Jagonews24
চলতি বর্ষা মৌসুমেই চট্টগ্রাম নগরীকে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতামুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার (১৩ মে) চসিক কার্যালয়ে নগরীর খাল ও পানি নিষ্কাশন নালা সচল রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদারে গঠিত ১৯ সদস্যের কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় চসিক মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগে বর্ষাকালে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, মির্জাপুল, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিত। তবে ২০২৫ সালে এসব এলাকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বহদ্দারহাট, মির্জাপুল, চকবাজার, বাকলিয়া কিংবা আগ্রাবাদে আগের মতো পানি ওঠেনি। এটি সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। বিশেষ করে আর্মি ইঞ্জিনিয়ারিং এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতার ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বৈশাখ মাসে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেরই অংশ। গত বছর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুনচট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে দায়-দায়িত্বের সমন্বয়হীনতা ডা. শাহাদাত বলেন, নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত হকার বসানো এবং প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে নালা-খাল দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এসময় তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জোনভিত্তিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন এখন আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শত্রু। এগুলো নালা-খালে জমে পানি চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীও দূষিত হচ্ছে। সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম প্রবর্তক মোড় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির একটি ভবন এবং ইউএস কর্নার সংলগ্ন আরেকটি ভবন যে কোনো সময় ধসে পড়ে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে মেয়র চসিকের প্রধান প্রকৌশলীকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ভবন অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সভায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার বলেন, জলাবদ্ধতা ৮০ শতাংশ কমাতে যা যা প্রয়োজন আমরা করবো। ৩৬টি খালের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা সচল করা হবে। এমআরএএইচ/কেএসআর
Go to News Site