Collector
শিক্ষকদের দেয়া তালা কেটে প্রশাসনিক ভবন খুললেন ববি উপাচার্য | Collector
শিক্ষকদের দেয়া তালা কেটে প্রশাসনিক ভবন খুললেন ববি উপাচার্য
Somoy TV

শিক্ষকদের দেয়া তালা কেটে প্রশাসনিক ভবন খুললেন ববি উপাচার্য

পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দেয়া তালা কেটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, অর্থ দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়ের তালা অপসারণ করা হয়। তালা খোলার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ দপ্তরে প্রবেশ করে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করেন। পরে উপাচার্য বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর পরিদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতি ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে গত ২১ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ১১ মে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে  কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।শিক্ষকদের দ্বিতীয় দফার শাটডাউন কর্মসূচির চতুর্থ দিনেও ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনের কারণে এখন পর্যন্ত ৪৬টি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে সেশনজটের শঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।বিশেষ করে অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তারা সময়মতো ফলাফল পাচ্ছেন না। ফলে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতেও সমস্যায় পড়ছেন তারা।আরও পড়ুন: বরিশালে হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্র‍ী, কর্মী বরখাস্তএদিকে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে উপাচার্যের বৈঠকে প্রশাসনিক দপ্তরের তালা খুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিলেও শিক্ষকরা আলোচনায় অংশ নেননি বলে জানা গেছে।রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির জানান , উপাচার্যের নির্দেশে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর তালা অপসারণ করা হয়েছে এবং এখন থেকে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চলবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ দপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক কাজে গতি ফিরবে।বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কিছু শিক্ষকের পদোন্নি সংক্রান্ত জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা সমীচীন নয়। তিনি দ্রুত শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান।অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইলেও তারা সাড়া দেননি। প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতেই দপ্তরগুলোর তালা অপসারণ করা হয়েছে।উল্লেখ্য, ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রশাসনিক দপ্তর চালু হওয়ায় দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কিছুটা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Go to News Site