Somoy TV
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৪ রানের বড় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছিল পঞ্চম দিন পর্যন্ত। ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ২৬৮ রান, হাতে ছিল ৭৫ ওভার। তবে শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানা গতির ঝড়ের সামনে টিকতে পারেননি মাসুদ-রিজওয়ানরা। ফলে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।দুই ইনিংসেই ভালো ব্যাটিং করেছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ৮৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তবে পঞ্চম দিনে সবার নজর ছিলো পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলীর ওপর। তাকে কীভাবে সামলাবেন টাইগার ব্যাটাররা, সেটাও অবশ্য কিছুটা দেখার ছিল। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত তাকে বেশ ভালোভাবেই সামলেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে র্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে থাকা নোমান আলীকে সামলানো একটু কঠিনই বটে। তবে শান্ত’র অবশ্য একটা পরিকল্পনা ছিল, যা তিনি শিখেছিলেন চেন্নাই টেস্টে। বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলী যখন বোলিংয়ে আসলেন, তখন আম্পায়ারকে শান্ত জিজ্ঞেস করলেন অফ স্টাম্প দেখার জন্য। সাধারণত ব্যাটাররা মিডল এবং লেগ স্টাম্প গার্ড দিয়ে ব্যাটিংয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু নোমান আলী বিরুদ্ধে শান্ত দাঁড়িয়েছিলেন কিছুটা ভিন্ন পজিশনে। তিনি অফ স্টাম্প গার্ড দিয়ে ব্যাটিংয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যাতে বল যদি তার প্যাডেও লাগে, সেটা যেন লাইনের বাইরে পরে। আরও পড়ুন: একবারের জন্য ড্র কিংবা হারের কথা ভাবিনি, জয়ের জন্য খেলতে বলা হচ্ছিল: শান্ত একজন ব্যাটসম্যানের ট্রিগার মুভমেন্ট অনেক সময়ই তার গার্ড নেওয়ার ধরনকে প্রভাবিত করে, যা দীর্ঘদিনের অভ্যাস, খেলার ধরণ ও পরিবেশের সঙ্গে মিলেই তৈরি হয়। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত’র ক্ষেত্রে বিষয়টি ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠেনি। বরং মানসম্পন্ন স্পিন আক্রমণের মোকাবিলায় নতুন সমাধান খুঁজতে গিয়ে তিনি প্রথম এই কৌশল ব্যবহার করেন ২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টে। চেন্নাই টেস্টে প্রথম ইনিংসে শান্ত ২০ রান করেছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে কৌশলটি কাজে দেয়, যেখানে তিনি ৮২ রান করেন। তারপর থেকে যখনই তিনি বাঁ-হাতি বা রিস্ট স্পিনের সাহায্য আশা করেন, তখনই তিনি এই অফ স্টাম্প গার্ড দিয়ে ব্যাট করেন— যেমনটা তিনি পাকিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচে নোমান আলীর বিপক্ষেও করেছিলেন, যেখানে তিনি ১০১ ও ৮৭ রান করেন। ম্যাচ শেষে ক্রিকবাজকে শান্ত বলেন, ‘চেন্নাইতে ভারতের বিপক্ষে খেলার সময় জাদেজার বল মোকাবেলা করতে গিয়ে আমি এই গার্ডটি (বাঁ-হাতি স্পিনারদের বিরুদ্ধে অফ স্টাম্পে) নিয়েছিলাম এবং ৮২ রান করেছিলাম। তাই আমি ভালো করেই জানি কেন আমি এটা করি এবং এটা আমার জন্য ফলপ্রসূ হয়েছে।’ ‘যখন বল খুব বেশি স্পিন করে, তখন এই বিকল্পটি (অফ স্টাম্পে গার্ড নেওয়া) নেওয়া যেতে পারে। আমি যদি অফ স্টাম্পে দাঁড়াই এবং বল আমার প্যাডে লাগে, তাহলে তার আঘাত সাধারণত বাইরে হয়। এটি স্পিনের বিরুদ্ধে রান করার আরও সুযোগ তৈরি করে দেয়।’ আরও পড়ুন: ‘ওর রেপুটেশন পাকিস্তানে এমনিতেই খারাপ’—রিজওয়ানকে নিয়ে লিটনের স্লেজিং ভাইরাল শান্ত আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রথম ইনিংসে আমি আরও বড় একটি ইনিংস খেলতে পারতাম। আমি যেভাবে ব্যাট করছিলাম, উইকেটটি বেশ কঠিন ছিল, বিশেষ করে প্রথম দুই-তিন ঘণ্টায়। এরপর আমার মনে হয়, ইনিংসটি আরও বড় হতে পারত।’ ‘দ্বিতীয় ইনিংসে আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবেই ব্যাট করতে পেরেছি। তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন ছিল এবং আমি পঞ্চম দিনে ব্যাট করেছি। সব মিলিয়ে, আমি দুটো ইনিংসই উপভোগ করেছি।’ শান্ত আরও বলেন, প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু তিনি এখনও নিজের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু আশা করেন। ‘আমি ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রস্তুতিটা ভালো ছিল এবং আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে আমি দলের জন্য কীভাবে অবদান রাখতে পারি। কিন্তু আমি তবুও বলবো যে আমি আরও ভালো ব্যাট করতে পারতাম।’
Go to News Site