Collector
ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে ক্ষতির মুখে গাইবান্ধার কৃষকরা | Collector
ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে ক্ষতির মুখে গাইবান্ধার কৃষকরা
Somoy TV

ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে ক্ষতির মুখে গাইবান্ধার কৃষকরা

কৃষিপ্রধান জেলা গাইবান্ধায় ধান চাষই কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকের কারণে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। অভিযোগ উঠেছে, নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে নিম্নমানের বীজ ও কীটনাশক বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। এতে না বুঝে এসব পণ্য কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকেরা।জানা যায়, শুধু চলতি মৌসুম নয়, টানা কয়েক মৌসুম ধরে একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন জেলার কৃষকরা। বাজার থেকে কেনা বেশির ভাগ কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো কার্যকারিতা মিলছে না। কৃষকদের অভিযোগ, নামিদামি ব্র্যান্ডের কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেও কোনো সুফল মিলছে না। পোকা দমন তো হচ্ছেই না, বরং দিন দিন ক্ষতি বাড়ছে। শুধু ওষুধ নয়, নকল বীজও বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় বেশি দামে বীজ কিনলেও মৌসুম শেষে প্রত্যাশিত ফলন মিলছে না। একটি অসাধু চক্র নামিদামি কোম্পানির প্যাকেট ব্যবহার করে নিম্নমানের বীজ ও ওষুধ বাজারজাত করছে। আকর্ষণীয় মোড়ক ও পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম দেখে কৃষকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ফলে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে খরচ। আরও পড়ুন: একই গাছে তেল-জ্বালানি, সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন সাতক্ষীরার চাষিরা গাইবান্ধা সদরের কৃষক আকবর আলী জানান, ধানে রোগ দেখা দিলে ভালো কোম্পানির ওষুধ কিনে জমিতে স্প্রে করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। কারণ ভালো কোম্পানির প্যাকেটে একটি অসাধু চক্র ভেজাল ওষুধ ভরে বিক্রি করছে। এতে কৃষকেরা প্রতারিত হচ্ছেন। গাইবান্ধা সদরের বল্লমঝড় ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, সাধারণ কৃষকেরা ভালো প্যাকেট ও নাম দেখে বীজ ও ওষুধ কিনে ধারাবাহিকভাবে বছরের পর বছর প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকির অভাবে এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. আল মুজাহিদ সরকার জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন অভিযোগ আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুমোদিত ডিলার ছাড়া অন্য কোথাও থেকে বীজ ও কীটনাশক না কেনার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

Go to News Site