Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শনিবার (১৬ মে) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। সঞ্চয়ের সব খাত আস্থার সংকটে - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মানুষের ক্ষুদ্র বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের খাতগুলো প্রায় বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি, শেয়ারবাজার, বিমা ও সমবায়-সব খাতই গভীর অনিশ্চয়তায়। এর কোনো খাতেই বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নেই। বেশির ভাগ ব্যাংকে টাকা রাখলে মুনাফা তো দূরের কথা, ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বড় কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া সবকটিই ঝুঁকিতে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটা লাইফ সাপোর্টে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে মূলধন হারানোর ভয়, বিমা কোম্পানিতে অর্থ জমা রাখলে আর ফেরত পাওয়া যায় না। সমবায় নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের সামনে নিরাপদ আশ্রয় সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এই সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয়। এর অধিকাংশ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ অবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। তাদের মতে, আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না। সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি থাকতে দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ উদ্যোগ নিলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো সম্ভব। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়। এই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে ৩৬ হাজার ৫৫ জন ছাড়পত্র পায়। অর্থাৎ গতকাল সারা দেশে ৪ হাজার ১২১ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও হামের রোগী আছে, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।দেশের আবহাওয়ায় চরম ভাব বাড়বে - দৈনিক সমকালের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। ঋতুচক্র স্বাভাবিক থাকছে না। শীতকাল ছোট হয়ে আসছে, কিন্তু শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ হচ্ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। বর্ষার আগেই বৃষ্টি বাড়ছে, আবার কম সময়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে আকস্মিক বন্যা। আবার দেশের কোথাও খরা হচ্ছে, মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই পৃথিবীতে সক্রিয় হতে যাচ্ছে ‘এল নিনো’। এতে দেশের আবহাওয়ায় চরম ভাব দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে সক্রিয় হতে পারে এল নিনো। বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো সক্রিয় হলে বাংলাদেশে বর্ষাকাল বিলম্বিত হতে পারে। বর্ষায় বৃষ্টিপাত কমতে পারে। ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। তাই এটি অর্থনীতি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে ধারাবাহিক লোকসান, ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি তিন অর্থবছর ধরে ধারাবাহিক লোকসানের মুখে রয়েছে। এ সময় কোম্পানিটি লোকসান করেছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে সঞ্চালন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঋণের দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। ক্রমবর্ধমান এ ঋণের চাপ এবং ধারাবাহিক লোকসানের ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ৭৪ হাজার কোটি টাকার ডজন খানেকের বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাওয়ার গ্রিড। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ঋণ পরিশোধে অক্ষমতার কথা জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড। এছাড়া পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ভার এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার চাপ কোম্পানির কার্যক্রমকে আরো সংকটের মুখে ফেলছে বলে সম্প্রতি সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
Go to News Site