Somoy TV
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু প্রস্তুত করে বিক্রির জন্য এক হাট থেকে অন্য হাটে ছুটছেন খামারি ও কৃষকরা। তবে ঈদের এখনো বেশ কয়েক দিন বাকি থাকায় তাড়াহুড়ো করে পশু কিনে ঠকতে চান না ক্রেতারা। অন্যদিকে কম দামে পশু বিক্রি করে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন বিক্রেতারাও। ফলে হাটে পর্যাপ্ত পশুর সমাগম থাকলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা শুরু হয়নি।নীলফামারীর অন্যতম বড় গরুর হাট সদর উপজেলার ঢেলাপীর হাট। সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকার কারণে নীলফামারীর সব কটি উপজেলা ছাড়াও পাশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলা থেকে কোরবানির পশু নিয়ে এই হাটে আসেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে পায়ে হেঁটে বা বিভিন্ন যানবাহনে পশু আনা শুরু হয়। দুপুর নাগাদ কয়েক হাজার পশুতে ভরে যায় বিশাল এই হাট। খোলামেলা চত্বরে বসা এই হাটে কর্তৃপক্ষের পরিপাটি ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রেতারা যেন অসুস্থ পশু কিনে প্রতারিত না হন, সেজন্য প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। হাটে হাজারো গরুর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাগলও উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে হাট মুখর থাকলেও বেচাকেনায় ধীরগতি দেখা গেছে। উভয় পক্ষই যেন ঈদের চাঁদ ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন। নিজের বাড়িতে তিন বছর ধরে লালন-পালন করা গরুর মালিক জমিরুল বলেন, ‘এখনো বাজার তেমনভাবে জমেনি। আমার গরুর দাম চেয়েছি ৯০ হাজার টাকা, কিন্তু ক্রেতারা বলছেন ৭০ থেকে ৭৫ হাজার। এই দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে।’ গরু ব্যবসায়ী নুর আলম বলেন, ‘আমি আড়াই লাখ টাকায় চারটি গরু কিনলাম। কয়েক হাট পর বিক্রি করব। হাট জমলে কিছু লাভ হবে।’ আরও পড়ুন: কোরবানির পশু কেনায় সতর্কতা, সুস্থ গরু চিনতে যা বললেন বিশেষজ্ঞ সোহরাব নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আপাতত দেখছি, আরও সময় আছে। দেখেশুনে কিনব। তবে দাম খুব একটা বেশি বলে মনে হচ্ছে না।’ নীলফামারীর হাটে না উঠলেও খামারেই ক্রেতাদের নজর কাড়ছে ‘সাদা মানিক’ নামের একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। এটি জেলার অন্যতম সেরা কোরবানির পশু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মো. আতিক হোসেন শখের বসে গড়ে তোলা তার এগ্রো ফার্মে সম্পূর্ণ দেশি পদ্ধতিতে ষাঁড়টি লালন-পালন করেছেন। খামারের পরিচর্যাকারী তালেব জানান, খামারের অন্য গরুর পেছনে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হলেও সাদা মানিকের পেছনে খরচ হয় ৭০০ টাকা। গত তিন বছর ধরে এটি লালন-পালন করতে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, তা বিক্রি করে তোলা কষ্টকর। প্রায় ২৮ মণ ওজনের এই ষাঁড়টির দাম নীলফামারীর স্থানীয় বাজারে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঢাকা বা চট্টগ্রামে নিলে এর দাম ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। খামারে ফ্যান ও মশারি টানিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ষাঁড়টিকে প্রতিদিন তিনবার গোসল করানো হয় এবং পাঁচবার খাবার দেয়া হয়।
Go to News Site