Somoy TV
বাণিজ্য ও বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে বড় ধরনের সমঝোতার প্রত্যাশা নিয়ে চীন সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সফরে সয়াবিন আমদানি ও বোয়িং বিমান কেনা সংক্রান্ত সীমিত কয়েকটি চুক্তি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনকি সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার আগে চীনের পক্ষ থেকে পাওয়া উপহারসামগ্রীও বেইজিংয়েই রেখে গেছেন ট্রাম্পের সফরসঙ্গীরা।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সফরে মার্কিন প্রতিনিধিদলের ব্যবহার করা সাময়িক ‘বার্নার ফোন’ও নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। চীনের দেয়া উপহার ফেলে, ফোন নষ্ট করে তবেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প ও তার সফর সঙ্গীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং ছাড়ার সময় চীনের দেয়া কোনো উপহার সঙ্গে নেয়নি। বরং সফরের সময় পাওয়া সব চীনা সামগ্রী বিমানেই ওঠার আগে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটি অবশ্য নতুন কিছু নয়। চীনে মার্কিন প্রতিনিধিদল যুগের পর যুগ ধরে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। তবে এবার ঘটনাটি সবার চোখের সামনেই ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ মে) ট্রাম্প ও তার সফর সঙ্গীরা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে চীনা কর্মকর্তাদের দেয়া বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র, ব্যাজ, প্রেস আমন্ত্রণপত্র এবং বিভিন্ন স্মারক ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। কারণ হিসেবে তারা বলছে নিরাপত্তা শঙ্কা। আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সফরের পরপরই যে কারণে চীন যাচ্ছেন পুতিন প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিনিধিদল তাদের দুই দিনের সফরে চীনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পেয়েছিল ‘বার্নার ফোন’ (অস্থায়ী ব্যবহারের ফোন), ল্যাপেল ব্যাজ, সংবাদিক বৈঠকের আমন্ত্রণপত্র এবং বিভিন্ন স্মারক। এর সবই তারা ফেলে দিয়েছেন। এমনকি একটা স্যুভেনির পর্যন্ত সঙ্গে রাখেননি। বিমানের সিঁড়ির নিচে রাখা একটি আবর্জনার ঝুড়িতে তারা সেগুলো ফেলে দেন। কিন্তু এর কারণ কী? চীনের গুপ্তচরবৃত্তি বা নজরদারির কোনোরকম সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেয়া। ফলে ট্রাম্পের চীন সফরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি যে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। আরও পড়ুন: ট্রাম্প কি জিনপিংয়ের নোটবুকে উঁকি দিয়েছিলেন? মূলত গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার আগে, ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন একে অপরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে থাকে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো কেবল যাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদল চীনে যাওয়ার আগেই তাদের ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রে রেখে গিয়েছিলেন। মোবাইল, ল্যাপটপ সবই তারা যুক্তরাষ্ট্রে রেখে গিয়েছিলেন। সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতেই তা করা হয়েছিল। মূলত সাইবার নিরাপত্তার দিকগুলো মাথায় রেখেই মার্কিন প্রতিনিধিদের চীন সফরে এই ফোন ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সেই ফোন তারা নষ্ট করেন।
Go to News Site