Somoy TV
সিরাজগঞ্জে গোয়াল থেকে একের পর এক গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা। চুরি ঠেকাতে বাধ্য হয়ে রাত জেগে হাতে বাঁশি, লাইট ও লাঠি নিয়ে গ্রামে পাহারা দিচ্ছেন খামারিরা।গত ১০ মে গভীর রাতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণীমাগাঁতী ইউনিয়নের পূর্বরামকৃষ্ণপুর গ্রামের ময়নুল ইসলামের খামারে হানা দেয় প্রায় ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্র। তাদের সবার মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল এবং হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র। তারা খামার থেকে একে একে ৬টি গরু নিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় জেলায় গরু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে তাড়াশ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা এলাকায় খামারিদের গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে। গভীর রাতে বিশেষ কৌশলে গরুগুলো ট্রাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে চোর চক্র। কষ্ট করে লালন-পালন করা গরু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন খামারিরা। শূন্য গোয়ালের দিকে তাকিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা। খামারিদের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে প্রায় অর্ধশত গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। আরও পড়ুন: মাদারগঞ্জ / একরাতে ৮ গরু চুরি, আতঙ্কে গোয়ালঘরে রাত কাটাতে হচ্ছে মালিকদের সলঙ্গা এলাকার আলতাফ হোসেন বলেন, গরু চুরি ঠেকাতে এখন এলাকাবাসী মিলে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। প্রতিদিন রাত ১০টার পর থেকে গ্রামে গ্রামে বাঁশি, লাইট ও লাঠি নিয়ে টহল চলছে। মোড়ে মোড়ে পালাক্রমে নজরদারিও রাখা হচ্ছে। উল্লাপাড়ার খামারি নাজমুল বলেন, গরু চুরির উৎপাত ঠেকাতে প্রতিদিনই পাহারা দেয়া হচ্ছে। কোরবানির ঈদ পর্যন্ত এই পাহারা চলবে। সব খামারিই পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তা টহলে অংশ নিচ্ছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, গরু চোর চক্র ধরতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, গরু চুরি রোধে জেলা পুলিশের রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং চক্রটিকে ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে কোরবানির জন্য জেলায় প্রায় ৬ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে।
Go to News Site