Somoy TV
বেইজিংয়ে আজ শুক্রবার (১৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেও অপ্রত্যাশিতভাবে একেবারেই ভিন্ন একটি জিনিস আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। আর সেটা হলো চীনা গোলাপ ফুল।চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের এক পছন্দের জায়গা বেইজিংয়ের ঝোংনানহাই কমপ্লেক্স। আজ সকালে এই ঝংনানহাই সফরের সময় দুই নেতাকে এর ঐতিহাসিক বাগানে একসঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, শি জিনপিং নিজেই ট্রাম্পকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এই কমপ্লেক্সের নান্দনিক বাগানপথ, লেকপাড়ের করিডর এবং ফুলে সাজানো বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। এসব কিছুর মধ্যে ট্রাম্পকে যেন সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল এর গোলাপগুলো। বাগানে হাঁটার সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘এগুলো এখন পর্যন্ত আমার দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর গোলাপ।’ তার এই মন্তব্যে চীনা প্রতিনিধিদের মুখেও হাসি ফুটে ওঠে। তবে এ প্রসঙ্গে জিনপিংয়ের প্রতিক্রিয়ায় ছিল প্রতীকী কূটনৈতিক ভঙ্গি। তিনি ট্রাম্পকে ঝোংনানহাই বাগান থেকে গোলাপের বীজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এতে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক: ‘এটা আসলেই আমার খুব পছন্দ হয়েছে।’ আরও পড়ুন: চীন-যুক্তরাষ্ট্রের একে অপরের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়: জিনপিং গোলাপ নিয়ে তাদের এই কথোপকথনটি দ্রুতই বৈঠকের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তে পরিণত হয়, বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনের প্রতি ট্রাম্পের নিজের সাম্প্রতিক মুগ্ধতার কারণে। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গত বছর ট্রাম্প বিতর্কিতভাবে হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক বাগানের কিছু অংশ নতুনভাবে সাজান। তিনি লনের কিছু অংশ সরিয়ে সেখানে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো এস্টেটের আদলে নতুন পরিবেশ তৈরি করেন। পাশাপাশি তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগও করেছিলেন যে, হোয়াইট হাউসের বাগানে ‘খুব বেশি গোলাপ নেই’। সেখানে আরও ফুল গাছ লাগানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। এখন সেই গোলাপ হয়তো চীন থেকেই যেতে পারে। শুল্ক, বাণিজ্য বিরোধ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক যখন উত্তেজনাপূর্ণ, তখন একেবারেই ভিন্ন একটি দৃশ্যপট সামনে আসে। উভয় দেশের কর্মকর্তারা যখন রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছিল ফুল, প্রতীকী বার্তা এবং পরিকল্পিত সৌহার্দ্যের ছবি। আরও পড়ুন: ট্রাম্প-শি’র চূড়ান্ত আলোচনা শুরু, কে কী চান? জিনপিং নিজে ট্রাম্পকে ঝোংনানহাইয়ের বাগান ও প্যাভিলিয়ন ঘুরিয়ে দেখান এবং দোভাষীর মাধ্যমে ওই কমপ্লেক্সের ইতিহাসও ব্যাখ্যা করেন। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ব্যক্তিগত বৈঠকে অংশ নেয়। এরপর ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশ ‘দারুণ কিছু বাণিজ্য চুক্তি’ করেছে। তবে সেসব চুক্তির বিস্তারিত তখনও প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই গোলাপ কূটনীতির ভেতরে একাধিক বার্তা লুকিয়ে থাকতে পারে। গোলাপ যেমন বন্ধুত্ব ও ধৈর্যের প্রতীক, তেমনি এর কাঁটাও রয়েছে। অনেকটা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের জটিল সম্পর্কের মতোই।
Go to News Site