Collector
ডিম-সবজির বাজার গরম, চাল-মুরগির খবর কী? | Collector
ডিম-সবজির বাজার গরম, চাল-মুরগির খবর কী?
Somoy TV

ডিম-সবজির বাজার গরম, চাল-মুরগির খবর কী?

রাজধানীর বাজারে আরও চড়েছে সবজির দাম; বেশিরভাগ সবজিই এখন উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। ঊর্ধ্বমুখী ডিমের দামও। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অন্যদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, কমেছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম। পাশাপাশি নতুন চাল বাজারে আসায় চালের দামও কমতির দিকে।বেসরকারি চাকরিজীবী সাব্বির হোসনের শুক্রবারের (১৫ মে) সকালটা শুরু হয়েছিল একবুক আশা নিয়ে। ছুটির দিন হওয়ায় বাজারের তালিকাটাও ছিল বড়। কিন্তু বাজারে ঢুকতেই সেই হিসাবটা যেন মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে গেল তার। চোখে মুখে দেখা গেল ক্লান্তির ছাপ। কারওয়ান বাজারের ভিড় ঠেলে তিনি এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যান, দাম জিজ্ঞেস করেন, আবার চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ব্যাগটা হাতে নিয়েই বললেন, ‘যেটুকু কিনতে এসেছিলাম, তার অর্ধেকও নেয়া সম্ভব হবে না। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে, আমরা কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।’ শুধু সাব্বির নয়, সবজির ঊর্ধ্বমুখী দাম অনেক ক্রেতারই কপালে ভাঁজ ফেলেছে। শুক্রবার  রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টমেটোর কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে; কাঁচা মরিচের কেজিতে ২০ টাকা, পেঁয়াজে ১০ টাকা এবং আদার দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে প্রতিকেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়; টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি ৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আদা ২১০ থেকে ২২০ টাকা এবং বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, বৃষ্টি ও পরিবহন খরচের কারণে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরাতেও দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। আরও পড়ুন: পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়ার ধাক্কা নিত্যপণ্যের বাজারে ডিমের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। লাল ডিমের দাম ডজনে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, ‘বাজারে ডিমের সরবরাহ আগের তুলনায় কম। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা দামে এর প্রভাব পড়েছে।’  ক্রেতারাও বলছেন, বাজারের এই পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় যে বাজার হতো, এখন ১ হাজার ৫০০ টাকায়ও সেটা ঠিকমতো হয় না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিসের দাম বাড়ছে, আমরা আসলে দিশেহারা। আরেক ক্রেতা নাসরিন আক্তার বলেন, সবজি কিনতে এসে এখন হিসাব মিলাতে পারি না। কিছু না কিছু বাদ দিতে হয়। বাচ্চাদের জন্য ডিম কিনব; সেখানেও ছাড় নেই। ডজন দেড়শ’ টাকা ঠেকেছে। আয় একই আছে, কিন্তু খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। তবে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়, ব্রয়লার ১৭০ টাকায় এবং দেশি মুরগি ৭৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে। দিদার নামে এক বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমেছে, তাই আমরা খুচরাতেও কম দামে বিক্রি করছি। এদিকে চালের বাজারে দেখা দিয়েছে স্বস্তির ইঙ্গিত। নতুন চাল বাজারে আসায় ব্রি ২৮ ও পাইজাম চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা করে কমেছে। বর্তমানে ব্রি ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায় এবং পাইজাম ৪৫ টাকায়। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন মৌসুমি চাল বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

Go to News Site