Collector
রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করেও সেই মানের সম্মানী পাই না | Collector
রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করেও সেই মানের সম্মানী পাই না
Jagonews24

রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করেও সেই মানের সম্মানী পাই না

সরকারি কৌঁসুলিদের কার্যকর ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হলে তাদের সম্মানী বৃদ্ধি, সময়মতো পরিশোধ এবং একটি স্বচ্ছ ও সহজ পেমেন্ট কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এমনটাই মনে করেন ঢাকা মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, স্বল্প সম্মানী ও দীর্ঘসূত্রতায় বিল পরিশোধ না হওয়ায় অনেক প্রসিকিউটর মানবেতর জীবনযাপন করছেন, যা বিচার কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমান বাস্তবতায় দক্ষ আইনজীবীদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রসিকিউশন খাতের জন্য আলাদা বাজেট, সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাগো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব বিষয় তুলে ধরেন সরকারের এই কৌঁসুলি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আশিকুজ্জামান আশিক। জাগো নিউজ: সরকারি প্রসিকিউটরদের বর্তমান আর্থিক অবস্থা আপনি কীভাবে দেখছেন?ওমর ফারুক ফারুকী: বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারি প্রসিকিউটররা খুবই স্বল্প সম্মানীতে কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে আমরা দৈনিক ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার মতো পারিশ্রমিক পাই, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একজন আইনজীবী সাধারণ মক্কেলের কাছ থেকেও যেখানে অন্তত এক হাজার টাকা পান, সেখানে রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করেও আমরা সেই মানের সম্মানী পাই না। এর ফলে জীবনযাত্রা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। জাগো নিউজ: শুধু কম সম্মানী নয়, অর্থ প্রাপ্তিতেও কি কোনো সমস্যা রয়েছে?ওমর ফারুক ফারুকী: অবশ্যই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, সম্মানী নিয়মিত পাওয়া যায় না। অনেক সময় বিল জমা দেওয়ার পর ছয় থেকে আট মাস, এমনকি কখনও বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। এই দীর্ঘসূত্রতা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও অমানবিক। নিয়মিত আয় না থাকলে একজন পেশাজীবীর পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়। জাগো নিউজ: এই পরিস্থিতির প্রভাব আদালতের কার্যক্রমে কতটা পড়ে?ওমর ফারুক ফারুকী: এর প্রভাব সরাসরি বিচার ব্যবস্থার ওপর পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে প্রসিকিউটররা নিয়মিত আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেন না। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে এই পদ থেকে সরে যান। এতে মামলার কার্যক্রমে বিলম্ব হয় এবং বিচারপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। জাগো নিউজ: এত প্রতিকূলতার পরও কেন আইনজীবীরা এই পদে আসতে আগ্রহী হন?ওমর ফারুক ফারুকী: এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বীকৃতির কারণেই অনেকেই এই পদে আসেন। একজন আইনজীবীর জন্য সরকারি প্রসিকিউটর হওয়া একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি তার রাজনৈতিক পরিচিতি ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ায়। অনেকেই তাদের পরিচয়ের অংশ হিসেবে এই পদকে গুরুত্ব দেন। জাগো নিউজ: এই পেশায় টিকে থাকার জন্য ব্যক্তিগতভাবে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়?ওমর ফারুক ফারুকী: আমাদের অনেকেই ব্যক্তিগত চেম্বার বা অন্য আয়ের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। কারণ শুধু সরকারি সম্মানী দিয়ে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি মানসিক চাপও থাকে। একদিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে আর্থিক অনিশ্চয়তা। এই দ্বৈত চাপ পেশাগত দক্ষতাকেও প্রভাবিত করে। জাগো নিউজ: এই পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ আশা করছেন?ওমর ফারুক ফারুকী: প্রথমত, সম্মানী বাস্তবসম্মত হারে বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমান বাজার অনুযায়ী একটি মানসম্মত পারিশ্রমিক নির্ধারণ জরুরি। দ্বিতীয়ত, প্রসিকিউশন খাতের জন্য আলাদা বাজেট থাকতে হবে, যাতে অর্থ ছাড়ের জন্য দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়তে না হয়। এতে আমরা নিয়মিত ও সময়মতো সম্মানী পেতে পারব। জাগো নিউজ: পেমেন্ট ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন?ওমর ফারুক ফারুকী: পেমেন্ট সিস্টেমকে ডিজিটাল ও সরাসরি করতে হবে যেন বাজেট থেকে টাকা সরাসরি প্রসিকিউটরদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যায়। এখন যেভাবে ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘোরে, এতে সময় নষ্ট হয় এবং দুর্ভোগ বাড়ে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো খুব জরুরি। জাগো নিউজ: এই সংকট নিরসন না হলে ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?ওমর ফারুক ফারুকী: যদি দ্রুত সমাধান না আসে, তাহলে দক্ষ ও সৎ আইনজীবীরা এই পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার মান কমে যেতে পারে, যা বিচার ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। তাই প্রসিকিউটরদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।ওমর ফারুক ফারুকী: জাগো নিউজকেও অনেক ধন্যবাদ। এমডিএএ/এমএমএআর/এমএস

Go to News Site