Collector
মোকাররমকে ৮ টুকরা করে মরদেহ ফেলে ‘বিরিয়ানি খেয়ে পার্টি’ করেন পরকীয়া প্রেমিকা | Collector
মোকাররমকে ৮ টুকরা করে মরদেহ ফেলে ‘বিরিয়ানি খেয়ে পার্টি’ করেন পরকীয়া প্রেমিকা
Somoy TV

মোকাররমকে ৮ টুকরা করে মরদেহ ফেলে ‘বিরিয়ানি খেয়ে পার্টি’ করেন পরকীয়া প্রেমিকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে নৃশংসভাবে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে র‌্যাব। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, মোকাররমকে হত্যার পর মরদেহ ৮ টুকরা করে রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকার বিভিন্ন স্থানে পলিথিনে ভরে ফেলে রাখা হয়। এরপর পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা (৩১) তার বান্ধবী ও বান্ধবীর মেয়েকে নিয়ে একটি হোটেলে গিয়ে বিরিয়ানি খান এবং রাতে বাসায় ফিরে ছাদে পার্টি করেন।রাজধানীর মুগদায় আবদুল গনি রোডের দুই বাড়ির ফাঁকা জায়গায় মরাপচা গন্ধ পান এলাকাবাসী। রোববার (১৭ মে) বিকেলে খবর দেয়া হয় পুলিশকে। উদ্ধার হয় পলিথিনে মোড়ানো এক ব্যক্তির মরদেহের ৭ টুকরা। পাশের ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয় মাথাও। পরে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। নিহত ব্যক্তির নাম মোকাররম মিয়া। সৌদি প্রবাসী মোকাররমের বাড়ি বাহ্মণবাড়িয়ায়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্তে নামে র‌্যাব। গ্রেফতার করা হয় হেলেনা বেগম (৪০) নামে এক নারী ও তার ১৩ বছর বয়সি মেয়েকে। জিজ্ঞাসাবাদে সামনে আসে হত্যার রহস্য। সোমবার (১৮ মে) সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, সৌদি প্রবাসী বন্ধু সুমনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মোকাররম। সেই সুবাদে প্রেমিকা তাসলিমাকে ৫ লাখ টাকা দেন তিনি। আরও পড়ুন: খুলনায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত সংস্থাটি জানায়, গত বুধবার (১৩ মে) হঠাৎ করে সৌদি থেকে দেশে ফেরে মোকাররম। নিজের বাড়ি না গিয়ে প্রেমিকা তাসলিমার কাছে যান। তাসলিমা তাকে নিয়ে ওঠেন বান্ধবী হেলেনার বাসায়। তখন বিয়ের প্রস্তাব দেন মোকাররম। কিন্তু তাসলিমা রাজি না হওয়ায় পাওনা ৫ লাখ টাকা ফেরত চান মোকাররম। হুমকি দেন অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল করে দেয়ার। এই ক্ষোভ থেকে বান্ধবীকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন তাসলিমা। র‌্যাব জানায়, পরিকল্পনা মতো বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোকাররমকে অচেতন করার পর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন হেলেনা। তখন মোকাররম জেগে উঠলে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন তাসলিমা। এক পর্যায়ে বটি দিয়ে কোপ দেন হেলেনা। এরপর মোকাররমের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে হেলেনার মেয়ে। পরে হত্যা ধামাচাপা দিতে টুকরা টুকরা করে মরদেহ বিভিন্ন জায়গা ফেলে দেয়া হয়। আরও পড়ুন: তনু হত্যা: চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো পিবিআই র‌্যাব আরও জানায়, হত্যার পর একেবারেই স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেন তারা। ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত হেলেনা বেগম, মেয়ে ও পলাতক তাসলিমা একটি হোটেলে গিয়ে বিরিয়ানি খান এবং রাতে বাসায় ফিরে ছাদে পার্টি করেন। ৩ দিন পর মরদেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধারের পর আত্মগোপনে চলে যান তাসলিমা। সে এখনও পলাতক। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Go to News Site