Somoy TV
সুন্দরবনের বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও এখনও দুই জেলের মুক্তি মেলেনি বলে অভিযোগ করেছে তাদের পরিবার। ফলে নিখোঁজ ওই দুজনকে ঘিরে তাদের পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।সোমবার (১১ মে) বিকেলে ছাড়া পাওয়া জেলে ও মৌয়ালরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। অপহৃতদের স্বজনরা জানান, বনদস্যুদের সঙ্গে কথা বলে দাবিকৃত মুক্তিপণ থেকে কিছু টাকা কমিয়ে সমঝোতা করা হয়। পরে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর পর একে একে ১৮ জেলে ও মৌয়ালকে ছেড়ে দেয় বনদস্যুরা। ফিরে আসা ব্যক্তিরা জানান, গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’, ‘নানাভাই’ ও ‘ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী বনদস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনেরমুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাথাভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নিখোঁজ দুই জেলে হলেন শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিপণের টাকা দেয়া হলেও তারা এখনও বাড়ি ফেরেননি বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে ওই দুই জেলের পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশা বিরাজ করছে। আরও পড়ুন: বিচার চাই না, আমার পোলারে কোলে ফিরাইয়া দেন: নিখোঁজ জেলের মা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালরা হলেন- করিম শেখ, আবু ইসা, মমিন ফকির, আল-আমিন, আবুল বাসার বাবু, আবুল কালাম, শাহাজান গাজী, সিরাজ গাজী, রবিউল ইসলাম বাবু, সঞ্জয়, আল-মামুন, হুমায়ুন, মনিরুল মোল্লা, রবিউল ইসলাম, হৃদয় মণ্ডল, আব্দুল সালাম ও ইব্রাহিম গাজী। এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘বনদস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে বন বিভাগের সাথে সহযোগিতা না করার কারণে বনদস্যু দমনে বেগ পেতে হচ্ছে। তারা সহযোগিতা করলে সুন্দরবনের বনদস্যু দমন সহজ হতো।’ ফিরে আসা জেলে, মৌয়াল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির দাবি জানান তারা।
Go to News Site