Collector
হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ‘কুয়াকাটা হুজুরের’ ৫ ষাঁড় | Collector
হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ‘কুয়াকাটা হুজুরের’ ৫ ষাঁড়
Jagonews24

হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ‘কুয়াকাটা হুজুরের’ ৫ ষাঁড়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার কোরবানির পশুর হাটে এবার আলোচনায় রয়েছে এক খামারের পাঁচটি বিশালাকৃতির ষাঁড়। দেশব্যাপী ‘কুয়াকাটা হুজুর’ খ্যাত হাবিবুর রহমান মিছবাহ নিজের খামারে কোরবানি উপলক্ষে প্রস্তুত করেছেন এসব পশু। আকার-আকৃতি ও ওজনের কারণে এরই মধ্যে পশুগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। খামার সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ পরিচর্যা, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে পশুগুলো বড় করা হয়েছে। দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের এসব ষাঁড় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে বলে দাবি খামার মালিকের। প্রতিটি পশুর ওজন এক হাজার কেজিরও বেশি, যা হাটে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারা জানান, এগুলোর মধ্যে অল্প কিছু দেশীয় জাতের পশু হলেও বেশিরভাগ শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। ২০ মণের একটি ষাঁড়ের দাম হাঁকানো হয়েছে ১৯ লাখ টাকা। বাকিগুলোর দামও হাঁকিয়েছে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। আরও পড়ুন- চুলের স্টাইলে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, গোলাপি রঙের মহিষ ঘিরে কৌতূহলবগুড়ার পশুর হাটে বিএনপি সিন্ডিকেটের দাপটবরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’ খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহিন বলেন, আমরা দুইজন লোক সার্বক্ষণিকভাবে গরুগুলোর দেখাশোনা করি। প্রতিদিন নিজ হাতে তৈরি সাইলেজ, তাজা ঘাস ও খড় খাওয়ানো হয়। পশুগুলোর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গোসল করানো হয়। খামারের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলেন, শুরুটা ছিল একেবারেই শখ থেকে। মাত্র দুটি গাভী দিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করি। ধীরে ধীরে আল্লাহর রহমতে ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে আজ এটি একটি সুসংগঠিত খামারে পরিণত হয়েছে। গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে আমরা নিরলসভাবে এই পশুগুলোর পরিচর্যা করেছি। নিয়মিত খাবার, সঠিক পুষ্টি ও যত্নের মাধ্যমে পশুগুলোকে কোরবানির উপযোগী করে গড়ে তুলেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো প্রকার ক্ষতিকর মেডিসিন, হরমোন বা অননুমোদিত খাদ্য ব্যবহার করিনি। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করেছি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে পশুগুলোর সুস্থতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল এলাকার সবচেয়ে বড় ও স্বাস্থ্যবান কোরবানির পশু প্রস্তুত করা। এবার আমরা বিশেষভাবে পাঁচটি বড় ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। এগুলোর ওজন এক হাজার কেজির বেশি। আশা করছি, কুয়াকাটার হাটে এই পশুগুলো ক্রেতাদের নজর কাড়বে এবং ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হবে। কেউ যদি একসঙ্গে ক্রয় করেন, তার জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণাও রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছরই কুয়াকাটার পশুর হাটে বড় আকারের গরুর চাহিদা থাকে। এ বছরও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বিশালাকৃতির এসব ষাঁড় হাটে উঠলে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন রাজু বলেন, এলাকায় প্রতি বছরই বড় পশু বাজারজাত করা হয়, তবে এ বছর বিশেষভাবে নজর কাড়বে এই খামারের ষাঁড়গুলো। অনেকে শুধু দেখার জন্যই আসছেন বলেও জানান তিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ খান বলেন, প্রতি বছরই কোরবানির পশুর সংখ্যা এই উপজেলায় বাড়ছে। চলতি বছরও পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত বাজার ও খামার পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার না করা হয়। আমরা খামারিদের স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতিতে পশু লালনের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। ঈদের আগে এবং হাটের সময় বিশেষ নজরদারি থাকবে। আসাদুজ্জামান মিরাজ/এফএ/এমএস

Go to News Site