Somoy TV
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে চার দফা দাবিতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে কর্মবিরতি চলছে।বুধবার রাত ৯ টা থেকে এই কর্মবিরতি করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তবে হাসপাতালের সকল সেবা চালু আছে।এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শজিমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এর আগে বুধবার বিকেলে হাসপাতালে এক নিহান নামে শিশু মারা যায়। মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিশুর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তোলেন। এরপর থেকে কর্মবিরতিতে যায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।দুপুরে মানববন্ধনে নিজেদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে চার দফা দাবি দেন। দাবিগুলো হলো, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা৷ গতকালের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।শজিমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়ামুল হাসান বলেন, এই হাসপাতালে ক্যাপাসিটি ৫০০। কিন্তু বেড বসানো আছে ১২০০। আর আজকেও রোগি আছে ৩০০০। আমরা দিনরাত রোগিদের সেবা দিয়ে যাই। তারপরও কিছু হলেই রোগির স্বজনরা আমাদের ওপর হামলা করে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো হাসপাতালে ডাক্তারদের মারধর, লাঞ্ছিত করে। ডাক্তারদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এ জন্য আমরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি দিয়েছি। আর চার দফা দাবি জানিয়েছি। এই দাবি মানা না হলে আমাদের কর্মবিরতি চলবে।আরও পড়ুন: বগুড়ায় এক পরীক্ষার্থীর পাহারায় ৮ জন!প্রসঙ্গত, গত সোমবার সকালে নিউমোনিয়া আক্রান্ত অবস্থায় বগুড়ার সেউজগাড়ি এলাকারখোকন তার ৫ মাস বয়সী শিশু নিহানকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে ভর্তির আগে থেকেই শিশুটির আরও শারিরীক জটিলতা ছিল। বুধবার দুপুরের পর থেকে নিহানের শারিরীক অবস্থা কিছুটা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে বিকেলে শিশুটি মারা যায়।নিহানের মৃত্যুর পর তার ফুপু উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ওই সময় এক চিকিৎসকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, একই সাথে ধাক্কাও দেন। এতে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এসে নিহানের পরিবারের সদস্যের মারধর করেন। এক পর্যায়ে নিহানের মা, ফুপু, চাচাসহ কয়েকজনকে আটক করেন চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা। পরবর্তীতে রাত ১১ টার দিকে মুচলেকা দিয়ে তারা ছাড়া পান।শজিমেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘শিশুটির একজন এটেন্ডেন্ট চিকিৎসকের গায়ে প্রথমে হাত দিয়েছেন, তার নিকাব সরানোর চেষ্টা করেন। কোনো পক্ষের হামলা সমর্থন করি না। তারপর একটা সেন্টিমেন্টাল ইস্যু তৈরি হয়েছে। আমরা রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলেছি। তারা এখন অনুতপ্ত। তাদের ভুল হয়েছে এটা স্বীকার করেছে তারা। ঘটনা সম্পর্কে আমি যে বিবরণ পেয়েছি, তার আলোকে আমরা এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।’
Go to News Site