Collector
বিগ ব্যাশ ছেড়ে এসএ২০’তে খেলার খবরকে ‘বানোয়াট’ বললেন কামিন্স | Collector
বিগ ব্যাশ ছেড়ে এসএ২০’তে খেলার খবরকে ‘বানোয়াট’ বললেন কামিন্স
Somoy TV

বিগ ব্যাশ ছেড়ে এসএ২০’তে খেলার খবরকে ‘বানোয়াট’ বললেন কামিন্স

বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লোভনীয় পারিশ্রমিকের সামনে ক্রমে অবহায় হয়ে পড়ছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগ বিগ ব্যাশের সঙ্গে বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর পারিশ্রমিকের ব্যবধান বাড়ছে ক্রমেই। যে কারণে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ক্রিকেটাররা ভবিষ্যতে বিগ ব্যাশ (বিবিএল) ছেড়ে এসএ২০ খেলতে যেতে পারেন, কিন্তু এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যদি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) দ্রুত বাড়তে থাকা টি-টোয়েন্টি বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলোয়াড়দের বেতন না বাড়ায়, তাহলে প্যাট কামিন্সসহ অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার ২০২৮ সাল থেকে জানুয়ারি উইন্ডোতে এসএ২০’কে অগ্রাধিকার দিতে 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' (এনওসি) নেওয়ার কথা ভাবছেন।প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার বহুমুখী তারকা ক্রিকেটাররা বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করছেন, যা বর্তমান বিগ ব্যাশ চুক্তির তুলনায় অনেক বেশি। এতে সতর্ক করা হয় যে, পারিশ্রমিকের এই ব্যবধান বাড়তে থাকলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় তারকাদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।তবে কামিন্স প্রকাশ্যে এই দাবি ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ওই প্রতিবেদনের সাংবাদিককে জবাব দেন।এক্স হ্যান্ডেলে অজি অধিনায়ক লিখেছেন, ‘এসএ২০-এর এনওসি আর দ্য হান্ড্রেডের প্রস্তাব নিয়ে আপনি আমার সম্পর্কে যা লিখেছেন, সবই বানানো।’ আরও পড়ুন: বিগ ব্যাশের দলের কোচ হচ্ছেন ফ্লিনটফপ্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছিল, ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড থেকে পেসার জশ হ্যাজেলউড এবং মিচেল স্টার্ককে প্রায় ৮ লাখ ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাড়তে থাকা আর্থিক আকর্ষণকে স্পষ্ট করে।যদিও কামিন্স বিগ ব্যাশ ছাড়ার গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এবং অস্ট্রেলিয়ান ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার সিএ-এর প্রাথমিক চুক্তি প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন। আলোচনা চলছিল নিশ্চিত পারিশ্রমিক, ম্যাচ ফি এবং বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে এনওসি পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা নিয়ে।অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি স্বীকার করেছেন যে বাজারে 'চাপা উত্তেজনা' রয়েছে, কারণ খেলোয়াড়রা জাতীয় দায়িত্ব এবং বিদেশি লিগের মোটা অঙ্কের প্রস্তাবের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছেন।বেইলি বলেন, চুক্তির এই পর্যায়ে এমন পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়, তবে তিনি এটাও মেনে নেন যে বিগ ব্যাশের বেতন এবং বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের আয়ের ব্যবধান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ সাদা বলের ক্রিকেটারদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।প্রতিবেদনটিতে কামিন্সের একটি মন্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে তিনি সতর্ক করেন যে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা এখনো দেশের হয়ে খেলতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি বাজারের আর্থিক বাস্তবতা একসময় উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।কামিন্স বলেছিলেন, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় মাত্র ২০ দিনের কাজের জন্য পাঁচ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে, শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট খেলতে।’তিনি আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে এতটাই আগ্রহী যে তারা এই অর্থ ছাড়তে রাজি। কিন্তু আমি মনে করি না, ভবিষ্যতেও সবসময় এমনটাই থাকবে।’ আরও পড়ুন: নারী দলের সাবেক উইকেটকিপারকে পুরুষদের ফিল্ডিং কোচ বানাল ইংল্যান্ডজানা গেছে, সিএ বিগ ব্যাশকে আরও শক্তিশালী করতে কয়েকটি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি ড্রাফট পদ্ধতি বাতিল করে সেই অর্থ স্থানীয় তারকা ক্রিকেটারদের ধরে রাখতে ব্যয় করার সম্ভাবনাও।ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রধান জেমস অ্যালসপও স্বীকার করেছেন, বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দ্রুত বিস্তার, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি সার্কিটের আর্থিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

Go to News Site