Jagonews24
দিনাজপুরে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারিসহ ব্যক্তি উদ্যোগে প্রস্তুত হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি কোরবানির পশু। খামারিরা জেলার ১৩টি উপজেলায় ৬৮টি পশুর হাটে ক্রমান্বয়ে আনা হচ্ছে কোরবানির পশু। সোমবার (১২ মে) দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর, ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ, পাবর্তীপুর উপজেলার আমবাড়ী এবং রংপুর জেলার বদরগঞ্জ- এই চারটি হাট বসে। তবে হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও বেচাকেনা জমে উঠেনি। পশু বেশি হওয়ায় দাম গতবছরের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা । এবারও বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি। লাখ টাকার মধ্যেই কোরবানির গরু খুঁজছেন হাটে আসা ক্রেতারা। কোরবানির পশুর হাটগুলোয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাটগুলোয় গরুর সুস্থতা যাচাইয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে ও জাল নোট পরীক্ষার জন্য নিয়োজিত আছে ব্যাংক প্রতিনিধি। এ বছরও কোরবানির পশুর দাম কম বলে জানান ক্রেতারা। অপরদিকে গো-খাদ্যের যে দাম তাতে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়বে বলে জানান খামারিরা। বিক্রেতারা বলছেন, হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরু কেউ কিনতে চাইছেন না। বড় আকারের গরুর ক্রেতা কম থাকায় দুশ্চিন্তায় খামারিরা। এ ছাড়াও হাটগুলোয় গরুর সরবরাহ বেশি হওযায় খরচের তুলনায় তেমন দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন খামারিরা। এতে শঙ্কায় খামারি ও প্রান্তিক চাষিরা। ক্রেতারা বলছেন, ‘ঈদের এখনও অনেক বাকি। এখন গরু কিনলে বাড়িতে রেখে লালন-পালন কষ্টসাধ্য হবে। তাই ঈদের দুয়েক দিন আগে গরু কিনলে রাখা নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হবে না। ফলে শেষের দিকে গরু কেনার অপেক্ষায় আছেন তারা। তবে গতবারের চেয়ে গরুর দাম কম। দিনাজপুরের পার্বতীপুর আমবাড়ী হাটে গরু নিয়ে আসা খামারি সাহেব আলী বলেন, তিনি শাহীওয়াল জাতের ৪টি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। দাম হাকাচ্ছেন আড়াই লাখ টাকা করে। কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছেন দেড় লাখ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গত বছর একই রকম গরু বিক্রি করেছেন ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ এবার পশু খাদ্যের দাম অনেক বেশি। এবার হয়তো লোকসান গুনতে হবে। আরেক বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি মাঝারি দুটি দেশি ষাঁড় বাড়িতে লালন-পালন করেছেন। একেকটি ষাঁড় প্রস্তুত করতে তার খরচ হয়েছে লাখ টাকার বেশি। কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। তাই তিনি হাট থেকে গরু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যদি সামনের হাটগুলোতে দাম বাড়ে সেই আশায়। খামারি আব্দুর রহমান বলেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় গরু লালন-পালনে এবার গরু প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ পড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় দাম মিলছে না। এবার এখনও ঢাকার বেপারীরা আসতে শুরু করেনি। স্থানীয়রা হাটে এসে গরুর দামের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কেনা বেচা এখনও জমেনি। দেখি সামনের হাটগুলোতে কী অবস্থা দাঁড়ায়। আরেক খামারি আলম হোসেন বলেন, ‘আমার খামারে ১২টি ষাঁড় পালন করেছি। ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকার ওপরে খরচ হয়েছে। ব্যাপারীরা মোবাইলে যোগাযোগ করে ১২টি গরু ২০-২২ লাখ টাকা দাম করছে। দাম না বাড়লে লোকসানে পড়তে হবে। ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে গরু কিনতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, বাজারে অনেক দেশি গুরু উঠেছে। আজ হাটে এসে দাম যাচাই করছি। বিক্রেতারা দাম হাকাচ্ছে। আমরাও দাম বলছি। তবে মনে হচ্ছে গরুর দাম এখন পর্যন্ত গতবারের তুলনায় আকারভেদে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, জেলায় ষাঁড়, বলদ ও গাভী মিলে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া ও দুম্বা ১১টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারিসহ বিভিন্ন বাসা বাড়িতে এই গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। ‘সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে খামারিদের উৎসাহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলার হাটগুলোয় কেউ যেন গবাদিপশুর ওপর অতিরিক্ত খাজনা আদায় করতে না পারে, এর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও হাটগুলোতে নজরদারি রাখছে। জালটাকা রোধে ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও হাটে রয়েছে। এমদাদুল হক মিলন/এনএইচআর/এমএস
Go to News Site