Somoy TV
বাড়তি পরিচর্যা ও মনোযোগ দিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে হৃষ্টপুষ্ট করা কিছু আকর্ষণীয় ও মূল্যবান গরুর দেখা মিলেছে যশোরের একটি খামারে। যার মধ্যে ব্রাহমা জাতের সবচেয়ে বড় গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা।যশোরের সীতারামপুর গ্রামের মহিদুল জামান কাজলের খামারে ঢুকলেই চোখে পড়বে বিশালদেহী, উজ্জ্বল গায়ের রং আর রাজকীয় ভঙ্গির নানা প্রজাতির এসব গরু। সরেজমিনে ওই খামারে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে এসব পশু। খামারের সবচেয়ে বড় বিশালদেহী ব্রাহমা জাতের সাদা রঙের গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে এখানেই শেষ নয়, খামারে থাকা ২৫ মণ ওজনের হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া পাকিস্তানি শাহীওয়াল জাতের গরুর দাম সাড়ে ৮ লাখ এবং আমেরিকান ফ্লাগবি ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে দেশি গরুগুলোর দাম হাঁকা হচ্ছে এক লাখ টাকা থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। খামারি কাজলের কাছে এই গরুগুলো কেবল গবাদিপশু নয়, বরং দীর্ঘ সাধনার ফসল। ২০১৭ সালে মাত্র ৫টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করেন সরকারি চাকরিজীবী কাজল। নিজ বাড়ির খামারের পাশাপাশি বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুরায় তার আরও একটি খামার রয়েছে। আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে দুই খামার মিলে তিনি ৪২টি গরু প্রস্তুত করেছেন। যার মধ্যে ব্রাহমা জাতের ১টি, হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের ৫টি, আমেরিকান ফ্লাগবি জাতের ৩টি, পাকিস্তানি শাহীওয়াল জাতের ৩টি এবং বাকিগুলো দেশি প্রজাতির। আরও পড়ুন: যশোরে চাহিদার দ্বিগুণ ধান উৎপাদন, ন্যায্য মূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক এই পশুগুলোর খাবার তালিকায় কোনো কৃত্রিমতা নেই। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ঘাস, খড়, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া বা পালিশ, ভুট্টা আর সয়াবিন খৈল খাইয়ে এগুলোকে বড় করা হচ্ছে। আভিজাত্য ধরে রাখতে বাড়তি যত্নেরও কমতি নেই। শ্যাম্পু দিয়ে দুই বেলা গোসল, ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের বাতাস আর মশার কামড় থেকে বাঁচাতে সার্বক্ষণিক কয়েলের ব্যবস্থা রয়েছে তাদের জন্য। খামারি মহিদুল জামান কাজল বলেন, ‘এ বছর খামারে ৪২টি গরু আছে। প্রতি বছরই কয়েকটি বড় গরু পালন করে থাকি। এবার ৬টি বড় গরু তৈরি করেছি, পাশাপাশি ছোট-মাঝারি আকারের অনেক গরু আছে।’ পশু পালনের ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সারা বছরই খাবারের দাম বেশি। এ বছর খরচের তুলনায় গরুর দাম কম পাওয়া যাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে খামার টিকিয়ে রাখাই এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বড় গরুগুলো সংগ্রহ ও পালন করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। আমরা যখন গরুর দাম বলি, তখন ক্রেতারা মনে করেন আন্দাজে একটা দাম চাচ্ছি; কিন্তু বাস্তবতা তেমন নয়। একটি ভালো বাছুর কিনতেও অনেক টাকা লাগে, তাকে পুষতেও যত্ন করতে হয়। দেশি বা ছোট গরুর লালন-পালন পদ্ধতি আর এসব বিদেশি গরুর লালন-পালন পদ্ধতি এক নয়।’ আরও পড়ুন: কোরবানির বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা, খরচ বাড়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম নিয়ে শঙ্কা খামারের কর্মী সুজন হোসেন বলেন, ‘এই গরুগুলোকে আমি সন্তানের মতো আদর-যত্ন করে লালন-পালন করি। আমার কাছে এগুলো সন্তানের চেয়েও বড়। আমি যত্ন না নিলে ওরা আমাকে ভালোবাসবে না। আর আমি ভালোবাসলে ওরাও আমাকে ভালোবাসবে। তা না হলে লাথি-গুঁতো খেতে হবে।’ গরুর খাবার ও পরিচর্যার বিষয়ে তিনি জানান, খামারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭ হাজার টাকার শুধু দানাদার খাবার লাগে; অর্থাৎ মাসে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকার খাবার প্রয়োজন হয়। সঠিক যত্ন ও পুষ্টিকর খাবার না দিলে এগুলো বড় হয় না। অতি যত্নে পালন করা বাহারি এসব গরুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন এই খামারে। কেউ আসছেন কিনতে, কেউবা কেবল এক পলক দেখতে। তবে গোখাদ্যের চড়া দামের কারণে গরুর দামও এবার বেশি, যা ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। নড়াইল থেকে আসা আরিফ হাসান নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ব্রাহমা জাতের সবচেয়ে বড় গরুটা আমার পছন্দ হয়েছে। কাজল ভাই সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দাম চেয়েছেন। আমি ১০ লাখ বলেছি। এখনও দরদাম চলছে। আমি আসলে গরুটা নিতে চাই, দেখা যাক কিনতে পারি কি না।’ অন্যদিকে খামারি কাজলের দাবি, বড় ৬টি গরুর বিক্রি নিয়ে অনেকের সাথে কথা চললেও এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। গোখাদ্যসহ সবকিছুর আকাশছোঁয়া দামের কারণে এ বছর লালন-পালন খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। তাই গরুর দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে। আশানুরূপ দাম পেলে বিক্রি করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অনেকেই দাম বলেছেন। দাম ভালো পেলে লাভ হবে, আর না পেলে হয়তো লোকসান হবে বা সমান সমান হবে। ব্যবসায় লাভ-লোকসান থাকেই, এখন তকদিরে কী আছে তা আল্লাহই ভালো জানেন।’
Go to News Site