Collector
‘সঞ্চয়পত্রে অশনিসংকেত’, ‘তিন ধাপে পে স্কেল কার্যকর নিয়ে বিভক্তি’ | Collector
‘সঞ্চয়পত্রে অশনিসংকেত’, ‘তিন ধাপে পে স্কেল কার্যকর নিয়ে বিভক্তি’
Somoy TV

‘সঞ্চয়পত্রে অশনিসংকেত’, ‘তিন ধাপে পে স্কেল কার্যকর নিয়ে বিভক্তি’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। সঞ্চয়পত্রে অশনিসংকেত - দৈনিক কালের কণ্ঠের শেষের পাতায় প্রকাশিত খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ ও জনপ্রিয় বিনিয়োগের মাধ্যম ছিল সঞ্চয়পত্র। কিন্তু বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আয় সংকোচনের কারণে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।  এখন অনেকেই নতুন করে বিনিয়োগ না করে পুরনো সঞ্চয় ভেঙেই দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছেন। ফলে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক হয়েছে প্রায় দুই হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতেও ঋণাত্মক ছিল এক হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। অভিভাবকহীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন - দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতিদিনই ঘটছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। নারী-শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্নভাবে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বঞ্চিত এসব মানুষের একমাত্র প্রতিকারের জায়গা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গত দেড় বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষই প্রতিকার পাচ্ছেন না মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ থেকে। এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পাশাপাশি সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে বেশ সমালোচনাও আছে।   ২০২৪ সালে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে অভিভাবকহীন ও অকার্যকর থাকার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিশন পুনর্গঠন করা হলেও দুই মাসের মাথায় গত ১৩ এপ্রিল বিদায় নিতে হয় এই কমিশনকেও। যার ফলে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি আবারও কার্যত অভিভাবকহীন ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ সময়ে শত শত অভিযোগ জমা পড়লেও অনুসন্ধান-তদন্ত বন্ধ থাকায় কোনো আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এ অবস্থায় সব অভিযোগ ফাইলবন্দি হয়ে আছে। শুধু প্রশাসনিক কিছু রুটিন কাজ ছাড়া কোনো অভিযোগেরই সুরাহা করা সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে দেড় বছর ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই কমিশনের কার্যক্রম।প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হাম ছড়াচ্ছে - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন ৪৩ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন। কয়েক দিনের মধ্যে নিজেই হয়ে যান রোগী। প্রথমে জ্বর, পরে সারশরীরে লালচে দানা। এরপর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকেও ভর্তি করা হয় রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে।  চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সংক্রমণ তাঁর ফুসফুসে প্রভাব ফেলেছে, এমনকি হৃদযন্ত্রেও জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কীভাবে তৈরি হলো টিকার ঘাটতি - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশে ইপিআই-এর মাধ্যমে ৯টি টিকার সাহায্যে ১২টি রোগ প্রতিরোধ করা হয়। শিশুদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে সাতটি টিকা। এসব টিকা শিশুরা সময়মতো না পেলে রোগগুলোর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে। যেমনটা হয়েছে এবার হামের টিকার অভাবে। সঠিক সময়ে দেশে হামের টিকা না পাওয়ায় সাড়ে চার শতাধিক শিশু মারা গেছে ইতিমধ্যে।  আক্রান্ত হয়েছে অর্ধলাখ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য খাতের নাজুক পরিস্থিতি আবারো সামনে এসেছে। দেশব্যাপী শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম এবং গণটিকা ক্যাম্প সঠিক সময় না হওয়ায় হামে এ পরিস্থিতি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে টিকার ঘাটতি তৈরি হয়। করোনার প্রকোপের সময়ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মমন্বয়হীনতা ও ক্রয়-প্রক্রিয়ায় জটিলতায় টিকার বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। যা থেকে আজকের পরিস্থিতি। পুলিশের ‘সিস্টেমেই’ দুর্নীতি - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, তুরাগ নদ থেকে গত ১৭ মে একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এটি নদী থেকে তুলতে প্রথমে ৩ হাজার টাকায় একজন ডোম ভাড়া করেন দায়িত্বে থাকা একজন এসআই। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৪ হাজার টাকা। মর্গের ডোমকে দিতে হয়েছে আরও ১ হাজার টাকা। পরে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় লাশটি দাফন করতে দেয়া হয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে। লাশ ব্যবস্থাপনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার মোট ৮ হাজার টাকা খরচ হলেও এই কাজের জন্য পুলিশে এক টাকাও বরাদ্দ নেই।  এভাবে লাশ উদ্ধার থেকে শুরু করে চাঞ্চল্যকর হত্যা বা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত-সবখানেই পদে পদে পকেটের টাকা খরচ করতে হয় পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের। সরকারিভাবে মামলার তদন্ত ব্যয় বাবদ যে বরাদ্দ দেয়া হয়, বাস্তব খরচের সঙ্গে তার আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যেমন-একটি হত্যা মামলার তদন্তে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও বরাদ্দ মেলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা পান না ‘সোর্স মানি’ ও পর্যাপ্ত গাড়ি সুবিধা। দৈনন্দিন কাজের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে, ঊর্ধ্বতনদের খুশি করতে এবং ভালো পদায়ন পেতে বাধ্য হয়েই ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় হাঁটতে হয় অনেককে। অবাস্তব এই সিস্টেম আর আর্থিক সংকটের বেড়াজালেই মূলত লুকিয়ে আছে পুলিশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া ঘুস আর দুর্নীতির বীজ।তিন ধাপে পে স্কেল কার্যকর নিয়ে বিভক্তি - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে কমিশনের প্রস্তাব মতো পে স্কেল বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কর্মচারীদের জন্য পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয় নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এক গ্রুপ সরকারের এই সিদ্ধান্তে সায় দিলেও আরেকটি গ্রুপ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, পে স্কেল পুরোটাই এক ধাপে বাস্তবায়নের গেজেট প্রকাশ করতে হবে।

Go to News Site