Collector
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর পরিণাম | Collector
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর পরিণাম
Jagonews24

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর পরিণাম

ইলিয়াস মশহুদ আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ককে আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি বলা হয়। আর আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিধান। এটি মানুষকে কেবল পার্থিব বঞ্চনা ও শত্রুতা থেকেই হেফাজত করে না, বরং সামাজিক জীবনে বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। বিপরীতে, জাহেলি যুগে লোকেরা যেসব অপকর্ম করত, তার অন্যতম ছিল খুনোখুনি করা এবং আত্মীয়তার সম্বন্ধ ছিন্ন করা। পবিত্র কোরআনের সতর্কবাণী আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির সমতুল্য হিসেবে গণ্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে নিঃসন্দেহে তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। তাদের ওপরই আল্লাহ অভিশম্পাত করেন। আর তাদের করে রাখেন বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন। (সুরা মুহাম্মদ: ২২-২৩) নবীজীবনে আত্মীয়তা সম্পর্কের গুরুত্ব নবীজি (সা.) জীবনের শুরু থেকেই আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ওহির সূচনায় নবীজি (সা.) যখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং ঘরে এসে খাদিজাকে (রা.) বলেন, ‘আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও!’ এ সময় খাদিজা (রা.) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাসহ তাঁর মহৎ গুণাবলি উল্লেখ করে অভয় দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি চিন্তিত হবেন না। আল্লাহ তাআলা কখনো আপনাকে অপদস্ত করবেন না; আপনি তো আত্মীয়তার সম্বন্ধ রক্ষা করেন। সত্য কথা বলেন। গরিবদের কষ্ট লাঘব করেন। অনাথ-অসহায়দের সহায্য করেন। মেহমানদের আতিথ্য দান করেন। হকের পথে বিপদগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।’ (সহিহ বুখারি, ৩; সহিহ মুসলিম: ৪২২) জান্নাতে প্রবেশের পথে অন্তরায় সাহাবি আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে জান্নাতে প্রবেশের পথে অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না; ১. মদ পান কারী, ২. আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ৩. জাদুতে বিশ্বাসী। (মুসনাদে আহমদ: ১৯৫৮৭) আমল ও দোয়া কবুলের অন্তরায় কেউ তার ব্যক্তিগত ইবাদত, তাকওয়া বা খোদাভীতিতে অনেক উঁচুতে অবস্থান করলেও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে তাঁর সমস্ত অর্জন অসার হয়ে যেতে পারে। আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আদম সন্তানের সমস্ত আমল প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলার কাছে পেশ করা হয়। তখন আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর আমল গ্রহণ করা হয় না। (মুসনাদে আহমদ: ১০২৭৭) সমাজের ওপর রহমত নাজিল হয় না আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এমন গুরু অপরাধ, যার শাস্তি ভোগ করতে হয় পুরো জাতি ও সমাজকে। আত্মীয়তাার সম্পর্ক ছিন্নকারীর প্রতিবেশী ও সম্প্রদায়ের মানুষজনও তার কারণে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আবু আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী থাকলে, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হয় না। (আল-আদাবুল মুফরাদ: ৬৩) আত্মীয়তার সম্পর্ক কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দেবে কিয়ামতের দিন আত্মীয়তার সম্পর্ক স্বয়ং মানুষের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিত হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রতিটি রক্তের বন্ধন কেয়ামতের দিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামনে এসে দাঁড়াবে। যদি সে দুনিয়াতে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে থাকে, তবে তা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। পক্ষান্তরে সে যদি দুনিয়াতে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে থাকে, তবে তা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। (আল-আদাবুল মুফরাদ: ৭৩) ইসলামের সূচনাকালেই রাসুল (সা.) যেসব বিষয়ের দাওয়াত দিয়েছিলেন মানুষকে, তার মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা অন্যতম। এজন্য বংশপরম্পরা রক্ষা করা এবং আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম দাওয়াত। এটি একদিকে যেমন সামাজিক সম্পর্ক ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে, তেমনি পরকালীন মুক্তিরও উপায়। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজের আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, যাতে আল্লাহর অভিশাপ ও পরকালীন লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। ওএফএফ

Go to News Site