Somoy TV
এক বছরে দুর্নীতিবাজদের দেশ-বিদেশে থাকা ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আইনি আদেশ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে দেশে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করলেও বিদেশে থাকা সম্পদে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনি মারপ্যাচে আটকে আছে জব্দের প্রক্রিয়া। তাই দেশের সম্পদ দ্রুত রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে।গাজীপুরে শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকের বাগানবিলাস নামে বিশাল বাগানবাড়ি। জেলার ফাওকাল এলাকাতেও ডুপ্লেক্স ভবনসহ এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। এসব বাড়ি ছাপিয়ে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় রয়েছে তারিক সিদ্দিকের প্লট ও ফ্ল্যাট। বারিধারা আবাসিকের পার্ক ভ্যালিতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ছাড়াও আছে বারিধারা ডিওএইচএসে ৭ তলা বাড়ি। আদালতের আদেশে ইতোমধ্যে এসব সম্পদ জব্দ করেছে দুদক। অন্যদিকে, গত বছরের জুনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের যুক্তরাজ্যে থাকা ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩৪৩টি বাড়ি এবং ৩৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ সম্পদ ফ্রিজ করেছে সেদেশের-এনসিএ। দুদকের তৎপরতার পরই এই পদক্ষেপ নেয় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।আরও পড়ুন: আরও ২ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন আবেদনদুদকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের দেশে-বিদেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দেন আদালত। এর মধ্যে দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা, আর বাকি সম্পদ রয়েছে বিদেশে।দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ বলেন, তবে বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দের ক্ষেত্রে দুদকের সফলতার রেকর্ড খুব একটা দীর্ঘ নয়।দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলামাত বলেন, কাগজে-কলমে জব্দ দেখানো হলেও বাস্তবে সম্পদ ফিরিয়ে আনা বেশ কঠিন।জাতীয় দুর্নীতি বিরোধী সমন্বয় কমিটির সাবেক জেলা জজ ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. শাহজাহান সাজু বলেন, কেবল জব্দ করলেই হবে না। আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরাতে হবে।দুর্নীতিবাজদের লুট করা সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে নিতে সরকারের সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
Go to News Site