Collector
স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড, স্ত্রী আটক | Collector
স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড, স্ত্রী আটক
Somoy TV

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড, স্ত্রী আটক

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী জিয়া সরদারকে (৪০) হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। মরদেহের অংশবিশেষ ড্রামে ভরে গোপন করা এবং কিছু অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণের চেষ্টার সময় অভিযুক্ত আসমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে জিয়া ও আসমার বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তারা সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরে গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। এরপর দেহাংশগুলো একটি ড্রামে ভরে তিন দিন বাসায় রেখে দেন।পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় আসমা একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। অবশিষ্ট মাংসের অংশগুলো শহরের পালং এলাকার আগের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসমা হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও চারটি হাত-পায়ের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো নিহত জিয়া সরদারের শরীরের অংশ।আরও পড়ুন: স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া, বন্ধ ঘরে মিলল হোটেল কর্মচারীর মরদেহনিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। তাঁকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।আটক আসমা আক্তার দাবি করেছেন, স্বামী জিয়া তাকে প্রায়ই মারধর করতেন। ঘটনার দিনও ঝগড়ার একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে রড দিয়ে আঘাত করলে জিয়া মারা যান। ভয়ে তিনি মরদেহটি টুকরো করেন।পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, 'স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রেখেছিলেন ওই নারী। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর দেখানো স্থান থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

Go to News Site