Jagonews24
সব মানুষ গান ভালো গাইতে পারেন না। কারো গলায় সুর থাকে, কারো থাকে না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক সময় যারা বেসুরা গলায় গান, তারাই সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হন। আড্ডা, বন্ধুদের জমায়েত, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বাথরুম,যেখানেই হোক, তারা নির্দ্বিধায় গলা ছেড়ে গান গেয়ে ফেলেন। আশপাশের মানুষ হাসলেও বা মজা করলেও খুব একটা বিচলিত হন না। বরং আরও আনন্দ নিয়ে গান চালিয়ে যান। কিন্তু কেন এমন হয়? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক ভয় কম থাকার বিষয়টি। অনেক মানুষই অন্যদের বিচারকে খুব গুরুত্ব দেন। ফলে তারা গান গাইতে চাইলেও ভয় পান, কেউ হাসবে কি না, ভুল হবে কি না, সুর কেটে যাবে কি না। কিন্তু যারা বেসুরা গলায়ও নির্দ্বিধায় গান গাইতে পারেন, তারা সাধারণত এই ভয়টা কম অনুভব করেন। তারা নিজের আনন্দটাকে বেশি গুরুত্ব দেন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়? আত্মবিশ্বাস মানে শুধু কোনো কিছু নিখুঁতভাবে পারা নয়। বরং নিজের অসম্পূর্ণতাকে মেনে নিয়েও স্বাভাবিক থাকা। একজন মানুষ যখন জানেন যে তিনি খুব ভালো গান গাইতে পারেন না, তবুও সবার সামনে গেয়ে ফেলেন, তখন সেটি এক ধরনের আত্মবিশ্বাসেরই প্রকাশ। মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী, যারা নিজেদের নিয়ে অতিরিক্ত অস্বস্তিতে ভোগেন না, তারা সামাজিক পরিস্থিতিতে বেশি স্বচ্ছন্দ থাকেন। তারা ভুল করতে ভয় পান না। আর এই স্বাভাবিক আচরণ অন্যদের কাছেও আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হয়। গান মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত গান শুধু বিনোদন নয়, এটি আবেগ প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। অনেকেই মন ভালো থাকলে গান গাইেন, আবার কেউ দুঃখ পেলেও গুনগুন করেন। এতে মস্তিষ্কে সুখানুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু রাসায়নিক নিঃসরণ হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা খোলামেলাভাবে গান গাইতে পারেন, তারা সাধারণত নিজেদের আবেগ প্রকাশেও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই তাদের আচরণে এক ধরনের প্রাণবন্ত ভাব দেখা যায়। নিখুঁত হওয়ার চাপ কম থাকলে মানুষ বেশি আনন্দে থাকে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অনেকেই নিজেদের সবসময় নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে চান। দেখতে সুন্দর হওয়া, সুন্দর কথা বলা, ভালো গাওয়া-সবকিছুতেই যেন চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে যারা নিজের অপূর্ণতাকে সহজভাবে নিতে পারেন, তারা মানসিকভাবে তুলনামূলক বেশি হালকা থাকেন। বেসুরা গলায় গান গাওয়া অনেক সময় সেই নির্ভার মানসিকতারই প্রতিফলন। তারা জানেন, সবাই শিল্পী নয়। তবুও আনন্দের জন্য গান গাওয়া যায়। গান ভালো না হলেও গাওয়া কেন জরুরি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গান গাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে মন ভালো হয়, উদ্বেগ কমে এবং আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়। তাই গানের গলা নিখুঁত না হলেও শুধু আনন্দের জন্য গান গাওয়া খারাপ কিছু নয়। অনেক সময় বেসুরা গলায় গাওয়া সেই গানই সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কারণ সেখানে পারফেকশন নয়, থাকে আনন্দ আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ। সূত্র: মিডিয়াম, হেলথলাইন, উইকিহাউ আরও পড়ুন: কাছের বন্ধু থেকেই কি তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ? স্ত্রী বাবার বাড়ি গেলে পুরুষদের মনে কী চলে? এসএকেওয়াই
Go to News Site