Collector
কারা নির্যাতনে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন ইমরান: পিটিআই | Collector
কারা নির্যাতনে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন ইমরান: পিটিআই
Somoy TV

কারা নির্যাতনে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন ইমরান: পিটিআই

কারাগারে নির্যাতনের কারণে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান তার এক চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে তিনি কারা হেফাজতে গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। পিটিআই’র মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এমনটাই দাবি করেছেন।আজ বুধবার (১৩ মে) ইসলামাবাদে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের সালমান আকরাম রাজা বলেন, ‘আজ ন্যায়বিচারের সব দরজা বন্ধ বলে মনে হচ্ছে।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতাকে ১,০০০ দিন ধরে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে এবং তাকে মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। চলমান ফলো-আপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে গত ২৮ এপ্রিল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ ইমরান খানকে চতুর্থবারের মতো ইন্ট্রাভিট্রিয়াল আই ইনজেকশন দেয়া হয়। এর কয়েকদিন পর পিটিআই’র পক্ষ থেকে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর দাবিটি সামনে এলো। ইমরান খানের আইনজীবী এবং আদালতের অ্যামিকাস কিউরি সালমান সফদর কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কারারুদ্ধ পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও) নামক একটি গুরুতর চোখের রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই অবস্থাটি তখন ঘটে যখন রেটিনা থেকে রক্ত ​নিষ্কাশনকারী প্রধান শিরাটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি প্রায়ই উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির কারণগুলোর সাথে সম্পর্কিত। আরও পড়ুন: চীনে পৌঁছালেন ট্রাম্প, সফরসঙ্গী কারা? আজ গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সালমান আকরাম রাজা আরও অভিযোগ করেন যে, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে এবং এমনকি সাক্ষাতের অধিকার সংক্রান্ত আদালতের আদেশও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। রাজা দাবি করেন, ‘ওকালতনামায় স্বাক্ষর আটকে দেওয়া হচ্ছে, অথচ শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু ব্যক্তিকেই তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার ‘গুরুতর স্বাস্থ্য অবস্থা’ থাকা সত্ত্বেও তার বোনদেরও সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এই পিটিআই নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, বুশরা বিবির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ করা হয়েছে, যার মধ্যে তোশাখানা-সম্পর্কিত রেফারেন্সও রয়েছে, যা তার দাবি অনুযায়ী সরকারি সাক্ষীদের বিবৃতির উপর ভিত্তি করে তৈরি। রাজা বলেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো শুনানি হচ্ছে না।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, দলটি সমস্ত আইনি পথ অবলম্বন করেছে এবং এখন পাকিস্তানের জনগণের সামনে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে। আরও পড়ুন: ট্রাম্পের জন্য চীনের চার ‘রেড লাইন’ বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাজা বলেন, দেশে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং খাইবার পাখতুনখোয়া ‘রক্তে ভেজা’। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলেও এমন কোনো বিধিনিষেধ ছিল না।’ একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিচার বিভাগকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং শাস্তি হিসেবে বিচারপতিদের অন্য প্রদেশে বদলি করা হচ্ছে। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। এরপর তার সরকার এবং পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে অনাস্থা ভোটে তাকে অপসারণ করা হয়। এরপর দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে ২০২৩ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকেই কারাগারে রয়েছেন তিনি।

Go to News Site