Collector
এসআইবিএলের প্রশাসক বদলি নিয়ে গুঞ্জন, উঠছে আইনি প্রশ্নও | Collector
এসআইবিএলের প্রশাসক বদলি নিয়ে গুঞ্জন, উঠছে আইনি প্রশ্নও
Jagonews24

এসআইবিএলের প্রশাসক বদলি নিয়ে গুঞ্জন, উঠছে আইনি প্রশ্নও

সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের আওতাধীন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) প্রশাসক সালাহ উদ্দিনকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশারকে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সালাহ উদ্দিনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে এবং তার সহযোগী অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল ইসলামকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সিএসডিতে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) পৃথক দুটি সার্কুলারের মাধ্যমে এ আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সালাহ উদ্দিনকে এসআইবিএলের প্রশাসক এবং রাশেদুল ইসলামকে তার সহযোগী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ছয় মাসের মাথায় তাদের সরিয়ে দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বদলির কারণ সার্কুলারে উল্লেখ না থাকলেও, বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি আদেশের আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপকে সুবিধা করে দিতেই এক ডেপুটি গভর্নর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক নির্বাহী পরিচালকের ইচ্ছায় এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শতভাগ সুদ মওকুফ, নিয়মের বাইরে ঋণ পুনঃতফসিল এবং বিশেষ নীতিসহায়তা আদায়ে কয়েকটি প্রভাবশালী গ্রুপ প্রশাসকের ওপর চাপ দিচ্ছিল। তবে সালাহ উদ্দিন এসব অনৈতিক সুবিধা দিতে রাজি হননি। এরপর থেকেই ওই গ্রুপগুলো তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিল বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল করতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই অদৃশ্য ইশারায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।’ এদিকে বদলির আদেশ ঘিরে আইনি বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’-এর আওতায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, এই আইনের অধীনে প্রশাসক নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগের, মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআরডি) নয়। আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী, আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বা রেজলুশনের অধীন কোনো তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে। আর ধারা ২৩-এ বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসকের দায়িত্বের অবসান ঘটাতে পারবে। এছাড়া ধারা ৬-এ বলা হয়েছে, রেজুলেশন সংক্রান্ত ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পৃথক বিভাগ থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আইনে যেখানেই ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ বলা হয়েছে, সেখানে কার্যত ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ’কেই বোঝানো হয়েছে। সেই বিবেচনায় প্রশাসক পরিবর্তনের আদেশ এইচআরডি-১ থেকে জারি হওয়ায় এর আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাদের মতে, ধারা ২৩(চ) অনুযায়ী প্রশাসকের মেয়াদ শেষ করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নিতে পারলেও, সেই সিদ্ধান্ত কোন বিভাগ নিয়েছে এবং কী প্রক্রিয়ায় নিয়েছে—তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে এইচআরডির এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তার ভাষায়, ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগও বাংলাদেশ ব্যাংকেরই অংশ।’ অন্যদিকে, কারও চাপে পড়ে প্রশাসক ও তার সহযোগীকে বদলি করা হয়েছে কি না এবং এ আদেশে আইনি জটিলতা রয়েছে কি না- এসব বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময় পর ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। ক্রমিক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির সময় হওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়নি। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাভাবিক বদলি কার্যক্রমের অংশ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব বিভাগই একই প্রশাসনিক কাঠামোর আওতাভুক্ত। তাই গভর্নরের নির্দেশনায় যে কোনো বিভাগ থেকেই বদলির আদেশ জারি করা যেতে। ইএআর/বিএ/এমএমএআর

Go to News Site