Collector
মানুষের পাশাপাশি পথকুকুরদের নির্ভরতা তরুণ চিকিৎসক প্রত্যাশা | Collector
মানুষের পাশাপাশি পথকুকুরদের নির্ভরতা তরুণ চিকিৎসক প্রত্যাশা
Jagonews24

মানুষের পাশাপাশি পথকুকুরদের নির্ভরতা তরুণ চিকিৎসক প্রত্যাশা

শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পাশ কাটিয়ে চলে যায়, কিন্তু কিছু জোড়া চোখ অপেক্ষা করে শুধু একটু মমতার জন্য। কেউ তাদের ভয় পায়, কেউ বিরক্ত হয়, আবার কেউ তাড়িয়ে দেয়। সেই অবহেলিত পথকুকুরদের কাছেই একজন তরুণ চিকিৎসক খুঁজে পেয়েছেন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর নীরব বন্ধুত্ব। সাদা অ্যাপ্রোনের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে জুয়াইরিয়া প্রত্যাশার সেই ছুটে চলার গল্প শুনেছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ- মানুষের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই পথচলা শুরু হয়েছিল প্রত্যাশার। ছোটবেলায় ভাবতেন, একদিন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণও হয়েছে অনেকটাই। গত বছরের জুলাইয়ে এমবিবিএস ও ইন্টার্নশিপ শেষ করেছেন। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন এফসিপিএসের জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছর থেকেই নতুন এই পথচলা শুরু হবে। কিন্তু সাদা অ্যাপ্রোনের ব্যস্ত জীবনের আড়ালে আরেকটি পরিচয় নীরবে বড় হয়ে উঠেছে তার। তিনি এখন পথের অবহেলিত কুকুরগুলোরও এক নির্ভরতার নাম। প্রাণীদের প্রতি প্রত্যাশার এই টান হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। মেডিকেলে পড়ার সময় হোস্টেলে থাকতেন তিনি। মন খারাপ হলে ছাদে গিয়ে একা বসে থাকতেন। সেই নিঃসঙ্গ মুহূর্তগুলোতে একটি বিড়াল এসে পাশে বসে থাকত, যেন নীরব সঙ্গ দিচ্ছে। আবার একদিন রাস্তায় একটি ক্ষুধার্ত কুকুরকে খাবার দিয়েছিলেন। তারপর থেকে কুকুরটি তাকে দেখলেই ছুটে আসত, আনন্দে লেজ নাড়াতো। ছোট ছোট এই ঘটনাগুলোই বদলে দেয় তার ভেতরের অনুভূতি। মানুষের সেবা করার ইচ্ছা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে জীবসেবার দিকেও। এরপর থেকেই পথের প্রাণীগুলোকে তিনি বন্ধু ভাবতে শুরু করেন। আরও পড়ুন শত কষ্টেও করেননি ‘ভিক্ষাবৃত্তি’বৃদ্ধকালে কাঙ্ক্ষিত জীবন: মানুষ আসলে কী চায়? প্রত্যাশার চোখে কুকুর শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক। তিনি বিশ্বাস করেন, কুকুরের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত প্রাণী খুব কমই আছে। সামান্য আদর পেলেই তারা মানুষকে আপন করে নেয়। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও বিকেল কিংবা সন্ধ্যার পর সময় বের করে তাদের কাছে ছুটে যান তিনি। কখনো খাবার নিয়ে, কখনো অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। বিগত কয়েক বছর ধরেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পথকুকুরদের জন্য কাজ করছেন প্রত্যাশা। অনেক সময় বাসা থেকে রান্না করে খাবার নিয়ে যান। অসুস্থ বা আহত প্রাণীদের চিকিৎসার চেষ্টা করেন। শুধু নিজে কাজ করেই থেমে থাকতে চান না, অন্যদেরও প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কুকুর সবচেয়ে বেশি অবহেলিত প্রাণীগুলোর একটি। সচেতনতার অভাব, ভয় ও বিরক্তির দৃষ্টিভঙ্গিই এর বড় কারণ। অথচ এই প্রাণীগুলোও ভালোবাসা আর যত্ন চায়। ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রত্যাশার স্বপ্ন স্পষ্ট। সুযোগ পেলে তিনি একটি সুসংগঠিত প্রাণীকল্যাণমূলক সংগঠন গড়ে তুলতে চান। যেখানে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে পথকুকুরদের নিয়মিত খাবার, চিকিৎসা, ভ্যাক্সিনেশন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগও থাকবে, যেন প্রাণীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়। অর্থের জোগান অবশ্য সবসময় সহজ নয়। বেশিরভাগ সময় নিজের সামর্থ্য থেকেই খরচ চালান তিনি। কখনো বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত মানুষ সহযোগিতা করেন। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ থেকেও সহায়তা মেলে। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রাণীগুলোর নীরব ভালোবাসা। তিনি মনে করেন, মানুষ হিসেবে অন্যান্য জীবের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব আছে। কারণ তারা কথা বলতে পারে না, কিন্তু কষ্ট ঠিকই অনুভব করে। সমাজের সবাই যদি সামান্য সহানুভূতি দেখায়, তাহলে পথের এই অবহেলিত প্রাণীগুলোর জীবনও বদলে যেতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়েই নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন এই তরুণ চিকিৎসক। কেএসকে

Go to News Site