Somoy TV
খুলনাঞ্চলের কর্মহীন মানুষের বড় একটি অংশ জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাচ্ছেন নিয়মিত। প্রতি বছর বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতারণার ঘটনা। কাজের নিশ্চয়তা না পেয়ে অনেকে ফিরে আসছেন শূন্য হাতে, কেউ আবার হারাচ্ছেন জীবনের সঞ্চয়। এতে একদিকে ব্যক্তিগত বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহেও।কারিগরি দক্ষতার ঘাটতি, নির্ভরযোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির অভাব এবং পর্যাপ্ত সরকারি সচেতনতা কার্যক্রম না থাকায় বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন খুলনার বহু প্রবাসপ্রত্যাশী। অবৈধ এজেন্সি ও দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই বিদেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন।এমনই একজন খুলনার লবণচরা এলাকার মেহেদী হাসান। গত বছর জুলাই মাসে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে যান। তবে সেখানে গিয়ে চুক্তি রাখেনি প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা থাকলেও করে দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে সেখানে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। কাজের কথা জানতে চাইলে তাকে নির্যাতন করা হতো।মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার আগে তাকে নির্দিষ্ট কোম্পানিতে ভালো বেতনের কাজের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি কোনো কাজ পাননি। এজেন্সির লোকজনও পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বাধ্য হয়ে ঋণ করে দেশে ফিরতে হয়েছে। এখন সেই ঋণের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।’ খুলনায় জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে বিদেশগামীদের সংক্ষিপ্ত তিনদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ছবি: সময় সংবাদএকই অভিজ্ঞতা শাকিল হোসেনের। মালয়েশিয়ায় কাজের কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো কাজ না পেয়ে এক মাস অপেক্ষার পর নিজ খরচে দেশে ফিরতে হয় তাকে। শাকিল হোসেন বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার পর শুরুতে বলা হয়েছিল সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজই ছিল না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কিছু না পেয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন তিনি।’ আব্দুল জলিল জানান, কুয়েত যাওয়ার জন্য জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো কাজ না পেয়ে দালালদের প্রতারণার শিকার হন।বিদেশে যাওয়ার আগে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে তিন দিনের একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দেওয়া হলেও এটিকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কারিগরি প্রশিক্ষণ বাড়ানো, বৈধ রিক্রুটিং চ্যানেল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর জনশক্তি জরিপ কর্মকর্তা শেখর কুমার শীল বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে যে ব্রিফিং দেওয়া হয় তা প্রাথমিক পর্যায়ের। বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় এটি খুবই সীমিত। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং বৈধ এজেন্সি সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন করা না গেলে এই সমস্যা কমবে না। প্রতারিত হয়ে খুলনা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে অভিযোগ দিচ্ছেন একজন ভুক্তভোগী। ছবি: সময় সংবাদকর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন জানান, প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেলে তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে অনেক সময় অভিযোগ দেরিতে আসায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সমস্যা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে খুলনা অঞ্চল থেকে আট হাজারের বেশি মানুষ বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি গেছেন সৌদি আরবে। আর গত ছয় মাসে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন ৬৮ জন।
Go to News Site