Collector
একসঙ্গে বসবাস, তবু যেন যোজন যোজন দূর! | Collector
একসঙ্গে বসবাস, তবু যেন যোজন যোজন দূর!
Somoy TV

একসঙ্গে বসবাস, তবু যেন যোজন যোজন দূর!

পরিবার! ছোট্ট একটি শব্দে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ অটুট বন্ধনের আবেগ। শব্দটি শুনলেই সবার আগে ভেসে ওঠে প্রিয় কিছু মুখ, যাদের কাছে গেলে মেলে দুদণ্ড শান্তি। পরিবার মানে শেষ আশ্রয়, পরিবার মানে মমতার ছোঁয়া। ক্লান্ত দিন শেষে নির্ভরতার নিরাপদ স্থান।সময় বদলেছে, বদলেছে সম্পর্কের ধরনও। সম্পর্ক এখন জটিল সমীকরণ। যৌথ পরিবার ভেঙে গড়ে উঠছে একক পরিবার। সেখানেও আবার ব্যস্ত জীবনে একই ছাদের নিচে থেকেও কমেছে কথা, কমে যাচ্ছে একে অপরকে মন খুলে শোনার অভ্যাস। যেন মনে হয় একেকজন যোজন যোজন দূরে। এই যেমন গোলাম রব্বানী কি জানতেন নুয়ে পড়া জীবনের শেষ সময়ে এসে ঠাঁই হবে বৃদ্ধাশ্রমে? আপনজন থেকে দূরে গিয়ে এখন তার সময় কাটে চার দেয়ালের ভেতর লেখালেখি আর বই পড়ে। তার কাছে পরিবার মানে কী? রব্বানী বলেন, ‘যখন রাতের বেলা আসে, তখন আমি একাকি হয়ে যাই। আর তখনই বুঝতে পারি আসলেই আমি একা।’ ঝুমুর নামে এক তরুণী বলেন, ‘বাহ্যিক জীবনে মানুষ এত বেশি নির্ভর হয়ে যাচ্ছে যে, তার বাইরেও যে একটা জীবন রয়েছে, পরিবার রয়েছে এমনকি শান্তির একটা জায়গা রয়েছে সেটা ‍ভুলে যায়।’ নাসির নামের এক তরুণ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিবার থেকে দূরে রাখতে বড় প্রভাব ফেলছে। কয়েক বছর পেছনে তাকালে দেখা যায়, পরিবারের সব সদস্যকে নিয়েই আমরা সময় কাটাতাম, খাবার খেতাম। এখন আসলে পুরোটাই ভিন্ন।’     আরও পড়ুন: সকালে মাত্র ৩০ সেকেন্ড উল্টো হাঁটার উপকারিতা এতো! জীবনটাও এখন বড়ই জটিল। প্রযুক্তিনির্ভরতা, পারিপার্শ্বিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে পরিবারের মানুষের মানসিক দূরত্ব। সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবারের বন্ধন টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে জরুরি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, একসঙ্গে বসে কথা বলা, একে অন্যকে মন খুলে শোনা। সমাজ বিশ্লেষক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, এখনকার বেশিরভাগ মানুষ যেটুকু সময় পায় সেটুকু সময়েও প্রযুক্তি নির্ভর ডিভাইস নিয়ে বসে থাকে। পুঁজিবাদ বিশ্ব ব্যবস্থায় মানুষকে অনেক বেশি মেশিন হয়ে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুরো বৈশ্বিক সিস্টেম পরিবর্তন না হলে, আমরা পরিবার কেন্দ্রিক হতে পারব না। ১৫ মে (শুক্রবার) বিশ্ব পরিবার দিবস। পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, পারিবারিক বন্ধন ও পরিবারের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা এবং বাস্তবিক অর্থে পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হয়।এ বছর পরিবার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পরিবার, বৈষম্য ও শিশু কল্যাণ’। ১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে বিশ্ব পরিবার দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। জাতিসংঘ ১৯৯৪ সালকে বিশ্ব পরিবার বর্ষ ঘোষণা করেছিল। এরপর ১৯৯৬ সাল থেকেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

Go to News Site