Somoy TV
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা চালানো উগ্র ইসরাইলি সেটেলারদের এবং তাদের সমর্থনকারী সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউইউ)।জোটের ২৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। একই সঙ্গে হামাস নেতাদের ওপরও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গত সোমবার (১১ মে) এক বিবৃতিতে কাজা কালাস বলেন, ‘চরমপন্থা ও সহিংসতার পরিণাম অবশ্যই ভোগ করতে হবে।’ ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো বলেন, পশ্চিম তীরে উগ্র ও সহিংস উপায়ে উপনিবেশ স্থাপনে সমর্থন দেয়ায় প্রধান প্রধান ইসরাইলি সংগঠন ও তাদের নেতাদের ওপর আজ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অত্যন্ত গুরুতর ও অসহনীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’ ইইউর অন্যতম সদস্য ও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের কারণে এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটি অনেকদিন আটকে ছিল। তবে গত মাসের নির্বাচনে ওরবানের পরাজয় এবং পিটার ম্যাগয়ারের ক্ষমতা আরোহণের পর এই সিদ্ধান্তের পথ সুগম হয়। আরও পড়ুন: ইন্টারনেট পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে, জানাল ইরান ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাতজন বসতি স্থাপনকারী এবং বসতি স্থাপনকারী সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে কিছু কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া বাকি আছে। এর আওতায় তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে। এদিকে যথারীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। এক প্রতিক্রিয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সা’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, ইইউ ‘খামখেয়ালি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ এই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে। পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা সহিংসতা এবং গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে ইসরাইল সরকারকে নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করে। গত সপ্তাহে ইউরোপের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। এর মধ্যে পরিকল্পনাকারী, আইনজীবী, ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশাজীবীরাও রয়েছেন, যারা প্রস্তাবিত ই১ বসতি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, ৩,৪০০টি অবৈধ বাড়ি নির্মাণের এই প্রকল্প পশ্চিম তীরকে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করবে এবং এর ফলে একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে। আরও পড়ুন: ‘আঙুল ট্রিগারে’, কিন্তু মূল লক্ষ্য ‘টেকসই শান্তি’: ইরান এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ইউরোপের ৪৫২ জন সাবেক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, কূটনীতিক ও কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গাই ভারহফস্ট্যাড এবং সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেনও রয়েছেন। হামাসের ৭ অক্টোবর হামলার পর থেকে গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে তাদের জমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা আরও বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ২৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
Go to News Site