Collector
রাজউকের সবুজায়নের শর্ত ভেঙে ফুডকোর্ট অনুমোদন, ডিএনসিসির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ | Collector
রাজউকের সবুজায়নের শর্ত ভেঙে ফুডকোর্ট অনুমোদন, ডিএনসিসির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ
Somoy TV

রাজউকের সবুজায়নের শর্ত ভেঙে ফুডকোর্ট অনুমোদন, ডিএনসিসির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

এবার সামনে এলো রাজউকের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রতারণার তথ্য। গাছ লাগিয়ে সবুজায়নের প্রতিশ্রুতিতে রাজউকের কাছ থেকে জায়গা ব্যবহারের অনুমতি নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। কিন্তু মাত্র ৫ মাস পর রাজউকের শর্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভিভিড কন্সট্রাকশনকে ১৫টি ফুড কোর্ট করার অনুমোদন দেন তিনি। রাজউক চেয়ারম্যান বলছেন, এদিকে এ ঘটনার প্রায় ৫ মাস পর নড়েচড়ে বসেছে রাজউক।গাছ লাগিয়ে সবুজায়নের প্রতিশ্রুতিতে গত বছরের জুনে, রাজউকের কাছ থেকে জায়গা ব্যবহারের অনুমতি নেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। শর্ত ছিল বনায়ন ছাড়া বাণিজ্যিক কোনো কর্মকাণ্ডে জমি ব্যবহার করা যাবে না।পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরের ইছাপুরা সেতুর উত্তর-দক্ষিণে খালের দুই পাড়ের প্রায় ৩০০ মিটার জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে। অথচ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সবুজায়ন প্রকল্পটিকে বাণিজ্যিক রূপ দেয়া হয়।জমি বুঝে নেয়ার ৫ মাসের মাথায় শর্ত ভেঙে গত বছরের ৩ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভিভিড কন্সট্রাকশনকে ১৫ টি ফুডকোর্টের অনুমতি দেন ঢাকা উত্তরের তৎকালীন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তা-ঘাট, লেকের পাড়- এসব আমরা হয় কোনো সোসাইটিকে দেই, নাহলে আমরা সিটি করপোরেশনকে দেই। এটা আমাদের ম্যানডেটের মাঝেই আছে।’সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সবুজায়নের জন্য নির্ধারিত খাল পাড়ে ভিভিড কন্সট্রাকশনের অর্থায়নে স্থাপন করা হয়েছে ১৪টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত ল্যাম্পপোস্ট। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বিজ্ঞাপনের জন্য স্পেস ভাড়া দেয়ার ছোটো ছোটো বিলবোর্ড। এবং যোগাযোগের জন্য ভিভিড কন্সট্রাকশনের মুঠোফোন নম্বর দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ল্যাম্পপোস্টের পাশেই ফুডকোর্ট বসানোর পরিকল্পনা ছিল।প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ভিভিড কনস্ট্রাকশন বলছেন, ফুড কোর্ট নির্মাণের কাজ শুরু ১ মাসের মাথায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বরে হঠাৎ কাজ স্থগিতের নির্দেশ দেন সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক। যদিও ভিভিড কন্সট্রাকশনের দাবি, ১ মাসেই ফুড কোর্ট নির্মাণ সংক্রান্ত কাজে তারা বিনিয়োগ করে ফেলেছে মোটা অংকের অর্থ।আরও পড়ুন: রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন জনপদ কাউন্দিয়া, সেতুর অভাবে স্থবির ৩ লাখ মানুষের জীবনভিভিড কন্সট্রাকশনের প্রতিষ্ঠাতা জেভিয়ার এস. বিশ্বাস বলেন, ‘যখন আমরা কাজ শুরু করে মাটি ভরাট করতে গেলাম, তখন আমাদেরকে রাজউক থেকে বলা হলো, এটা করা যাবে না। আমরা বলেছি, এটা তো সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের লিজ নেয়া, কিন্তু রাজউক বলল, লিজ নেয়া হলেও সিটি করপোরেশন এখানে ফুডকোর্ট দিতে পারে না। কিন্তু তারা আমাদের চুক্তি ক্যান্সেল করেনি। কাজটা স্থগিত করে দিয়েছে।’নগর ও পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার অন্যতম প্রকল্প সবুজায়ন প্রকল্প। এ জায়গায় অন্য কোনোভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যারা অন্য সুযোগ তৈরি করছেন, তারা পরিবেশের দৃষ্টিতে দেখলে অপরাধী।’রাজউক বলছে তাদের অন্ধকারে রেখে প্রকল্পটিকে বাণিজ্যিকীকরণ করেছে উত্তর সিটি করপোরেশন। উত্তরের বর্তমান প্রশাসক প্রশাসক বলছেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘অনিয়ম তো অনিয়মই, সেটা যে-ই করুক না কেনো! এরইমধ্যে অনিয়মের বিষয়ে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।’রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো সম্প্রতি জেনেছি। আমাদের তো স্পষ্ট চুক্তি আছে। এখানে অন্য কোনো কাজে এ জায়গা ব্যবহার করা যাবে না। এখানে গাছ লাগানো ও সবুজায়ন ছাড়া কিছু করার কোনো সুযোগই নেই। যা করছিল, সেটা সরাসরি চুক্তি লঙ্ঘন, আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’বরাদ্দের শর্ত মানতে ফের চিঠি দেয়ার কথা জানিয়েছেন রাজউকের চেয়ারম্যান। অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ভিভিড কনস্ট্রাকশনও আইনি পথে হাটার ঘোষণা দিয়েছেন।

Go to News Site