Somoy TV
ঝিনাইদহের মহেশপুরে তুষার সিরামিক কারখানার অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশ। কারখানার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও অপরিশোধিত বর্জ্যরে কারণে নষ্ট হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি। মারা গেছে শত শত গাছ। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই তিন ফসলি জমিতে নতুন করে বাড়ানো হচ্ছে কারখানার পরিধি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সাড়াতলা এলাকার জিয়ার খালটি কারখানার বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে অনেক আগে। ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে মাঠে প্রায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারা গেছে খালপাড়ের শত শত গাছ। পেছনের কৃষি জমিতে থাকা খেজুর গাছের পাতা অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। ঠিকমতো বেড়ে উঠছে না পটল, কলা, ড্রাগনসহ নানা ফসল। মহাসড়কের পাশে তুষার সিরামির কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ওই এলাকার কৃষি ও পরিবেশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে পাশের জমিগুলোতে মিলছে না আগের মতো ফলন। শুধু ফসলই নয় মারা যাচ্ছে ফলজ ও বনজ গাছ। আয়ের একমাত্র উৎস কৃষি জমিতে ফসল না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার শত শত কৃষক।এ বিষয়ে রিপন হোসেন নামে এক কৃষকের অভিযোগ, তুষার সিরামিক কারখানার ধোঁয়ার কারণে আমাদের মাঠে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারখানার ধোঁয়া আর বর্জ্যেরে কারণে কয়েক মৌসুম ধরে জমিতে ঠিকমত ফলন হচ্ছে না।আরও পড়ুন: কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে পরিবেশ-কৃষিতে বিপর্যয়, প্রশাসনের নজর পড়বে কবে?লাল্টু হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, ‘কারখানা এতদিন চলছিলো তাতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এখন আবার নতুন করে কারখানার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অনেক কৃষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক আবার অনেকের কাছ থেকে কৌশলে জমি কিনছেন তারা। জমি কিনে সেই জমিতে মাটি ও ধুলা রাখছেন। সেই বর্জ্য পাশে জমিতে গিয়ে পড়ছে। যেখানে কোনো ফসল ফলাতে পারছে না। উপায় না পেয়ে কৃষক জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।’অন্তর নামে এক কৃষক বলেন, ‘আমাদের এলাকার তিন ফসলি জমিতে কারখানা দিন দিন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়েই তারা এই কাজ করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে কারখানার গেলে আবাসিক পরিচালক মো. ওয়াহেদুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।আরও পড়ুন: এখনো থেমে থেমে জ্বলছে আগুন, বিষাক্ত বর্জ্যে সড়ক একাকারএ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘তিন ফসলি জমিতে কোনোভাবেই কারখানার বৃদ্ধি করার সুযোগ নেই। তুষার সিরামিক যদি এটি করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান বলেন, ‘কারখানার বৃদ্ধির জন্য তাদের কোনো ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। কারখানার বর্জ্যে গত বছর অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। সেই সময় তারা ক্ষতিপূরণও দিয়েছিলো। এবারও যদি একই কাজ করে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
Go to News Site