Collector
ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন ট্রানজিট চালুর দাবি দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের | Collector
ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন ট্রানজিট চালুর দাবি দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের
Somoy TV

ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন ট্রানজিট চালুর দাবি দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের

আগামী জুনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-টোকিও সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। একই সঙ্গে তারা এই রুটে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের ট্রানজিট বা স্টপওভার সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন।প্রবাসীদের মতে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, পর্যটন ও পারিবারিক যোগাযোগ দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গবেষক ও পেশাজীবী বসবাস করছেন। তাদের একটি বড় অংশ নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর অনেক কর্মী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে সরাসরি ঢাকা-কোরিয়া ফ্লাইট না থাকায় যাত্রীদের অধিকাংশ সময় তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, ভাড়া তুলনামূলক বেড়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে ট্রানজিট জটিলতায় পড়তে হয়। বিশেষ করে পরিবারসহ ভ্রমণকারী, বয়স্ক যাত্রী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের জন্য এ ধরনের যাত্রা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয় কোরিয়া বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যেও নেতিবাচ প্রভাব পড়ে। এই বাস্তবতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের ট্রানজিট বা স্টপওভার সুবিধা চালুর দাবি তুলেছেন কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের মতে, এই সুবিধা চালু হলে বাংলাদেশি যাত্রীরা সহজেই ঢাকা থেকে ইনচন হয়ে টোকিও কিংবা ইনচন থেকে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। এতে কোরিয়াগামী ও কোরিয়া থেকে বাংলাদেশগামী যাত্রীদের জন্য আরও কার্যকর, সুবিধাজনক ও সম্ভাবনাময় আকাশপথ তৈরি হবে। এ দাবিকে সামনে রেখে প্রবাসীরা অনলাইনে একটি মতামত সংগ্রহ ও আবেদনভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল চালু করেছেন। পোর্টালটির নাম: petition2biman.com আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও দ. কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতার অঙ্গীকার এই পোর্টালের মাধ্যমে কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি, বাংলাদেশ থেকে কোরিয়ায় যাতায়াতকারী ব্যক্তি এবং ভবিষ্যতে এই রুট ব্যবহার করতে আগ্রহীরা নিজেদের মতামত ও আবেদন জানাতে পারবেন। ইতিমধ্যে ১১’শ’র বেশি প্রবাসীরা আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেছেন। আয়োজকদের ভাষ্য, “এটি কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়; বরং কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী দাবি। ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন ট্রানজিট চালু হলে হাজারো প্রবাসী সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীসংখ্যা, ব্র্যান্ড ভ্যালু ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বাড়বে।” তারা আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারী দেশ। শ্রমবাজারের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও শিল্পখাতে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। তাই দুই দেশের মানুষের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্লেষকদের মতে, ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র। ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচনকে স্বল্প ট্রানজিট বা স্টপওভার হিসেবে বিবেচনা করা হলে বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে শুধু প্রবাসী যাত্রী নয়, ব্যবসায়ী, পর্যটক, শিক্ষার্থী ও কর্পোরেট যাত্রীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যে পদক্ষেপ নিলো দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসীদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্যও এটি একটি বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় সিদ্ধান্ত হবে। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াতকারী কোরিয়ান নাগরিক মিলিয়ে একটি বড় যাত্রীভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে এসব যাত্রী বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্স ব্যবহার করতে বাধ্য হন। ইনচন ট্রানজিট চালু হলে তাদের বড় একটি অংশ জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ব্যবহারে আগ্রহী হবেন। এ বিষয়ে প্রবাসী কমিউনিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস, সিউল; বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে। প্রবাসীদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ঢাকা-টোকিও রুটে ইনচন ট্রানজিট বা স্টপওভার চালুর মাধ্যমে কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার একটি বাস্তবসম্মত সমাধান দেবে।

Go to News Site