Somoy TV
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের জন্য উত্তম আদর্শ। তিনি ছিলেন দয়া-মমতার সাগর। উম্মতের প্রতি ছিল নবীজির গভীর মায়া, সীমাহীন মমতা ও ভালোবাসা। ভালোবাসার কোনো প্রতিদান চাইতেন না। চাইতেন শুধু উম্মতের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি। আমরা যদি নবীজিকে ভালো না বাসি, তাহলে আমরা মহান আল্লাহর ভালোবাসা পাবো না।মহান আল্লাহ বলেন, قُلۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰہُ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ হে নবী আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী, দয়ালু। (সুরা আলে ইমরান - ৩১) পবিত্র কোরআনে স্বয়ং আল্লাহ নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করার আদেশ করেছেন। দরুদ-পাঠ একদিকে যেমন নবীজির প্রতি আমাদের আবেগ ও ভক্তির উচ্ছ্বসিত বহিঃপ্রকাশ, অপর দিকে তা মোমিন বান্দার জন্য আল্লাহ পাকের রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম উপায়ও বটে। আরও পড়ুন: নবীজি সা. যেভাবে কোরবানি করতেন মহান আল্লাহ বলেন, اِنَّ اللّٰہَ وَمَلٰٓئِکَتَہٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡہِ وَسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর জন্যে দরুদ ও সালাম প্রেরণ কর। (সুরা আহজাব - ৫৬) দরুদের কিছু ফজিলত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রওজা মোবারক থেকে আমাদের দুরুদের উত্তর দেন। হাদিস শরিফে এসেছে, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللَّهُ إِلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো ব্যক্তি যখন আমার উপর সালাম পাঠায়, তখন আল্লাহ আমার রুহ ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি। (আবু দাউদ: ২০৪১) অপর একটি হাদিসের বর্ণিত হয়েছে, একবার দরুদ পড়লে দশটি রহমত বর্ষিত হয়। عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا অর্থ: যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। (মুসলিম: ৪০৮) হাদিসে বর্ণিত ছোট দরুদ শরিফ ১. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ،وَّأَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আনজিলহুল মাক্বআদাল মুক্বাররাবা ঈনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ।) অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং কেয়ামত দিবসে তাঁকে সমাসীন করুন আপনার নৈকট্যপ্রাপ্ত আসনে।’ (আলমুজামুল কাবির, তবারানি: ৪৪৮০; মুসনাদে আহমদ: ১৬৯৯১; ফাদলুস সালাত: ৫৫; মুসনাদে বাজজার: ২৩১৫; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ১৭২৫৯) ২. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلٰى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ،وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসূলিকা, ওয়াসাল্লি আলাল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনাত ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত।) অর্থ: হে আল্লাহ! রহমত বর্ষণ করুন আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি এবং সকল মুমিন ও মুসলিম নর-নারীর প্রতি।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯০৩; আলআদাবুল মুফরাদ: ৬৪০; মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৩৫২) ৩. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّسَلِّمْ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়াসাল্লিম।) অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক: ১৬৬৪; মুসনাদে আহমদ: ২৬৪১৬; জামে তিরমিজি: ৩১৪) ৪. اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ (উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।) অর্থ: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে নবী! এবং বর্ষিত হোক আল্লাহর রহমত ও বরকত।’ (সহিহ বুখারি: ৮৩১) ৫. صَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ (উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলান্নাবিয়্যি মুহাম্মাদিন।) অর্থ: আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি। (সুনানে নাসায়ি: ১৭৪৬) ৬. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتِكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا جَعَلْتَهَا عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজআল সালাতিকা ওয়াবারাকাতিকা আলা আ-লে মুহাম্মাদিন কামা জাআলতাহা আলা আ-লে ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।) অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার রহমত ও বরকত দান করুন মুহাম্মদ (স.)-এর পরিবারবর্গকে, যেরকম দান করেছেন ইবরাহিম (আ.)-এর পরিবারবর্গকে। আপনি নিঃসন্দেহে অতি প্রশংসিত, মহিয়ান।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৮৭২৬; ফাদলুস সালাত: ৬৫) ৭. اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম আলা মুহাম্মাদিন ওয়াআলা আ-লে মুহাম্মাদ।) অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি রহমত ও প্রশান্তি অবতীর্ণ করুন মুহাম্মদ (স.)-এর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গের উপর।’ (আলআযকার নাববি, পৃ. ১৭৭; আলকাউলুল বাদি’, পৃ. ৪০০,সালিহ লিলআমাল) ৮. صَلّى اللهُ عَلٰى النَّبِيِّ وَسَلَّمَ (উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলান্নাবিয়্যি ওয়াসাল্লাম।) অর্থ: রহমত ও শান্তি অবতীর্ণ হোক নবীজির ওপর।’ (নাতাইজুল আফকার, ইবনে হাজার: ১/২৮৩, সহিহ) ৯. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীম, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহীম।) আরও পড়ুন: দেনমোহর নির্ধারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ কতঅর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (স.)-এর উপর রহমত নাজিল করুন, যেমন রহমত নাজিল করেছেন ইবরাহিম (আ.)-এর পরিবারবর্গের উপর।’ (সুনানে কুবরা, নাসায়ি: ৯৭৯৬; জিলাউল আফ্হাম, পৃ. ১০২ (১১১) (সহিহ) ১০. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি।) অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি উম্মী নবী মুহাম্মদ (স.)-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন।’ (আততারগিব ওয়াত তারহিব, কিওয়ামুস সুন্নাহ: ১৬৫৪; জিলাউল আফ্হাম, পৃ. ৮৮ (৮২); আলকাউলুল বাদি’, পৃ. ৩৭৯ (সহিহ)
Go to News Site