফাত ও তার চাচাতো ভাই সামাদ (১১) ছাগল চরানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরপর ঘণ্টাখানেক পর সামাদ বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু ইফাত বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে মানিকের বাড়ির সামনের নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শিশু ইফাতের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসেছেন শেষবারের মতো দেখতে। সন্তান হারিয়ে মা আহাজারি করছেন। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজনরা। চাচা সামছুল আলম অভিযোগ করে বলেন, এক বছর আগে ড্রেনের জন্য খাল কেটেছে ঠিকাদার। কিন্তু এতদিনেও কাজ শেষ হয়নি। সেখানে এক মানুষ সমান পানি জমে আছে। পানিতে পড়ে আমার ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর জন্য ঠিকাদার দায়ী। আমরা এর বিচার চাই। শিশুটির মামা স্বাধীন হোসেন বলেন, চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে ছাগল নিয়ে বাইরে গিয়েছিল ইফাত নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে যায়। পরে স্যান্ডেল দেখে ড্রেনের পানি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। তার ভাষ্য, সময় মতো ড্রেনেজের কাজ শেষ হলে এমনটা হতো না। তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও কাজের বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে স্থানীয় লিটন আলী নামে এক ঠিকাদার কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে মুঠোফোনে ঠিকাদার লিটন আলী প্রথমে বলেন, এলংগী এলাকায় ড্রেনেজ কাজ চলছে তার। কাগজপত্রাদি দেখে বিস্তারিত বলা যাবে। পরে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। বাইরে গাড়িতে আছেন। পরে কথা বলবেন বলে ফোনটি কেটে দেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক ফারজানা আখতার বলেন, ঠিকাদারের অবহেলা আছে কি না তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, নির্মাণাধীন ড্রেনে জমে থাকা পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আল-মামুন সাগর/এফএ/জেআইএম
Go to News Site