Collector
ম্যাক্রোঁকে স্ত্রী ব্রিজিতের চড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো নতুন বইতে | Collector
ম্যাক্রোঁকে স্ত্রী ব্রিজিতের চড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো নতুন বইতে
Somoy TV

ম্যাক্রোঁকে স্ত্রী ব্রিজিতের চড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো নতুন বইতে

তখন ঘটনাটিকে নিছক হাসি-ঠাট্টা বলেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছিলেন, ভিয়েতনামে রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্টের বিমান অবতরণের সময় তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ মজা করেই তার মুখে হাত দিয়ে ঠেলে দিয়েছিলেন।তবে ম্যাক্রোঁ দম্পতিকে নিয়ে প্রকাশিত একটি নতুন বইতে সেই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। গত বছরের মে মাসে হ্যানয় বিমানবন্দরে এয়ারবাসের দরজা খোলার পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্তের কথা উঠে এসেছে বইটিতে। ‘প্যারিস ম্যাচ’ নামে এক সাময়িকীর রাজনৈতিক প্রতিবেদক ফ্লোরিয়ান তারদিফের লেখা ‘অ্যান (অলমোস্ট) পারফেক্ট কাপল’ — বইয়ে দাবি করা হয়েছে, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী গোলশিফতেহ ফারাহানির কাছ থেকে প্রেসিডেন্টের ফোনে আসা একটি বার্তা দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফারাহানি তাদের সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জন অস্বীকার করেন। তারদিফের দাবি, ওই বার্তাটি দেখে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ আশঙ্কা করেছিলেন যে, তার স্বামী হয়তো তাকে ছেড়ে ফারাহানির কাছে চলে যেতে পারেন। যদিও ফার্স্ট লেডির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা প্যারিসিয়ে-কে জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চে তারদিফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ অস্বীকার করেছিলেন যে, কোনো টেক্সট মেসেজের কারণে তিনি স্বামীকে চড় মেরেছিলেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, তিনি পরিষ্কার করে বলেছিলেন যে তিনি কখনোই স্বামীর ফোন তল্লাশি করেন না। আরও পড়ুন: ম্যাক্রোঁ তার স্ত্রীর ঘুষির ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেননি: ট্রাম্প ৪২ বছর বয়সি ফারাহানি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কোনো প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তারদিফও সম্পর্কটিকে ‘প্লেটোনিক’ বা নিছক বন্ধুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে নিজের বইয়ের প্রচারের সময় আরটিএল রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট অভিনেত্রীকে এমন কিছু বার্তা পাঠিয়েছিলেন যা ‘অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছিল’, যেমন: ‘আমি তোমাকে খুব সুন্দর মনে করি।’ বইটিতে বলা হয়েছে, অভিনেত্রীর পাঠানো একটি বার্তাকে কেন্দ্র করেই প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীর মধ্যে তর্ক শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত ওই চড়ের ঘটনায় গড়ায়। লেখকের ভাষায়, ‘বইটিতে যা লেখা হয়েছে, সবই সত্য ঘটনা।’ দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্সের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রপ্রধানদের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের নানা কাহিনি নতুন কিছু নয়। তাই এসব দাবি ভোটারদের কাছে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর জনপ্রিয়তায় বড় কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ তার জনপ্রিয়তা এমনিতেই বেশ নিচের দিকে। বরং এসব আলোচনা হয়তো সেই গুঞ্জন কমাতে সাহায্য করবে যে তিনি নারীদের প্রতি আগ্রহী নন। ফরাসি রাজনীতির পুরনো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় এমন ধারণাকে অনেক সময় আরও ক্ষতিকর হিসেবে দেখা হয়। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। বইটি প্রকাশের পর আবারও সামনে এসেছে সেই ঘটনাটি, যা প্যারিস ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছিল। এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিতে ফ্রান্সের অস্বীকৃতি নিয়ে ম্যাক্রোঁকে কটাক্ষ করার সময় ওই ‘চড়ের ঘটনা’ উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, তার ফরাসি সমকক্ষের ‘স্ত্রী তার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেন, তিনি এখনও চোয়ালের ডান পাশের আঘাত থেকে সেরে উঠছেন।’ জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাব না… এই মন্তব্যগুলোর জবাব দেওয়ার মতো গুরুত্ব নেই।’ তবে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভদ্রোচিত নয় এবং মানসম্মতও নয়’ বলে মন্তব্য করেন। বইয়ের লেখক ফ্লোরিয়ান তারদিফ জানান, বই লেখার সময় তিনি ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছেন। মার্চে এক সাক্ষাতে ব্রিজিত নিজেই ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষায়, কঠিন এক বিমানযাত্রার পর তিনি ‘খুব ক্লান্ত’ ছিলেন। আরও পড়ুন: ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে ‘গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্রে’র অভিযোগ মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকারের তিনি বলেন, ‘ফ্লাইটে প্রচণ্ড কম্পন ছিল, তাই আমি ঘুমাতে পারিনি। তখন আমার একদমই বিমান থেকে নামতে ইচ্ছা করছিল না। সে আমাকে হাসানোর চেষ্টা করছিল। সে আমাকে একটু পানি দিয়েছিল, আর আমি তাকে সরিয়ে দিই।‘ তার এই ব্যাখ্যা গত বছর প্রকাশিত ফরাসি সাময়িকী ভয়েসি-এর এক প্রতিবেদনের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। সেখানে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারা জানিয়েছিলেন, ম্যাক্রোঁ তার দেহরক্ষীদের সঙ্গে মজা করছিলেন এবং তাদের দিকে পানি ছুড়ে দেওয়ার ভান করছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৩ বছর বয়সি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ তখন স্বামীকে বলেছিলেন, ‘আমার গায়ে পানি দিও না, আমি তো সবে তৈরি হয়েছি।’ এর আগে এলিসি প্রাসাদ থেকেও ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার একাধিক চেষ্টা করা হয়েছিল। শুরুতে উপদেষ্টারা ভিডিওটিকে ভুয়া বলে দাবি করেছিলেন। পরে ম্যাক্রোঁ স্বীকার করেন ভিডিওটি আসল, তবে তিনি জানান, ‘আমার স্ত্রী আর আমি একটু খুনসুটি করছিলাম, মজা করছিলাম, আর আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলাম।’ ফ্লোরিয়ান তারদিফের দাবি, ওই বিমানযাত্রার সময় ম্যাক্রোঁ দম্পতির মধ্যে দ্বন্দ্ব বেশ তীব্র ছিল। তিনি দম্পতির ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, ফার্স্ট লেডি এমন একটি ‘বার্তা দেখে ফেলেছিলেন, যা তার কখনোই পড়ার কথা ছিল না।’ তারদিফের ভাষ্য অনুযায়ী, গোলশিফতেহ ফারাহানির পাঠানো ওই বার্তাকে ঘিরে তাদের মধ্যে এমন এক তর্ক শুরু হয়, যা ছিল ‘স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ এবং অনেক বেশি তিক্ত।’ আরও পড়ুন: ফরাসি ফার্স্টলেডিকে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে ১০ জনের বিচার শুরু প্যারিস ম্যাচ সাময়িকীতে প্রকাশিত বইয়ের একাংশে লেখা হয়েছে, ‘ব্রিজিতকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছিল বার্তার ভাষা নয়, বরং সেটি যে ইঙ্গিত বহন করছিল তা। সেখানে বাস্তবে প্রমাণ করার মতো কিছু ছিল না, সরাসরি অভিযোগ আনার মতোও কিছু নয়, কিন্তু সেই সম্ভাবনার ধারণাটুকুই যথেষ্ট ছিল।’ তারদিফ ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর এক বন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, ‘তিনি নিজেকে যেন ধীরে ধীরে মুছে যেতে দেখছিলেন।’ বইটির এসব দাবির বিষয়ে মন্তব্য জানতে দ্য টাইমস এলিসি প্রাসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। গত বছর এ ধরনের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফারাহানি দুবারই তা অস্বীকার করেছিলেন। মার্চে লা পয়েন্ট-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় কিছু মানুষের জীবনে ভালোবাসার অভাব আছে, তাই তারা সেই শূন্যতা পূরণ করতে এমন গল্প বানায়।’ আর আগস্টে গালা ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, ‘গুজবে কান দিতে হয় না। তা ন্যায্য হোক বা অন্যায্য, শেষ পর্যন্ত সেগুলো শুধু গুজবই। এগুলো ঢেউয়ের মতো, আসে আবার চলে যায়।’ আরও পড়ুন: নেদারল্যান্ডসে শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্রে আগুন দিলো দাঙ্গাবাজরা ফারাহানি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা একজন অভিনেত্রী। দ্য পিয়ার ট্রি’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ইরানে ব্যাপক পরিচিতি পান।  তবে ২০০৮ সালে খ্যাতনামা মার্কিন অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর সঙ্গে রিডলি স্কট পরিচালিত ‘বডি অব লাইস’ সিনেমায় হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার পর ইরানের ইসলামি শাসকগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। প্রথমে তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও পরে তিনি ফ্রান্সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ২০১২ সালে লা ফিগারো-র জন্য টপলেস ছবি তুলে তিনি নিজ দেশে আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেন। অনেকেই এটিকে তেহরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখেছিলেন। এর জেরে তাকে ইরানে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও তিনি অনুতপ্ত হননি এবং সেই বছরই ফরাসি অস্কার-সমতুল্য সিজার পুরস্কারের প্রচারমূলক একটি চলচ্চিত্রের জন্য আবারও নিজের বক্ষ উন্মুক্ত করেন। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস

Go to News Site