Collector
‘পদ্মা ব্যারেজে’ ভাগ্য বদলে যাবে কৃষকের, ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতির চাকা | Collector
‘পদ্মা ব্যারেজে’ ভাগ্য বদলে যাবে কৃষকের, ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতির চাকা
Somoy TV

‘পদ্মা ব্যারেজে’ ভাগ্য বদলে যাবে কৃষকের, ঘুরে দাঁড়াবে অর্থনীতির চাকা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় রাজবাড়ীর পাংশায় হতে যাচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ। অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের টাকায়।প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা থেকে খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্য রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থাপনাকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হয়েছে প্রকল্প নথিতে। পাশাপাশি সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ প্রকল্পের মূল অংশ হল পদ্মা ব্যারেজ, যা ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো হিসেবে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস ও নেভিগেশন লক। এ ছাড়া গড়াই অফ-টেক, চন্দনা অফ-টেক ও হিসনা অফ-টেক অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে প্রকল্পে। একই সঙ্গে ১১৩ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্যারেজ থেকে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফ-টেক থেকে ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় গড়াই-মধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং হিসনা নদী ব্যবস্থাপনায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ কিলোমিটার এফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে রাজশাহী অঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ বিঘ্নিত হয়। প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হয় কৃষকদের। পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ বিলিয়ন লিটার পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। প্রাণ ফিরে পাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সেচ প্রকল্পগুলো। আমূল বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্যও। আরও পড়ুন: পদ্মা ব্যারেজ আমাদের স্বার্থের ব্যাপার, ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই: এ্যানি কৃষকরা বলেছেন, পদ্মায় সারা বছর পানি থাকলে শুষ্ক মৌসুমে আর সমস্যায় পড়তে হবে না। নির্বিঘ্নে কৃষিকাজ করা যাবে। সেইসঙ্গে ঝামেলা ছাড়াই চরে যাতায়াত করা যাবে।  এদিকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ আমাদের স্বার্থের ব্যাপার। ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। গঙ্গা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন, সেটা চলছে।  পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প শুধু আঞ্চলিক নয় জাতীয় অর্থনীতিরও গেম চেঞ্জার হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা এখন গ্রাউন্ড ওয়াটারের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এখন সেটা না করে সার্ফেস ওয়াটারটা ব্যবহার করে ইরিগ্যাশনটা দিতে পারবো। পদ্মা ব্যারেজ হলে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠাণ্ডা রাখতে যে পানি ব্যবহার করা হবে সেটার সরবরাহও দিতে পারবো।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত এ পানি ব্যবস্থাপনায় গড়াই-আড়িয়াল খাঁসহ শাখা নদীগুলোর নাব্যতা ফিরে আসবে, লবণাক্ততা রোধ করে রক্ষা করা যাবে সুন্দরবনকে। এছাড়া রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির যোগানও নিরবচ্ছিন্ন হবে। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই সরকার ভালো একটা উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে এই অঞ্চলের কৃষকদের দাবি পূরণ হবে।’

Go to News Site