Somoy TV
ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস দেশটিতে এলজিবিটিকিউ (সমকামী, উভকামী ও রূপান্তরকামী) ‘কনভার্সন থেরাপি’ নিষিদ্ধের একটি পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (১৪ মে) পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণ বা ‘কিংস স্পিচে’ তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের নতুন পার্লামেন্ট অধিবেশনের আইন প্রণয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আনা এই প্রস্তাবে, একজন ব্যক্তির যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ‘অপব্যবহারমূলক কনভার্সন প্র্যাকটিস’ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। যদিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে রাজা চালর্স এই থেরাপি নিষিদ্ধ করেছেন। তবে বাস্তবে বিষয়টি এখনও আইনে পরিণত হয়নি। ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, এমন সব ‘অপব্যবহারমূলক কনভার্সন প্র্যাকটিস’ নিষিদ্ধ করা হবে, যেগুলোর মাধ্যমে কারও যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। আরও পড়ুন: স্টারমারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং তবে রাজা চার্লস ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তিনি শুধুমাত্র সরকার প্রস্তুত করা আইন প্রস্তাব পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেছেন, যা যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়ার অংশ। আইনটি এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টে আরও আলোচনা ও অনুমোদন প্রয়োজন। ব্রিটিশ সরকার বলছে, প্রস্তাবিত এই আইন ক্ষতিকর ও জোরপূর্বক কনভার্সন থেরাপি বন্ধ করবে। একই সঙ্গে লিঙ্গ পরিচয় বা যৌনতা নিয়ে পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বৈধ আলোচনা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে। এই আইন কেবল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কার্যকর হবে। কারণ স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ফৌজদারি আইন আলাদা কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হয়। যুক্তরাজ্যে কনভার্সন থেরাপি নিষিদ্ধের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীরা দাবি করে আসছেন, এ ধরনের থেরাপি মানসিকভাবে ক্ষতিকর এবং এটি পুরো দেশে নিষিদ্ধ করা উচিত। আরও পড়ুন: সরকারে তোলপাড়, যুক্তরাজ্যে আসলে কী ঘটছে? স্টোনওয়ালসহ বিভিন্ন সংগঠন সরকারের নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে অনেক কর্মী মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকেও একাধিকবার একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ আইন কার্যকর হয়নি। তবে কিছু ধর্মীয় ও রক্ষণশীল সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আইনটি খুব বেশি বিস্তৃত হলে স্বেচ্ছামূলক কাউন্সেলিং, ধর্মীয় পরামর্শ বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া আইনটি এখন পার্লামেন্টে পরবর্তী পর্যালোচনা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
Go to News Site