Collector
বোরো ধানে লোকসানের খড়্গ কৃষকের ঘাড়ে! | Collector
বোরো ধানে লোকসানের খড়্গ কৃষকের ঘাড়ে!
Somoy TV

বোরো ধানে লোকসানের খড়্গ কৃষকের ঘাড়ে!

ধানের গোছায় কাচি দেয়ার আগেই দাম নির্ধারণ করা হলেও সরকারের নির্ধারিত দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নয় রংপুর বিভাগের বোরো চাষিরা।অন্যদিকে বিভাগে প্রায় ৩৬ লাখ টন ধান আবাদ হলেও উৎপাদনের মাত্র দুই শতাংশ ধান কিনবে খাদ্য বিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়সহ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর দাবি কৃষক নেতাদের।সরেজমিনে রংপুরের মাহিগঞ্জ, বোতলা, সাহেবগঞ্জ, গংগাচড়াসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় মাঠে মাঠে চলছে কৃষকের বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের ব্যস্ততা। তবে দাম না থাকায় দিগন্ত বিস্তৃত ধান মনের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে কৃষকদের।গত ২২ এপ্রিল সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের ঘোষণা এলেও স্বস্তি নেই উত্তরের কৃষকদের মনে। সরকারি পর্যায়ে ১৪৪০ টাকা ধানের মণ নির্ধারণ করা হলেও কৃষকদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকায়। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা।  আরও পড়ুন: যশোরে চাহিদার দ্বিগুণ ধান উৎপাদন, ন্যায্য মূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকনগরীর মুসলিম পাড়া এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আলুতে ব্যাপক লোকসানের পর ঋণ নিয়ে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করলাম ভালো দামের আশায়। এখন ধানের যে দাম তাতে আবাদের খরচ তোলা কোনোভাবেই সম্ভব না। ধানের যদি আর দাম না বাড়ে তাহলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।’একই এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের খরচ পড়ছে অনেক বেশি। কিন্তু সে অনুযায়ী ধানের দাম নাই। এখন পরিস্থিতি এমন, ধান বিক্রি করে কাটা মাড়াইয়ের খরচ দিতে শেষ হয়ে যাবে।’সাহেবগঞ্জ এলাকার কৃষক আজহার কবির বলেন, ‘শুনতেছি সরকার ১৪৪০ টাকা মণে ধান কিনবে। কিন্তু কই আমাদের কাছে তো ব্যাপারীরা ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’র বেশি দাম দিতে চাচ্ছে না। সরকারকে যে ধান দিবো সে সুযোগও তো আমাদের নাই। কাজেই এবার আমাদের অনেক টাক ক্ষতি হয়ে যাবে।’গংগাচড়া উপজেলার শংকরদহ এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে শুনি আসতেছি সরকার কৃষকদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। কই আমরা কোনো সুযোগ পাই না। এ বছর আলুতে কয়েক লাখ টাকা লোকসান, এখন ধানের দামও নাই। এই ক্ষতি পোষাবো কেমন করে সেই চিন্তায় ঘুম ধরে না।’মাহিগঞ্জ এলাকার কৃষক আখতারুজ্জামান জানান, এর আগে বেশ কয়েকবার খাদ্য বিভাগে ধান দিতে গেলেও নানা অজুহাতে তার ধান নেয়নি কর্তৃপক্ষ। উল্টো ভ্যান ভাড়াসহ নানা ভোগান্তি তে পরতে হয়েছে তাকে। এখন ক্ষতি হলেও সরকার নির্ধারিত দামের থেকে অর্ধেক দামেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।আরও পড়ুন: একটু ধৈর্য ধরুন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদকৃষক নেতারা বলছেন, প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকের কাছ থেকে উৎপাদন খরচের সাথে ৪০ শতাংশ মূল্য সহায়তা দিয়ে ধান ক্রয়, ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধিসহ মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো না গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকরা।রংপুর কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘কৃষির ওপর ভর করে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে থাকলেও কৃষকরা এখনো অবহেলিত। কষ্ট করে কৃষকরা যে ফসল ফলান তার ন্যয্য মূল্য তারা পায় না । সরকার দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রণোদনা দিলেও কৃষকদের কথা কখনো ভাবে নি। তাই আমরা চাই চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ ধান কেনার ব্যবস্থা করবে সরকার। কারণ কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেলে পরবর্তী ফসল চাষে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর রংপুর জেলার সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কৃষক ফলায় ধান আর সরকার কিনে চাল। এতে চাল কল মালিকরা লাভবান হলেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তিনি বলেন, রোদ,বৃষ্টি ,ঝড় উপেক্ষা করে প্রান্তিক কৃষকরা যে ধান ফলান তার সঠিক দাম নিশ্চিত করাসহ সরকারের সংগ্রহ অভিযান সফল করতে হলে প্রতিটি হাটে ক্রয় কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে। একইসাথে কৃষকদের উৎপাদন খরচের সাথে ৪০ শতাংশ মূল্য সহায়তা দিতে হবে এবং প্রতিটি জেলায় পর্যান্ত পরিমাণ এলসিডি গুদাম ও সাইলে নির্মাণ করতে হবে। যাতে করে কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়।এদিকে কৃষি আন্দোলকারীরা বলছেন, চলতি বরো মৌসুমে রংপুর বিভাগে যে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ধানের দামে। যদিও খাদ্য বিভাগের দাবি, মিলাররা চাল দেয়া শুরু করলে বাড়বে ধানের দাম।আরও পড়ুন: খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: জাহাঙ্গীররংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের বাজার গত বছরের তুলনায় এবার কম। তবে কৃষকরা যেন সঠিক মূল্য পায় সে কারণে আমরা রংপুর বিভাগের ৯২ টি এলএসডি গুদামে মহাসমারোহে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছি। এর বাইরেও খাদ্য বিভাগ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন চালবে কিনবে। সেই চাল দেয়ার জন্য যদি মিলাররা বাজারে যায় আমাদের আশা ধানের দাম বাড়বে।’চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৯ হেক্টর জমিতে বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ ১৩ হাজর ৩২৩ মেট্রিক টন। আর বিভাগে ৭১ হাজার ৪৮৩ মটন ধান ও ২ লাখ ৫৭৭ মে. টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

Go to News Site