Collector
নাইজেরিয়ায় স্কুল থেকে বহু শিক্ষার্থীকে অপহরণ | Collector
নাইজেরিয়ায় স্কুল থেকে বহু শিক্ষার্থীকে অপহরণ
Jagonews24

নাইজেরিয়ায় স্কুল থেকে বহু শিক্ষার্থীকে অপহরণ

নাইজেরিয়ার বিদ্রোহপ্রবণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যে বন্দুকধারীরা একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে বহু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ৯টার দিকে আসকিরা-উবা স্থানীয় সরকার এলাকার মুসা প্রাইমারি ও জুনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে ক্লাস চলাকালে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীরা হামলা চালায় এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায়। স্কুলের পাশের বাসিন্দা উবাইদাল্লাহ হাসান বলেন, হামলাকারীরা স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের জোর করে নিয়ে যায়। স্কুলের এক শিক্ষক জানান, বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে করে এসেছিল। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ঝোপঝাড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অনেককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে হামলার ধরন বোকো হারাম গোষ্ঠীর কৌশলের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় আইনপ্রণেতা মিডালা উসমান বালামি এ ঘটনাকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া গত ১৭ বছর ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে। এসব গোষ্ঠী অপহরণকে বড় কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ২০১৪ সালে চিবোকে শত শত স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনাটি সবচেয়ে আলোচিত ছিল। দেশটিতে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে সরকারি উপস্থিতি কম, সেখানে মুক্তিপণের জন্য গণ-অপহরণ এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে নাইজেরিয়ার কোগি রাজ্যের রাজধানী লোকোজার একটি এতিমখানায় হামলা চালিয়ে অন্তত ২৩ শিশুকে অপহরণ করা হয়। বোর্নো ও আশপাশের রাজ্যগুলোতে সামরিক অভিযান চললেও স্কুল ও জনপদে হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা গ্রামীণ এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মুসা এলাকা সাম্বিসা অরণ্যের কাছে অবস্থিত, যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এদিকে শুক্রবার আলাদা আরেক ঘটনায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওইও রাজ্যের একটি স্কুল থেকেও শিক্ষার্থীদের অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং অপহরণকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৯ সালে বোকো হারামের বিদ্রোহ শুরুর পর সহিংসতা কিছুটা কমলেও ২০২৫ সালের পর থেকে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় হামলার ঝুঁকি আবার বাড়ছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমএসএম

Go to News Site