Collector
ইতিহাস গড়ে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে যে ৪ দেশ | Collector
ইতিহাস গড়ে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে যে ৪ দেশ
Somoy TV

ইতিহাস গড়ে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে যে ৪ দেশ

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ— শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাতে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞের। এবারই প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। এই আসরেই অভিষেক হতে যাচ্ছে একাধিক দলের, যারা এবারই প্রথমবার লড়বে বিশ্বমঞ্চে।ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্নটা সবাই দেখে। কিন্তু নানা চরাই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্ব আসরে জায়গা পাওয়াটা নেহাতি সোজা কথা নয়। অনেক কাঠখড় পুরিয়েই আসতে হয় বিশ্বমঞ্চে।  বিশ্বকাপ মানেই শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি নতুন গল্প তৈরিরও আসর। প্রতিটি আসরেই কোনো না কোনো দল প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে। দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠিন বাছাইপর্ব আর অসংখ্য বাধা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে তারা।  ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। ফলে বিশ্বকাপে অভিষেকের সুযোগও বেড়েছে কয়েকটি দেশের সামনে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়েছে।  এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে উজবেকিস্তান। বহু বছর ধরেই এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর একটি হলেও কখনও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি তারা। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে।   উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক অর্জন: এশিয়া অঞ্চল থেকে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে ২০০৬ জার্মানি ও ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খুব কাছাকাছি গিয়েও মূল আসরের টিকিট হাতছাড়া হয়েছিল উজবেকদের। তবে এবার আর হতাশ হতে হয়নি— অবশেষে স্বপ্নের বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে মধ্য এশিয়ার দেশটি।  আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের জন্য পর্তুগালের শক্তিশালী দল ঘোষণা বর্তমান দলে রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ডিফেন্ডার আবদুখোদির খুসানভ। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা এই তারকা প্রথম উজবেক ফুটবলার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নেমে দেশের ফুটবলে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন।  ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী একটি আসর। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। একই সঙ্গে ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এটি হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর।  জর্ডানের স্বপ্নপূরণ: দীর্ঘ অপেক্ষা আর বহু বছরের চেষ্টার পর অবশেষে ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জর্ডান। প্রায় চার দশক আগে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পেল।  ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে এএফসি গ্রুপ ‘বি’ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার পেছনে রানার্সআপ হিসেবে টিকিট নিশ্চিত করে জর্ডান।  জর্ডানের ফুটবল যাত্রায় পরিচিত কিছু আন্তর্জাতিক কোচও যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দলটির দায়িত্বে ছিলেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ কোচ হ্যারি রেডনাপ। টটেনহ্যাম, পোর্টসমাউথ ও কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের সাবেক এই কোচের অধীনে জর্ডান দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশকে ৮-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারালেও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তারা।  কুরাসাও-এর রূপকথা: জ্যামাইকার বিপক্ষে ড্র করে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইতিহাসের অন্যতম ক্ষুদ্র দেশ এই কুরাসাও। মাত্র প্রায় দেড় লাখ মানুষের বাস এই দ্বীপে। আয়তনও খুব ছোট— মাত্র ১৭১ বর্গমাইল। তবুও সীমিত সম্পদ আর ছোট পরিসরের দেশ হয়েও বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করেছে তারা।  আরও পড়ুন: আলাবার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়া দলটির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। ব্যক্তিগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তার অধীনেই বদলে যায় কুরাসাও-এর ফুটবলের চিত্র। ৭৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবচেয়ে প্রবীণ কোচ হিসেবেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন তিনি।  ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে মাত্র ৩৭ মাইল দূরে অবস্থিত কুরাসাও ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস ভেঙে যাওয়ার পর নেদারল্যান্ডসের অন্তর্ভুক্ত স্বশাসিত দেশ হিসেবে নতুন পরিচয় পায়। এরপর ধীরে ধীরে ফুটবল অঙ্গনেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে তারা। এক সময় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৫০-এর নিচের সারিতে থাকা কুরাসাও এখন উঠে এসেছে ৮০-এর ঘরে।  কেপ ভার্দে: আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দে এবার প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের মূল আসরে। মাত্র প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার দেশটি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে উঠে এসে তৈরি করেছে নতুন ইতিহাস।  বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসওয়াতিনিকে হারায় কেপ ভার্দে। সেই সাফল্যের মাধ্যমে তারা ২০১৮ সালে আইসল্যান্ডের গড়া রেকর্ডের পর বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার কীর্তি গড়ে। যদিও অল্প সময়ের মধ্যেই সেই রেকর্ড ছিনিয়ে নেয় ক্যারিবীয় দেশ কুরাসাও।  কেপ ভার্দের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। ১৯৯০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে নিজেদের ফুটবল কাঠামো শক্ত করেছে দেশটি। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের খুঁজে এনে জাতীয় দলে যুক্ত করার কৌশল তাদের উন্নতির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  বর্তমান স্কোয়াডেও রয়েছে নানা দেশের সংযোগ। দলে আছেন নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া ছয়জন ফুটবলার। এছাড়া আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেসও খেলছেন কেপ ভার্দের হয়ে। শ্যামরক রোভার্সের এই অভিজ্ঞ ফুটবলার বাবার সূত্রে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।  লোপেসকে দলে আনার পেছনে ব্যবহার করা হয়েছিল পেশাদার যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন। সাধারণত চাকরি ও পেশাগত যোগাযোগের জন্য পরিচিত এই প্ল্যাটফর্ম দিয়েই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কেপ ভার্দে ফুটবল কর্তৃপক্ষ। পরে সেই যোগাযোগই তাকে নিয়ে আসে বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রায়।

Go to News Site