Somoy TV
ইতিহাস গড়ে ঢাকা টেস্টে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে প্রথমবার ঘরের মাঠে টেস্ট ম্যাচ হারিয়েছে টাইগাররা। তবে এর চেয়েও রোমাঞ্চকর যে বিষয়টি, সেটা হলো প্রচলিত স্পিন সহায়ক উইকেটের বাইরে গিয়ে পেস বোলিংয়ের পরীক্ষা দিয়ে ম্যাচটি জিতেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।স্বাভাবিকভাবেই মিরপুরের এই টেস্ট জয়কে নিয়ে অনেকদিন পর্যন্ত আলোচনা চলমান থাকবে। কারণ, যেভাবে পেস এবং ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রতিপক্ষকে মাটিতে নামিয়ে এনে হারিয়েছে বাংলাদেশ, সেটা দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসেই বিরল।অবশ্য একদিন আগেও এই জয়ের আভাস পাওয়া দুষ্কর ছিল। কারণ পেন্ডুলামের মতো এদিক থেকে ওদিকে ঘুরে চতুর্থ দিন শেষে ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল এই ম্যাচ। সেই ম্যাচটাকেই পাকিস্তানের হাত থেকে একরকম কেড়ে নিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ এবং অধিনায়ক শান্ত। দুই পেসারের অনবদ্য বোলিং এবং শান্তর মুন্সিয়ানা অধিনায়কত্ব যেন অসম্ভবকে সম্ভব করল। ১০৪ রানে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। গতকাল চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের লিড ছিল ১৭৯ রানের। জয়ের জন্য লিডটা নিয়ে যেতে হতো কমপক্ষে ২৫০'র ওপরে। সেক্ষেত্রে প্রায় ২০ ওভারের মতো লেগেই যেত। এছাড়া বৃষ্টির পূর্বাভাস তো ছিলই। মোটের ওপর ঢাকার টেস্টের পঞ্চম দিনে জয় বা হারের ফলাফল তেমন একটা দেখা যাচ্ছিল না। তবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক শান্ত জানান, একবারের জন্য ড্র কিংবা হারের কথা ভাবেননি তারা। ড্র কিংবা হারের আশঙ্কা থাকলেও পুরোটা সময় দলের পক্ষ থেকে জয়ের জন্য খেলতেই বার্তা দেয়া হয়েছিল বলেও জানান টেস্ট অধিনায়ক। টার্গেট সেট করার বিষয় নিয়ে শুরুতে শান্ত বলেন, 'ব্যাটিংয়ে আমরা সকাল থেকে স্পষ্ট ছিলাম কী করতে চাই। আমার ইচ্ছা ছিল ১৫-২০ রান করার কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি। আমরা দল হিসেবে এগোচ্ছি এবং ওপরের দিকে যাচ্ছি। এই সাহসী সিদ্ধান্তটা আমাদের সামনের দিকে সাহায্য করবে। এই সিদ্ধান্তটা নেয়ার পেছনে কারণ হলো আমাদের বোলিং আক্রমণ। এই ম্যাচে আমাদের যে পাঁচটা বোলার খেলেছে তারা সবাই স্কিলফুল এবং ভালো বোলিং করেছে। এই ইনিংসে মিরাজ যেভাবে শুরু এনে দিয়েছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিল, সেখান থেকে মোমেন্টাম পাওয়া গেছে। তারপরে তাইজুল ভাই মিডল ওভারে দারুণ বোলিং করেছেন। যদিও প্রথম ইনিংসে তিনি বোলিং করার তেমন সুযোগ পাননি। এই ইনিংসে তাসকিন এবং রানার ওই স্পেলটা ছিল আউটস্ট্যান্ডিং।'আরও পড়ুন: ‘ওর রেপুটেশন পাকিস্তানে এমনিতেই খারাপ’—রিজওয়ানকে নিয়ে লিটনের স্লেজিং ভাইরালটিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে পাওয়া বার্তা নিয়ে শান্ত বলেন, 'আমাদের জন্য বার্তা ছিল, আমরা খেলাটা জেতার জন্যই খেলব। কোচও এই বার্তাটাই দিয়েছেন। আমরা সবাই ওই বিশ্বাস নিয়ে ঢুকেছিলাম যে এখান থেকে আমরা জিতব। যদি না জিততে পারি তাহলে যেন ওদের সেভ করতে কষ্ট হয়—এমন মানসিকতা ছিল। একবারের জন্যও আমরা ড্র বা হারের চিন্তা করিনি। আমাদের আগ্রাসী মানসিকতা ছিল। ভালো পাঁচটা বোলার আছে বলেই এই সাহসগুলো দেখাতে পারছি। তবে বোলিং ইউনিটে আরও উন্নতির জায়গা আছে। সেটা হলে ভবিষ্যতে আরও এরকম সিদ্ধান্ত নিতে পারব।' জয়ের প্রসঙ্গে শান্ত আরও বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য ছিল ২৭০ প্লাস রান করা। যখন আমরা ২৬৭-২৬৮ তে শেষ করলাম, বিশ্বাস ছিল যে এখান থেকে ম্যাচটা বের করতে পারব। রানার বল ওভাবে ভেতরে আসবে, এটা নিয়ে আমি আর লিটন পিছনে দাঁড়িয়ে আলাপ করছিলাম যে এটা আমরা আশা করিনি। এটা একটা ইতিবাচক দিক যে ও রিভার্স করাতে শিখছে। তাসকিন, এবাদত বা শরিফুলরা এটা সবসময় করে। রানার শেখাটা ভালো দিক।'এদিকে জয়ের পেছনে পেসারদের কৃতিত্ব দিয়ে শান্ত বলেন, 'পঞ্চম দিন হিসেবে উইকেট খুব একটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল তা নয়। এই ১০টা উইকেট নিতে আমাদের বোলারদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ব্যাটিংয়ের সময় মাথায় ছিল ২৭০-২৮০ রান কতটুকু সেফ হবে, কিন্তু কোয়ালিটি বোলিং অ্যাটাক থাকলে যেকোনো মাইন্ডসেট নিয়ে নামা সম্ভব।' তাসকিন এবং রানাকে বিশেষ কৃতিত্ব দিয়েছেন কাপ্তান। এই দুই পেসারকে নিয়ে তিনি বলেন, 'আসলে শুরুটা তাসকিন এনে দিয়েছে। ও যেভাবে চা বিরতির পরে এসে বোলিং শুরু করেছে, ওই চার-পাঁচ ওভারের স্পেলটা আসলে মোমেন্টাম আমাদের দিকে নিয়ে এসেছে। রানা কত স্পেশাল আমি জানি। ওর স্কিল আস্তে আস্তে উন্নত হচ্ছে। ওটা অনেক এনজয় করেছি এবং প্রতিপক্ষ যেভাবে ভয় পাচ্ছিল এটা দেখতে অবশ্যই ভালো লেগেছে। ও যেভাবে টিমের জন্য অবদান রেখেছে, তাতে আমি খুবই খুশি। আমাদের ইচ্ছা থাকবে ও যেন নিয়মিত এভাবে টিমের জন্য অবদান রাখে।'
Go to News Site