Collector
বর্ষা এলেই বুক ধড়ফড় করে চরাঞ্চলের খামারিদের | Collector
বর্ষা এলেই বুক ধড়ফড় করে চরাঞ্চলের খামারিদের
Jagonews24

বর্ষা এলেই বুক ধড়ফড় করে চরাঞ্চলের খামারিদের

যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে দিনের আলোয় যেখানে সবুজ ঘাসের ওপর শত শত মহিষের অবাধ বিচরণ আর রাখালদের ব্যস্ত জীবনচিত্র দেখা যায়, রাত নামলেই সেই একই এলাকা রূপ নেয় এক ভিন্ন বাস্তবতায়—আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা চরে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র, যার ফলে গবাদিপশু লুট, অপহরণ ও নির্যাতনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় খামারি ও রাখালরা। নিরাপত্তাহীন এই চরাঞ্চলে তাই রাত জেগে পাহারা, আগুন জ্বালিয়ে সতর্ক থাকা এবং প্রশাসনের সহায়তা চাওয়াই এখন তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। সরেজমিনে দেখা যায়, দিনে সারিয়াকান্দির যমুনা চর বিশাল প্রাকৃতিক চারণভূমি। দিগন্তজুড়ে সবুজ ঘাস, তার মাঝখানে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় শত শত মহিষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুধ দোহন, নদীতে গোসল আর চরজুড়ে চারণ, সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটে রাখাল ও খামারিদের। আর রাত হলেই তাদের চোখে-মুখে দেখা যায় আতঙ্কের ছাপ। চারদিকে ঘন অন্ধকার, বিস্তীর্ণ পানি আর বিচ্ছিন্ন চর। সেই অন্ধকারে কখন যে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ডাকাত দল এসে হাজির হবে, সেই আতঙ্কে রাত কাটান খামারিরা খামারিরা জানান, অনেক রাখাল রাতভর হাতে লাঠি নিয়ে পাহারায় বসেন। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে রাখেন, যাতে দূর থেকে লোকজনের উপস্থিতি বোঝা যায়। বিগত কয়েক বছরে চরাঞ্চলে মহিষের বাথান ঘিরে একের পর এক ডাকাতি, গবাদিপশু লুট, রাখাল নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে বাধ্য হয়ে এই ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা। ‘গত বছর কাজলা চর এলাকার একটি বাথানে গভীর বাথানে হামলা চালায় একদল ডাকাত। সে সময় রাখালদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে তারা। পরে নগদ টাকা ও কয়েকটি মহিষ নিয়ে যায়’ তাদের অভিযোগ, বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত নৌ-টহল না থাকায় ডাকাত দল সহজেই হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে প্রশাসনের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা দাবি জানিয়েছেন তারা। রাত হলেই বুক ধড়ফড় করে: কাজলা ইউনিয়নের খামারি তোতা মিয়া প্রায় এক যুগ ধরে চরাঞ্চলে মহিষ পালন করছেন। একসময় এই পেশাকে লাভজনক ও তুলনামূলক নিরাপদ মনে হলেও এখন পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে বলে জানান তিনি। তোতা মিয়া বলেন, এখন মহিষ পালন মানেই একদিকে বাড়তি খরচ, অন্যদিকে সারাক্ষণ নিরাপত্তা আতঙ্ক। আগে শুধু মহিষের দেখাশোনা করলেই হতো। এখন রাতে পাহারা দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় কাজ হয়ে গেছে। বর্ষা এলেই ভয় শুরু হয়। রাত হলেই বুক ধড়ফড় করে এই বুঝি ডাকাত এলো। আর বর্তমানে চারণভূমির খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। চরের জমি লিজ নিতে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। শ্রমিক ও পশুখাদ্যের দামও বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের বাথানে শতাধিক মহিষ আছে। কোটি টাকার সম্পদ খোলা চরে থাকে। চারদিকে পানি, মাঝখানে আমরা কয়েকজন রাখাল। ডাকাত আসলে বাঁচার উপায় থাকে না। বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়। গভীর রাতে নদীপথ ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র বাথানে হামলা চালায়। তারা মুখোশ পরে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসে। খামারি আলিফ আলী জানান, গত বছর আগে কাজলা চর এলাকার একটি বাথানে গভীর বাথানে হামলা চালায় একদল ডাকাত। সে সময় রাখালদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে তারা। পরে নগদ টাকা ও কয়েকটি মহিষ নিয়ে যায়। আরেক ঘটনায় এক রাখালকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের সদস্যরা টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। ‘কিছু অপরাধী চক্র নদীপথকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা ও সিরাজগঞ্জ সংলগ্ন চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে মৌসুমি গবাদিপশু চোরচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ তাদের কানে আসে’ স্থানীয়দের দাবি, কিছু ঘটনায় ডাকাতরা বাথানে থাকা মোবাইল ফোন পর্যন্ত নিয়ে যায়, যাতে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া না যায়। আবার কোথাও কোথাও রাখালদের আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে অধিকাংশ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। পুলিশ এসব ঘটনা জানতেই পারে না। হাটশেরপুর ইউনিয়নের রাখাল সবুজ বলেন, ডাকাতরা সাধারণত রাত ১টার পর আসে। প্রথমে রাখালদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর নগদ টাকা, মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এরপর মহিষ লুট করে। প্রতিরোধ করতে গেলে মারধর করে আহত করে। খামারিদের অভিযোগ, বিগত পাঁচ বছরে সারিয়াকান্দির বিভিন্ন চরাঞ্চলে অন্তত এক ডজনের বেশি ডাকাতি, গবাদিপশু লুট ও রাখাল নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভয়ভীতি, প্রতিশোধের আশঙ্কা এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে চান না। কোরবানির হাটে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী মিরকাদিমের ধবল গরুগো-খাদ্যের চড়া দামে লাভ নিয়ে শঙ্কায় খামারিরাইলিশ উধাও, জলবায়ু পরিবর্তনকে দুষছেন গবেষকরা২৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে বালুর সঙ্গে মাটি, আরও আছে নিম্নমানের খোয়া এক খামারি বলেন, চরে মামলা করে লাভ কী? পুলিশ আসতে আসতে ডাকাতরা অনেক দূরে চলে যায়। পরে উল্টো ঝামেলা বাড়ে বলে অনেকে চুপ থাকেন। কাজলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু অপরাধী চক্র নদীপথকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা ও সিরাজগঞ্জ সংলগ্ন চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে মৌসুমি গবাদিপশু চোরচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ তাদের কানে আসে। অসুস্থ পশুকে যত্ন নিচ্ছে খামারি/ ছবি: জাগো নিউজ সম্প্রতি সারিয়াকান্দির চর এলাকা থেকে গরু চুরির একটি ঘটনা নতুন করে আলোচনায় আসে। পরে সিরাজগঞ্জ এলাকায় গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। পুলিশ জানায়, চুরি হওয়া গরুগুলোর সূত্র সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। স্থানীয়দের দাবি, চরাঞ্চলে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিয়মিত নৌ-টহল না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে। ‘এখন মহিষ পালন মানেই একদিকে বাড়তি খরচ, অন্যদিকে সারাক্ষণ নিরাপত্তা আতঙ্ক। আগে শুধু মহিষের দেখাশোনা করলেই হতো। এখন রাতে পাহারা দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় কাজ হয়ে গেছে। বর্ষা এলেই ভয় শুরু হয়। রাত হলেই বুক ধড়ফড় করে এই বুঝি ডাকাত এলো।’ তাদের মতে, প্রতি বর্ষায় আতঙ্ক তৈরি হলেও মৌসুম শেষ হলে নিরাপত্তা তৎপরতাও শিথিল হয়ে যায়। ফলে বছর ঘুরলেই একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয় খামারি ও রাখালদের। বর্ষায় বাড়ে ঝুঁকি: বেশ কয়েকজন খামারি জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের পুরো নিরাপত্তা পরিস্থিতি পাল্টে যায়। যমুনা নদীর পানি বেড়ে চারদিকে যখন বিস্তীর্ণ জলরাশি তৈরি হয়, তখন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বাথানগুলো। অনেক জায়গায় হাঁটা তো দূরের কথা, নৌকা ছাড়া পৌঁছানোও সম্ভব হয় না। সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও স্থানীয় খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজলা ইউনিয়নের আমরুল চরাঞ্চলে চারজন খামারির একটি বাথানে ১০৬টি মহিষ রয়েছে। একই ইউনিয়নের লিটন মিয়ার বাথানে ১৮০টির বেশি মহিষ পালন করা হয়। হাটশেরপুর ইউনিয়নের একটি বড় বাথানে ছয়জন খামারির যৌথ ব্যবস্থাপনায় ২ শতাধিক মহিষ রয়েছে। একই ইউনিয়নের আরেকটি বাথানে ১৫০টি মহিষ রয়েছে। খামারি আমির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, শুধু একটি উপজেলায় ১০টির বেশি বড় বাথান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে বর্ষাকালে পানির চাপ ও নদীভাঙনের কারণে কিছু বাথান স্থান পরিবর্তন করে। এক বাথান থেকে আরেক বাথানের দূরত্ব অনেক সময় ৩ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। চরাঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় স্থায়ী মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজ দুর্বল বা অনিয়মিত। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। চরজুড়ে মহিষের অর্থনীতি: সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি পুরোপুরি এবং আরও কয়েকটি ইউনিয়নের বড় অংশ যমুনা নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। প্রতিবছর নদীর বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরভূমিতে জন্ম নেয় প্রাকৃতিক ঘাস। এই ঘাসকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বৃহৎ মহিষ পালন ব্যবস্থা। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক যুগ ধরেই চরাঞ্চলে মহিষ পালন হয়ে আসছে। আগে এটি ছিল পারিবারিক পর্যায়ের। এখন তা বড় আকারের খামারভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপ নিয়েছে। কয়েকজন খামারি মিলে একটি বাথান গড়ে তোলেন। কোথাও ৮০টি, কোথাও ১৫০ থেকে ২০০টিরও বেশি মহিষ থাকে। এসব মহিষ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দুধ উৎপাদিত হয়। স্থানীয় বাজার ছাড়াও নৌপথে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যায় সেই দুধ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানায়, বর্তমানে প্রায় ১০০ জন নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত খামারির কাছে ৮৫০টির বেশি মহিষ রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মহিষ যমুনার চরাঞ্চলের বাথানভিত্তিক খামারে পালন করা হয়। কাজলা, হাটশেরপুর, কর্ণিবাড়ী, চন্দনবাইশা, কুতুবপুরসহ চরাঞ্চলঘেঁষা ইউনিয়নগুলোতে মহিষ পালনের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এখানে ভোর হওয়ার আগেই শুরু হয় রাখালদের ব্যস্ততা। প্রথমে মহিষের দুধ দোহন করা হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়। স্থানীয় পাইকাররা নৌকা নিয়ে বাথান থেকে দুধ সংগ্রহ করে। ‘চরাঞ্চলের পরিস্থিতি ও খামারিদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। চরাঞ্চলে অতীতে কিছু বিচ্ছিন্ন চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্ষা সামনে রেখে খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে’ সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্জন ডা. এ জেড এম খালেদ জুলফিকার বলেন, মহিষ পালন এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। এখানে শুধু দুধ উৎপাদন নয়, গবাদিপশু বাণিজ্য, পরিবহন, শ্রমিক কাজসহ বহু মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। আয়ের পাল্লা হালকা, ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ শ্রমজীবীভেজা ধানেই খোরাকির খোঁজভারতীয় গরুর আধিপত্য নেই, দেশিতেই লাভের আশা খামারিদের তিনি বলেন, চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে ঘাসের প্রাচুর্য থাকায় কম খরচে বড় আকারে মহিষ পালন সম্ভব হয়। তবে খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে। প্রশাসনের আশ্বাস ও খামারিদের দাবি: খামারি মোস্তফা, আজাহার আলীসহ অনেকেই বলছেন, চরাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত নৌ টহল জোরদার করাসহ রাতের বেলায় নদীপথে পুলিশের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম চরাঞ্চলে মৌসুমি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা প্রয়োজন। এতে অন্তত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে। তাদের আরেকটি দাবি হলো- জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা। কারণ চরাঞ্চলের অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনিয়মিত থাকায় বিপদের সময় পুলিশ বা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা বা দ্রুত সংকেত দেওয়ার কার্যকর মাধ্যম থাকা দরকার। সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, চরাঞ্চলের পরিস্থিতি ও খামারিদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। চরাঞ্চলে অতীতে কিছু বিচ্ছিন্ন চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্ষা সামনে রেখে খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তবে চরাঞ্চলের দুর্গমতা ও নদীপথনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছু বিশেষ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে অনেক বাথান মূল ভূখণ্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। খামারিদের বলা হয়েছে সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার। এখন জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত তথ্য দেওয়া যাবে, সেই বিষয়েও তাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। এনএইচআর/এমএস

Go to News Site