Collector
কোরবানির ঈদ ঘিরে মাদারীপুরের খামারগুলোতে ব্যস্ততা, লাভের আশা খামারিদের | Collector
কোরবানির ঈদ ঘিরে মাদারীপুরের খামারগুলোতে ব্যস্ততা, লাভের আশা খামারিদের
Somoy TV

কোরবানির ঈদ ঘিরে মাদারীপুরের খামারগুলোতে ব্যস্ততা, লাভের আশা খামারিদের

মাদারীপুরজুড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৪ হাজার খামার থেকে প্রতি বছরই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ হচ্ছে। আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে খামারগুলোতে। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন খামারিরা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও পশু বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন প্রান্তিক খামারিরা। তাদের প্রত্যাশা, ভারত থেকে গরু আমদানি ও চোরাচালান বন্ধ থাকলে এবার ভালো লাভ হবে।মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের বড়কান্দি এলাকার সীমা বেগম ও মোক্তার চোকদার দম্পতি কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি গরুর খামার। স্বামী-স্ত্রী মিলে নিজেরাই খামারের সবকিছু দেখাশোনা করেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৩৫টি পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন তারা। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পরম যত্নে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে। এবার সবগুলো গরু বিক্রি হবে বলেই আশা তাদের। সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার ৪ হাজার ৭৯টি খামারে দিন-রাত সমানভাবে পশুর পরিচর্যা চলছে। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই দানাদার খাবার খাওয়ানো হচ্ছে পশুকে। পাম্পের পানি দিয়ে গোসল করিয়ে রাখা হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে। জানা গেছে, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৬৬ হাজার ৮৮০টি হলেও প্রস্তুত রয়েছে ৭২ হাজার ৪৯৫টি পশু। পশু কেনাবেচার জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে অর্ধশত হাটকে কেন্দ্র করে ১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলাতেও পশু বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। আরও পড়ুন: কোরবানির ঈদ ঘিরে আলোচনায় মৌলভীবাজারের ‘কালোমানিক’ খামারিদের আশা, অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকলে এবার গবাদিপশু ভালো দামে বিক্রি হবে। এতে গতবারের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। খামারি মোক্তার চোকদার বলেন, ‘সারাবছর কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। তাই খামারে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করছি। ভারত থেকে গরু আমদানি না হলে এবার ভালো লাভের আশা করছি। তাহলে আগামীতে আরও বেশি গরু পালন করতে পারবো।’ আরেক খামারি সোহাগ খান বলেন, ‘খড়, ভুসি ও ঘাস খাইয়ে গরু মোটাতাজা করছি। অনেক স্বপ্ন এবার খামারের সব গরু ভালো দামে বিক্রি করার। গরুগুলো হাটে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শচীন্দ্র নাথ বিশ্বস বলেন, পশুর রোগবালাই প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে খামারিদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় পদ্ধতির বাইরে অন্য কোনো উপায়ে যাতে গরু মোটাতাজা করা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কোরবানির ঈদে পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হাটগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। সাদা পোশাকেও পুলিশ কাজ করবে।’

Go to News Site