Jagonews24
গাজীপুর সাফারি পার্ক বানানো হয়েছিল নিরাপত্তার মধ্যে থেকে দেশি-বিদেশি পশুপাখিরা যেন অবাধে বিচরণ করতে পারে। সেখানে তারা নিজেদের আবাসভূমির মতো ভালো থাকবে, ভালো খাবে ও স্বাধীনভাবে থাকবে। শালবনের বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাও ছিল উদ্দেশ্য। দেশের বিরল ও বিলুপ্ত বন্য প্রাণীকে সংরক্ষণ ও তাদের উন্নয়ন করা। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজমের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশ, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কিন্তু এই পার্কে যাদের বসবাস তাদের কী অবস্থা, কীভাবে বেঁচে আছে সেই ভাষাহীন প্রাণীগুলো—এই খোঁজ কি কেউ রাখছে? কে তাদের কথা বলবে? সাফারি পার্কের সার্বিক অবস্থাটা আসলে কী? যারা দর্শনার্থী, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পশুপাখি দেখতে যাচ্ছেন, তারাও পার্কের অবস্থা দেখে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে টিকিট কেটে তারা পার্কটি দেখতে আসছেন, অথচ এসে দেখছেন সব বিবর্ণ, প্রাণহীন। কোথাও কোনো যত্ন, ভালোবাসা নেই। যাদের যেভাবে থাকার কথা, তারা কেউ সেভাবে নেই। পশুপাখি, প্রকৃতি এগুলো সবই হচ্ছে ভালোবাসার ধন। এদের ভালো না বাসলে এরা বাঁচে না। বাঁচলেও কষ্টে থাকে, অনাদরে ও অবহেলায় থাকে। আর আমাদের দেশে প্রকৃতিকে ভালোবাসে খুব অল্প কিছু মানুষ। এমনকি যারা পরিবেশ-প্রকৃতি বাঁচানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারাও সবাই এদের সম্পর্কে জানেন না এবং ভালোবাসেন না। আমরা প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়নের জন্য কাজ করি। সরকার এবং জনগণ দুই পক্ষই বিশ্বাস করে উন্নয়নের জন্য বনভূমি গ্রাস করা ও ধ্বংস করা যায়। আর তাই সরকারের বন ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে বন রক্ষার বিষয়টি নাই। সেখানে নেই গাছ, পানি, বন্যপ্রাণী, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সুবিধাদির কোনো বন্দোবস্ত। আমরা যতই জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সাফারি পার্ক ইত্যাদি নিয়ে কথা বলি না কেন, বাংলাদেশে যখন সাধারণ পশুপাখির প্রতি নির্দয় আচরণ করা হয়, বা যখন কোনো বনাঞ্চল ধ্বংস বা দখল করা হয়, তখন রাষ্ট্র, ব্যবসায়ী মহল, রাজনীতিবিদ, আমলা, তারকা বা অন্য পেশাজীবীরা কেউ এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করেন না। কেন করেন না বা কেন চুপচাপ থাকেন, জানি না। কালেভদ্রে অপরাধীরা ধরা পড়লেও তেমনভাবে বিচার হয় না। এ ব্যাপারে আইন থাকলেও কাউকে সেভাবে শাস্তিও পেতে দেখিনি। গণমাধ্যমে সংবাদ হয়, সামাজিক মাধ্যমে কিছু হৈচৈ হয়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষকরা দুঃখ প্রকাশ করেন, বনবিভাগ তৎপর হয়—ব্যস তারপর সব শেষ। গাজীপুর সাফারি পার্কের অবস্থা এখন অত্যন্ত খারাপ। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে বাঘ ও সিংহ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করা যাবে, এমন যে দুটি রেস্তোরাঁ, সেই দুটিই বন্ধ। বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সম্পর্কে দর্শনার্থীকে বোঝানোর জন্য যে প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র, সেটিও বন্ধ। দর্শনার্থীদের জন্য বানানো দুটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, প্যাডেল বোটে ভ্রমণ, এগ ওয়ার্ল্ড, হাতি শো গ্যালারি, শিশুপার্ক—সবই বন্ধ। পার্কের ভেতরে কোনো স্যুভেনির শপ নেই। দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য কোনো গাইড নেই। পার্কের ভেতরটা নোংরা। একটি হুইলচেয়ার ছাড়া প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। (প্রথম আলো) একসময় এই পার্কে প্রচুর মানুষ আসতেন। খোলা অবস্থায় পশুপাখি দেখবে—এই আনন্দে বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি উৎসাহী ছিল। এখানে দেশি-বিদেশি অনেক প্রাণী ছিল। অনেকগুলোই মারা গেছে, আর অনেকগুলো যত্ন-আত্তির অভাবে ধুঁকছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মোট ২৫টি জেব্রা পার্কে আনা হয়েছিল। এরা নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারেনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১১টি জেব্রা ও একটি বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন হয়েছিল। হইচই হয়েছিল কিন্তু তারপর সব তৎপরতা থেমে যায়। পার্কটিতে বিদেশ থেকে প্রাণী এসেছে এবং খাপ খাওয়াতে না পেরে ও যত্নের অভাবে মারাও গেছে। মারা গেছে ১২টি জিরাফ, মারা গেছে সব ক্যাঙারু, সাদা সিংহ। কী মর্মান্তিক ঘটনা। কত দূর থেকে এই প্রাণীগুলোকে খাঁচাবন্দি করে নিয়ে আসা হয়, আর ভিন দেশে এসে এরা কষ্টে প্রাণ হারায়। কেন এই অবুঝ প্রাণীগুলো আমাদের তত্ত্বাবধানে থেকে মারা গেল? এর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ওখানকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা একেকবার একেক কথা বলেছেন। বলছেন অ্যানথ্রাক্স, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা কর্তৃপক্ষের অবহেলা। প্রাণীকুলের দুঃখভারাক্রান্ত ও হাড়জিরজিরে চেহারাই প্রমাণ করে কেন প্রাণীগুলো মারা গেছে বা যাচ্ছে। অন্য চিড়িয়াখানাগুলোতেও বাঘ, সিংহ এসব মারা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এদের মৃত্যুর খবর গোপনও করা হয়েছে। এই প্রাণীদের মৃত্যুর খবরের কোনো নির্দিষ্ট কারণও জানা যায়নি। আমরা মনে করি সব চিড়িয়াখানার প্রাণী মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত এবং আদালতের উচিত স্বপ্রণোদিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া। একটার পর একটা পশুর মৃত্যুতে দেশের সাফারি পার্কের মান, প্রাণীদের খাবার ও চিকিৎসকের মান, সার্বিক তত্ত্বাবধানের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর নির্বিচারভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে। আমরা যেন বুঝতেই পারছি না যে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে যে উন্নয়ন, তা আমাদের নয়। আর তাই পরিবেশ বিষয়ক নানারকম আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নিচের দিকে। এরপরেও আমরা একটির পর একটি বনভূমি ধ্বংস করব ও সাফারি পার্ক বানাব। ২০১৬ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে সাফারি পার্কে দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের বন্য প্রাণীর মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে না পারা বা অভিযোজনে ব্যর্থতা, অনিয়মিত টিকাদান, অপর্যাপ্ত ও দূষিত পানি সরবরাহ, দুর্বল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। এখন পর্যন্ত সেই অবস্থার তো কোনো উন্নতি হয়ই নাই, উপরন্তু খারাপ হয়েছে। সাফারি পার্কটিতে ৭টি বাঘ, ৫টি সিংহ, ২১টি ভালুক, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী আছে এখন এক হাজারের মতো। সাফারি পার্কের করুণ ব্যবস্থাপনা দেখে প্রশ্ন জাগছে—এরা কি আদৌ বাঁচবে? যারা প্রাণীদের দেখাশোনা করেন, বিদেশি প্রাণীর বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। এছাড়া পশুপাখিরা কী খাচ্ছে সেটার মান পরীক্ষার জন্যও নেই কোনো উন্নত ব্যবস্থা। এমনকি পার্কে খাদ্য সংরক্ষণাগারটিও বর্তমানে বন্ধ হয়ে আছে। পার্কটির এত বড় এলাকা এখন অনেকটাই অরক্ষিত। চারদিকে বাউন্ডারি দেয়ালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে গেছে। সেদিক দিয়ে চোর, পশুপাখি পাচারকারীরা নির্বিবাদে ঢুকছে। এরা লেমুর, ম্যাকাও চুরি করে নিয়ে গেছে। কম উচ্চতার দেয়াল টপকে একটি পুরুষ নীলগাই পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সহকারী বন সংরক্ষক গণমাধ্যমকে বলেছেন যে, শক্তিশালী সীমানাপ্রাচীর, নিরাপত্তা টাওয়ার, পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা, কিউরেটরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ না থাকার পাশাপাশি দক্ষ জনবল না থাকা, বাজেট স্বল্পতাটাই এখন পার্ক পরিচালনার বড় চ্যালেঞ্জ। পার্কে একটি বন্য প্রাণী হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি আছে। হাসপাতালটিতে একসময় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অস্ত্রোপচার কক্ষ ছিল। ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় এখন আর অস্ত্রোপচার কক্ষের অস্তিত্ব নেই, নেই ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা। দক্ষ জনবলের অভাবে ল্যাবটিও প্রায় বন্ধের পথে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কতটা ধুঁকে ধুঁকে সাফারি পার্কটি চলছে। অন্যদিকে দর্শনার্থীরা চিপসসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে ঢুকছেন। শিশুরা কুমিরসহ বিভিন্ন প্রাণীর বেষ্টনীতে সেই খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছে। খাওয়া শেষে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে খাবারের প্যাকেট। ফলে পার্কের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে প্রতিদিন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পার্কের ভেতরে কোনো পুলিশ ক্যাম্প নেই। দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার ও রিসোর্ট ছিল তিনটি, এখন মাত্র একটি চালু আছে। এত সব ‘নেই’ নিয়ে চলছে সাফারি পার্কটি। আগে এটির নাম ছিল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটির নাম পাল্টে করা হয় সাফারি পার্ক, গাজীপুর। নাম পাল্টানো হলেও ব্যবস্থাপনা আরো দুর্বল হয়েছে, ভেঙে পড়েছে সবকিছু। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, এই সময় পার্কটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। মূল ফটক, মুর্যাল, প্রাণী জাদুঘর, পাখিশালাসহ পার্ক অফিস ভাঙচুর করা হয়। লুটপাট করা হয় খাদ্য বিক্রির দোকানের মালামাল, বৈদ্যুতিক মোটর, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, চেয়ার, টেবিল, রেস্ট হাউজের জানালার কাঁচ ও পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত দুটি জিপ গাড়িসহ নানা সরঞ্জাম। ভাঙচুরের কারণে সাময়িক বন্ধ রাখা হয় পার্ক। তিন মাস ৯ দিন পর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় সাফারি পার্ক। দক্ষ জনবল না থাকা, বাজেট স্বল্পতাটাই এখন পার্ক পরিচালনার বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৩ সাল পর্যন্ত পার্কটি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে চললেও, ২০২৪ সাল থেকে রাজস্ব বাজেটের আওতায় আসে। তবে এখনো সরকারি কোষাগার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। যদিও অত্যাবশ্যকীয় ব্যবস্থাপনা সহায়তা প্রকল্পটি চলমান, এরপরেও পূর্ণ বরাদ্দ না এলে বুঝতেই পারছি না এই প্রাণীগুলো বাঁচবে কীভাবে। এরপরেও ৮৪৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে এক সাফারি পার্কের মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিল বন অধিদপ্তর। কথা ছিল জুড়ীতে লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের এলাকায় ওই পার্কে মূলত বিদেশি প্রাণী আনা হবে। ২০২৪ সালে এটি নির্মাণের প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের আপত্তির মুখে, বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে এই ভালো সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল। কারণ অনেক টাকা দিয়ে বিদেশি প্রাণী এনে তাদের হত্যা করার অধিকার আমাদের কেউ দেয়নি। যেখানে সাফারি পার্ক তত্ত্বাবধানে আমরা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছি, সেখানে আবার সাফারি পার্ক স্থাপনের চিন্তা করাও ছিল অপরাধ, তাও সংরক্ষিত বনের এলাকায়। এ দেশের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, দুর্বল চিকিৎসা ব্যবস্থা, যথাযথ খাদ্যসামগ্রীর অভাব, দুর্নীতি ও যত্নআত্তির অভাবের মধ্যে কেন বিদেশি গাছ, বিদেশি প্রাণী আনতে হবে? আমাদের চিড়িয়াখানাগুলোতেও পশুপাখিরা যেভাবে আছে, তাও খুব সুখকর নয়। সুন্দরবনসহ অন্যান্য বনাঞ্চলগুলোও প্রভাবশালীদের খপ্পরে। সেদিন পরিবেশবাদী একজনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেখলাম, বন্যপ্রাণীর জন্য সুন্দরবনের একটি প্রাইম এলাকা কচিখালি এক ব্যক্তি হাতিয়ে নিয়েছে। এটি একটি সংরক্ষিত এলাকা এবং আইনগতভাবে ঘোষিত অভয়ারণ্য। এই এলাকায় একটি গাছ ঝড়ে পড়ে গেলে সেটির অপসারণও নিষিদ্ধ। আমরা জানি বনটি জনগণের এবং মাসিক বেতনের বিনিময়ে এটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের। তাহলে একজন ব্যক্তি বন দখল করে নিতে পারে কেমন করে? মহাপরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৫ সাল থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর মেয়াদে গাজীপুর পার্কটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক পর্যটন ও গবেষণাকেন্দ্রে রূপান্তর করার কথা ছিল, এখন সে আশায় গুড়েবালি। পশুপাখিগুলো বাঁচে কিনা, তাই ভাবাচ্ছে। আমাদের বন বিভাগের দায়িত্ব হলো দেশের স্থানীয় বা ইনডিজিনাস বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা। কিন্তু আমরা দেখছি তারা নানা জায়গায় কংক্রিটের বাঘ, সিংহ, কুমির, হরিণ বানাচ্ছে। আর দেশের বায়োডাইভার্সিটি ধ্বংস করে বিদেশি বন্যপ্রাণী ও গাছ কিনে সাফারি পার্ক বানিয়ে দেশকে চিড়িয়াখানায় রূপান্তর করার অপচেষ্টা করছে। যারা দেশীয় প্রাণী বাঘ, হাতি, শিয়াল, কুকুর, বনবিড়াল, ঘোড়া ও পাখি রক্ষা করতে পারে না, তারা কীভাবে বিদেশ থেকে আনা প্রাণীদের রক্ষা করবে? শুধু কি সুন্দরবন দখল? মধুপুরের গারোদের যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাদের নিজেদের জায়গায় যে জাতীয় উদ্যান করা হয়েছে, এতে তারা খুশি কিনা? জাতীয় উদ্যান বানিয়ে, এর চারপাশে যে কংক্রিটের দেয়াল দেওয়া হয়েছে, তাতে করে এই জমির আদি মালিকরাই এখন আর ঢুকতে পারেন না। এই জমির অধিকারের জন্য পেটোয়া বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন গারো নেতা। সিলেটের দিকে গেলে পাবেন খাসিয়াদের। যেখানে খাসিয়াদের জায়গা নিয়ে নেওয়া হয়েছিল ইকো পার্ক করার জন্য। খাসিয়াদের জীবনের প্রতি হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে জমি না পেলে তাদের মেরে ফেলা হবে। ইকো পার্কে পর্যটকরা বেড়াতে আসবেন, শুধু এই জন্য এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের জায়গা দিতে রাজি ছিল না। কিন্তু ঠেকাতে পারল কই। চাকমা, মার্মা, ম্রো, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা—প্রত্যেকের ভেতরে আলাদা আলাদা দুঃখবোধ রয়েছে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর নির্বিচারভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে। আমরা যেন বুঝতেই পারছি না যে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে যে উন্নয়ন, তা আমাদের নয়। আর তাই পরিবেশ বিষয়ক নানারকম আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নিচের দিকে। এরপরেও আমরা একটির পর একটি বনভূমি ধ্বংস করব ও সাফারি পার্ক বানাব। ১২ এপ্রিল, ২০২৬ লেখক : যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক। এইচআর/এমএস
Go to News Site