Somoy TV
চিকিৎসক সংকটে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে মাগুরার তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা।শালিখা, শ্রীপুর ও মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ও গাইনি চিকিৎসকের অভাবে মাসের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা। ফলে গর্ভবতী নারীরা বাধ্য হয়ে ছুটছেন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ভোগ।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অপারেশন থিয়েটারে আধুনিক বেড, আলোকসজ্জা, স্যালাইন স্ট্যান্ডসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাসে দু’একদিন একজন চিকিৎসক তিন উপজেলায় গিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল।আরও পড়ুন: রাজধানীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য, পদে পদে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকাশালিখা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রসূতি রাবেয়া খাতুনের স্বামী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সিজার করার জন্য ভর্তি হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি ডাক্তার নেই। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।’শ্রীপুর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা নাসিমা খাতুন বলেন, ‘গরিব মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালই ভরসা। কিন্তু এখানে অপারেশন বন্ধ থাকায় দূরের ক্লিনিকে যেতে হয়। টাকা তো খরচ হয় সেইসঙ্গে ভোগান্তির শেষ নেই।’মাগুরার শ্রীপুর মানব উন্নয়ন সংসদের সভাপতি ড. মুসাফির নজরুল বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে উপজেলা পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। না হলে সাধারণ মানুষ আরও ভোগান্তিতে পড়বেন।’আরও পড়ুন: ‘সিজারে ২ হাজার, নর্মালে ১ হাজার’ কমিশন বাণিজ্যের বলি নবজাতকএ ব্যাপারে মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অপারেশনের সব ধরনের সরঞ্জাম ও পরিবেশ প্রস্তুত আছে। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করা যাচ্ছে না। চিকিৎসক পদায়ন হলেই পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা চালু করা সম্ভব হবে।’স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক পদায়ন করা হলে প্রতি মাসে অন্তত ২০০ প্রসূতি সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেবা পেতেন।
Go to News Site